যে অপ্রিয় সত্য বলে গেছেন নায়ক মান্না

শোবিজ প্রতিবেদক
সিনেমা ইন্ডাস্ট্রি নিয়ে একটি অপ্রিয় সত্য কথা বলে গেছেন মান্না। যেটা এখনো শোবিজের মানুষকে গভীরভাবে ছুঁয়ে যায়। কথাটি ছিল এরকম- ‘পৃথিবীর কোনো স্বার্থপর জগৎ যদি থাকে, তা হচ্ছে চলচ্চিত্র জগৎ; এর মতো স্বার্থপর কোনো জগৎ আর নেই। এখানে আমরা সবাই বাণিজ্যিক। হৃদয়, প্রেম, ভালোবাসা, বন্ধুত্ব, চাওয়া-পাওয়া সব মেকি। সিনেমা পরিবারের কেউ যদি বুকে হাত দিয়ে বলে, আমরা সবাই এক পরিবার; এটি চরম মিথ্যা। সবাই আলাদা।’ সিনেমা বাণিজ্যে যেটাকে বলে ‘ম্যাস পিপল’; সেই গণমানুষের নায়ক ছিলেন মান্না। তাঁর অভিনীত সিনেমায় উঠে এসেছে সমাজ ও দেশের নানা অসংগতি আর বঞ্চিতদের গল্প। তিনি হয়ে উঠেছিলেন সাধারণ মানুষের স্বপ্নের নায়ক। ঢাকার বাণিজ্যিক সিনেমায় ঈর্ষণীয় সাফল্য পেয়েছিলেন তিনি। মানুষের কাছে তিনি কতটা প্রিয় ছিলেন, সেটার বিরল নজির দেখা গিয়েছিল ২০০৮ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি। সেদিন তিনি মারা যান। আর তাঁর মৃত্যুর খবর শুনে বিএফডিসির আঙিনা থেকে শুরু করে সামনের রাস্তা; গোটা এলাকা যেন জনসমুদ্রে রূপ নিয়েছিল। সবার চোখের কোণে ছিল অশ্রু, বুকে হাহাকার। মান্না স্রেফ একজন নায়ক ছিলেন না, বলা হয় ইন্ডাস্ট্রির অন্যতম বিচক্ষণ মানুষ ছিলেন তিনি। সিনেমা জগৎটাকে তিনি যেভাবে উপলব্ধি করেছেন, তা অকপটে বলেও গেছেন। তাঁর সেসব কথা এত বছর পেরিয়ে এখনো সবার কানে বাজে, ঘুরে বেড়ায় অন্তর্জালে। মান্নার বলে যাওয়া কথাটি কতটা সত্য, তা গত কয়েক বছরের চলচ্চিত্র জগতের মানুষের স্বার্থ নিয়ে দ্বন্দ্বের অবস্থা পর্যালোচনা করলেই বোঝা যায়। কেবল একটি সংগঠনের চেয়ার দখল নিয়ে যে কাদা ছোড়াছুড়ির সাক্ষী হয়েছে ঢালিউড, তাতে গোটা দেশের কাছেই ইন্ডাস্ট্রির ভিতরকার চিত্র স্পষ্ট হয়ে গেছে। ১৯৮৪ সালে বিএফডিসি আয়োজিত ‘নতুন মুখের সন্ধানে’ প্রতিযোগিতার মাধ্যমে সিনেমায় আসেন মান্না। তাঁর প্রথম মুক্তিপ্রাপ্ত ছবি কাজী হায়াৎ পরিচালিত ‘পাগলী’। এরপর দুই যুগের ক্যারিয়ারে তিন শতাধিক সিনেমায় অভিনয় করেছিলেন তিনি। যার মধ্যে সফল সিনেমার সংখ্যাই বেশি। মান্না অভিনীত উল্লেখযোগ্য কয়েকটি সিনেমা হলো- ‘দাঙ্গা’, ‘কাসেম মালার প্রেম’, ‘আম্মাজান’, ‘শান্ত কেন মাস্তান’, ‘কষ্ট’, ‘বীর সৈনিক’, ‘অবুঝ শিশু’, ‘কাবুলিওয়ালা’, ‘বাদশা ভাই’, ‘শিমুল পারুল’, ‘লুটতরাজ’, ‘তেজী’, ‘কে আমার বাবা’, ‘লাল বাদশা’ ইত্যাদি। জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পেয়েছেন তিনি। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত যে শীর্ষস্থান তিনি ধরে রেখেছিলেন, সেখানে পৌঁছতে তাঁকে অপেক্ষা করতে হয়েছে এক যুগেরও বেশি সময়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights