যুদ্ধ বন্ধের আহ্বান ইরানের রাষ্ট্রদূতের

অনলাইন ডেস্ক

ভারতে নিযুক্ত ইরানের সর্বোচ্চ নেতার প্রতিনিধি আব্দুল মজিদ হাকিম ইলাহি মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধে বন্ধের আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, যুদ্ধ অব্যাহত থাকায় পুরো বিশ্ব সবাই দুর্ভোগ পোহাচ্ছে।

শনিবার (২ মে) একটি সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখার সময় ইলাহি সকল দেশকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে যুদ্ধ বন্ধ করতে বলার আহ্বান জানিয়েছেন। সংঘাত বন্ধ হলে সবকিছু স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসবে বলেও দাবি করেন এই কূটনৈতিক।

হাকিম ইলাহি বলেন, আমাদের ন্যায্যতা ও ন্যায়বিচার প্রয়োজন। ইরানকে ‘কেন’ জিজ্ঞাসা করার পরিবর্তে, যারা এই যুদ্ধ শুরু করেছে তাদের এটি বন্ধ করতে বলা উচিত। কারণ আমরা সবাই দুর্ভোগ পোহাচ্ছি। যদি তারা যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে থামতে বলে, তাহলে সবকিছু স্বাভাবিক হয়ে যাবে। এটা কি গ্রহণযোগ্য বা যুক্তিসঙ্গত যে সমস্ত দেশকে বলা হচ্ছে তারা যেন একটি নির্দিষ্ট দেশের সঙ্গে লেনদেন না করে? যে তারা যেন সেখান থেকে কিছু ক্রয় না করে, ব্যবসা না করে বা কিছু না কেনে? আমরা কেন এভাবে বেঁচে আছি? ন্যায়পরায়ণ ও ন্যায্য হওয়াই শ্রেয়। আমাদের সবকিছু তার প্রেক্ষাপটে বিশ্লেষণ করা উচিত এবং যুদ্ধের উদ্যোক্তাদের থামতে বলা উচিত। কারণ আমরা সবাই দুর্ভোগের মধ্যে আছি।

ইলাহি বলেন, ইরান যুদ্ধ এড়ানোর চেষ্টা করেছিল, কিন্তু শেষ পর্যন্ত এতে জড়িয়ে পড়তে বাধ্য হয়েছিল। তিনি উল্লেখ করেন, আপনারা জানেন, ইরান এই যুদ্ধ চায়নি, তেহরানকে বাধ্য করা হয়েছে। বেশ কয়েকবার ইরান এই সংঘাত এড়ানোর চেষ্টা করেছিল এবং অপর পক্ষকে অনেক প্রস্তাবও দিয়েছিল। আমি জানি না ওই দেশগুলোর মানুষের অবস্থা কী, যারা অন্যদের ওপর নিজেদের ইচ্ছা চাপিয়ে দিতে চায়। ইরান ওমানে আলোচনা শুরু করেছিল এবং সব প্রতিনিধিদলই ঘোষণা করেছিল। অনেক বিষয় সেই আলোচনায় সফল হয়েছে। এরপর আলোচনা জেনেভায় স্থানান্তরিত হয়। আলোচনা অব্যাহত থাকার কথা ছিল, কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত, তারা হঠাৎ ইরানের ওপর হামলা চালিয়েছে।

এই কূটনৈতিক অভিযোগ করে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল বছরের পর বছর ধরে ইরানের ওপর হামলার পরিকল্পনা করেছিল। তারা তিন দিনের মধ্যে সবকিছু শেষ করে দিতে চেয়েছিল। তারা চেয়েছিল তিন দিনের মধ্যে ইরানের সরকারকে পতন ঘটাতে পারবে। তারা এমনকি অনেক দেশকে ইরানকে সমর্থন না করার জন্য হুঁশিয়ারি দিয়েছে।

এ সময় আব্দুল মজিদ হাকিম ইলাহি দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের প্রথম হামলায় ৫০০টি বিমান এবং অনেক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করেছিল। এছাড়াও হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা, প্রতিরক্ষা মন্ত্রী, বেশ কয়েকজন কমান্ডার এবং জেনারেলদের হত্যা করেছে বলে অভিযোগ করেন।

ইলাহি আরও জানান, চলমান সংঘাতে এখন পর্যন্ত ৪,০০০-এর বেশি বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন এবং ১ লাখের বেশি ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত, ৫০টিরও বেশি হাসপাতাল এবং ২৫টি বিশ্ববিদ্যালয় ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। এছাড়াও হামলায় ৪০,০০০-এর বেশি বেসামরিক নাগরিক আহত হয়েছেন। এ সময় চলমান সংঘাতে সেতু, গণস্থান, গবেষণাগার এবং প্রতিষ্ঠান ধ্বংস ছাড়াও ৭,০০০ বছরেরও বেশি পুরোনো ইরানি সভ্যতাকে ধ্বংসের পায়তারা করছে বলেও জানান এই কূটনৈতিক।

সূত্র: গাল্ফ নিউজ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights