যোগ্য সাংবাদিকরা তালিকাভুক্ত হবেন : প্রেস কাউন্সিল চেয়ারম্যান

নিজস্ব প্রতিবেদক, রংপুর
বাংলাদেশ প্রেস কাউন্সিলের চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. নিজামুল হক নাসিম বলেছেন, যোগ্য সাংবাদিকরা প্রেস কাউন্সিলের তালিকাভুক্ত হবেন। ছাকনি দিয়ে ছেকে নেওয়ার মতো করে সাংবাদিকদের তালিকাভুক্তি করা হবে। এতে অনিবন্ধিতদের অর্ন্তভুক্ত হওয়ার সুযোগ নেই।

বুধবার সকালে রংপুর সার্কিট হাউজ মিলনায়তনে বাংলাদেশ প্রেস কাউন্সিল আয়োজিত জেলার প্রিন্ট ও ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকদের অংশগ্রহণে ‘গণমাধ্যমে হলুদ সাংবাদিকতা প্রতিরোধ ও বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতা’ বিষয়ে প্রশিক্ষণ কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।

প্রেস কাউন্সিল চেয়ারম্যান বলেন, দেশে সাংবাদিক কারা হবেন, তাদের যোগ্যতা কি হবে এ নিয়ে কোন আইন নেই। সাংবাদিকদের তালিকাভুক্তির ক্ষেত্রে গ্রাজুয়েট কিংবা গ্রাজুয়েট না হলেও কমপক্ষে ৫ বছরের অভিজ্ঞতা সম্পন্ন ব্যক্তিরা সুযোগ পাচ্ছে। আমরা স্থানীয় পর্যায়ে জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে এবং ঢাকায় বিভিন্ন মিডিয়া হাউজের মাধ্যমে সাংবাদিকদের তালিকা সংগ্রহ করছি। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা চান সাংবাদিকদের নিবন্ধন হোক। এটি হলে প্রেস কাউন্সিল সাংবাদিকদের সুবিধা-অসুবিধাসহ নানা বিষয় দেখভাল করতে পারবে। সেই সাথে সাংবাদিকরা জবাবদিহিতার আওতায় আসবে।
তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, চিকিৎসক, আইনজীবী, ইঞ্জিনিয়ার, আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীসহ বিভিন্ন পেশায় কর্মরতদের নিবন্ধন রয়েছে। অথচ সাংবাদিকতার মতো মহান পেশায় নিয়োজিতদের কোনো নিবন্ধন নেই। এর ফলে যাদের উপযুক্ততা নেই তারাও এ পেশায় আসছে। ফলে হলুদ সাংবাদিকতা বেড়ে যাচ্ছে এবং সাংবাদিকতা পেশার সুনাম ক্ষুন্ন হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, যার কোনো নিয়ম-নীতিমালা নেই, প্রচার কিংবা প্রকাশে গেটকিপার নেই এটি সাংবাদিকতা হতে পারে। প্রচারমুখী সাধারণ মানুষের সাথে একদল মানুষ ফেসবুক সাংবাদিকতার নামে অপসাংবাদিকতা করছে। তাই ফেসবুক সাংবাদিকদের উৎসাহ দেওয়ার সুযোগ নেই। তাদের অপসাংবাদিকতা রুখতে জেলা প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্টদের পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।

প্রেস কাউন্সিলের চেয়ারম্যান বলেন, অপসাংবাদিকতা রুখতে প্রেস কাউন্সিল সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে ২০১৫ সালে নতুন আইনের প্রস্তাবনা সংশ্লিষ্ট বিভাগে পাঠিয়েছে। এতে কোনো সাংবাদিক মিথ্যাচার করে সংবাদ পরিবেশ করলে তাদের এক টাকা থেকে সর্বোচ্চ ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত অর্থদণ্ড দেওয়া যাবে। এ আইন পাস হলে প্রেস কাউন্সিলের প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থা ও সন্তুষ্টি আসবে।

অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (মানবসম্পদ ও উন্নয়ন) হাবিবুর হাসান রুমির সভাপতিত্বে প্রশিক্ষণে রিসোর্স পার্সন হিসেবে প্রশিক্ষণ প্রদান করেন প্রেস কাউন্সিলের সচিব শ্যামল চন্দ্র কর্মকার। এতে বক্তব্য রাখেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার তরিকুল ইসলাম, জেলা তথ্য অফিসের সহকারী পরিচালক আলমগীর কবির। প্রশিক্ষণ শেষে প্রশিক্ষণার্থীদের হাতে সনদপত্র তুলে দেন প্রেস কাউন্সিলের চেয়ারম্যান।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights