যে চার শর্তে ইরানের সাথে সমঝোতা করবে যুক্তরাষ্ট্র

অনলাইন ডেস্ক
ইরানের সাথে একটি সম্ভাব্য কূটনৈতিক চুক্তির রূপরেখা ও শর্তাবলী প্রকাশ্যে এনেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ। ফ্লোরিডার হলিউডে ইসরায়েলি-আমেরিকান কাউন্সিল আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে অস্ট্রেলিয়ার সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি এই গুরুত্বপূর্ণ তথ্য জানান।

উইটকফ বলেন, সাম্প্রতিক দিনগুলোতে যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি ইরানি কর্মকর্তাদের সাথে যোগাযোগ করেছে এবং তাদের কঠোর বার্তা প্রদান করা হয়েছে। তার দাবি, এই যোগাযোগের ফলে ইরানে বিক্ষোভকারীদের গণফাঁসি কার্যকর করার যে পরিকল্পনা ছিল, তা বর্তমানে স্থগিত করা হয়েছে।

ইরানের সাথে যেকোনো নতুন চুক্তির ক্ষেত্রে চারটি মৌলিক শর্তের কথা উল্লেখ করেছেন উইটকফ। তিনি জানান, ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ বন্ধ করা, ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচির লাগাম টানা, বর্তমানে থাকা পারমাণবিক উপাদানের মজুদ নিয়ন্ত্রণ এবং মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের মদতপুষ্ট প্রক্সি নেটওয়ার্ক বা সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর তৎপরতা বন্ধ করা। বিশেষ করে ইরানের কাছে থাকা প্রায় ২ হাজার কেজি সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি। উইটকফ সতর্ক করে দিয়ে বলেন, ওয়াশিংটন একটি কূটনৈতিক সমাধান আশা করলেও পরিস্থিতি অনুকূলে না থাকলে বিকল্প পথটি হবে অত্যন্ত কঠোর।

সাক্ষাৎকারে ইরানের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতির চিত্র তুলে ধরে উইটকফ বলেন, বর্তমানে দেশটি চরম অর্থনৈতিক সংকটে রয়েছে। সেখানে পানি ও বিদ্যুতের তীব্র ঘাটতির পাশাপাশি আকাশচুম্বী মুদ্রাস্ফীতি বিরাজ করছে। এই অবস্থায় যারা বর্তমান শাসনের বিরোধিতা করছেন, যুক্তরাষ্ট্র সেই সাহসী ইরানি জনগণের পাশে আছে বলে তিনি আশ্বস্ত করেন। ইরানের চলমান অস্থিরতা ও আঞ্চলিক উত্তেজনার মধ্যে ট্রাম্প প্রশাসন তেহরানের ওপর একই সাথে চাপ ও কূটনীতির মিশ্র কৌশল প্রয়োগ করছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights