রংপুরে জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস পালিত
নিজস্ব প্রতিবেদক, রংপুর
রংপুরে বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্য দিয়ে জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস পালিত হয়েছে। বুধবার সকালে নগরীর জুলাই শহীদ স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণের মাধ্যমে কর্মসূচি শুরু হয়।
স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন রংপুর বিভাগীয় কমিশনার, রংপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য, সিটি করপোরেশন, রংপুর রেঞ্জ ডিআইজি, মেট্রোপলিটন পুলিশ, জেলা প্রশাসন, জেলা পুলিশ, শহীদ পরিবারের সদস্য, বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি দপ্তর ও বিভিন্ন সংগঠনের প্রতিনিধিরা।
এরপর শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে জুলাই শহীদ পরিবার ও জুলাইযোদ্ধাদের সংবর্ধনা এবং আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। বিভাগীয় কমিশনার শহিদুল ইসলামের সভাপতিত্বে সভায় বক্তব্য দেন রংপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য মাহবুবুর রহমান বেলাল, রংপুর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান সামসুজ্জামান সামু, রংপুর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক অ্যাডভোকেট মাহফুজ উন নবী চৌধুরী, রংপুর রেঞ্জের ডিআইজি আমিনুল ইসলাম, রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ আব্দুল মাবুদ, জেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সদস্যসচিব পরিতোষ চক্রবর্তী, মহানগর ছাত্রশক্তির আহ্বায়ক ইমতিয়াজ আহমেদ ইমতি, শহীদ মোসলেম উদ্দিনের স্ত্রী দিলরুবা বেগম প্রমুখ।
সভায় বক্তারা বলেন, ’২৪-এর ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ স্বৈরাচারমুক্ত হয়েছে। এই আন্দোলনে হাজার হাজার শিক্ষার্থী, শিশু ও সাধারণ মানুষ প্রাণ দিয়েছেন। প্রিয় মাতৃভূমিকে এগিয়ে নিতে হলে আমাদের সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। নিজেদের মধ্যে বিভক্তি তৈরি না করে সম্প্রীতি ও আন্তরিকতার মাধ্যমে বাংলাদেশের আগামী দিনের সম্ভাবনাগুলো বাস্তবায়নে কাজ করতে হবে।
বক্তারা আরও বলেন, জুলাই অভ্যুত্থানে শহীদ পরিবার ও আহতদের পুনর্বাসনের জন্য সবাইকে একযোগে কাজ করতে হবে এবং নিয়মিত তাদের খোঁজখবর নিতে হবে।
সভা চলাকালে রাজনৈতিক দলগুলোকে উদ্দেশ করে এক জুলাইযোদ্ধা আক্রমণাত্মক বক্তব্য দেওয়ায় হট্টগোল শুরু হয়। পরে মাইক্রোফোন হাতে নিয়ে পরিস্থিতি সামাল দেন রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ আব্দুল মাবুদ। এতে আলোচনা সভা আবারও স্বাভাবিকভাবে চলতে থাকে।
পরে জুলাই আন্দোলনে শহীদ পরিবারের সদস্য ও আহতদের হাতে উপহার তুলে দেওয়া হয়।
