রংপুরে বিপুল পরিমাণ চিপস ও কোমল পানীয় জব্দ

নিজস্ব প্রতিবেদক, রংপুর:

ঈদকে সামনে রেখে রংপুরে ভেজাল খাদ্যপণ্য ও প্রসাধনী সামগ্রীর রমরমা ব্যবসা চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও বিভিন্ন সংস্থার ধারাবাহিক অভিযানের পরও ভেজাল পণ্যের উৎপাদন ও বাজারজাতকরণ বন্ধ করা যাচ্ছে না।

সংশ্লিষ্টরা জানান, এক শ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ী দেদারছে ভেজাল খাদ্যপণ্য বাজারে ছাড়ছে। প্রায় প্রতিদিনই প্রশাসন কোথাও না কোথাও ভেজাল পণ্যের কারখানা বা গুদামে অভিযান চালালেও পুরোপুরি দমন করা যাচ্ছে না এ ব্যবসা।

রমজান উপলক্ষে বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন (বিএসটিআই) রংপুরের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান থেকে ৪২টি পণ্য পরীক্ষার জন্য ল্যাবরেটরিতে পাঠায়। এর মধ্যে চারটি পণ্য ভেজাল বা নিম্নমানের হিসেবে প্রমাণিত হয়েছে। এসব পণ্যের মধ্যে রয়েছে সেমাই, লাচ্ছা সেমাই ও চানাচুর। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এসব পণ্যের নিম্নমান জনস্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। তবে পরীক্ষার বাইরে আরও অন্তত অর্ধশত ভেজাল পণ্য বাজারে বিক্রি হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

এদিকে ঈদে বিক্রির উদ্দেশ্যে মজুদ করা বিপুল পরিমাণ ভেজাল চিপস ও কোমল পানীয় জব্দ করেছে জেলা প্রশাসন। সোমবার দুপুরে নগরীর ৩০ নম্বর ওয়ার্ডের কুটিরপাড়া এলাকায় দানেশ ট্রেডার্স নামে একটি গুদামে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট তমাল আজাদের নেতৃত্বে অভিযান চালানো হয়।

অভিযানে রংপুরসহ আশপাশের জেলায় সরবরাহের উদ্দেশ্যে গুদামে রাখা ‘মিং মিং চিপস’, ‘বিগ ওয়েভ চিপস’ এবং ‘মজা’, ‘টেন আপ’ ও ‘তাজা’ নামের কোমল পানীয়সহ প্রায় ৩ লাখ ৯৫ হাজার টাকা মূল্যের ভেজাল পণ্য জব্দ করা হয়। পরে জব্দ করা কোমল পানীয় ধ্বংস করা হয় এবং গুদাম মালিক দানেশকে এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়।

অভিযানে অংশ নেন বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ রংপুরের কর্মকর্তা লোকমান হোসেন, বিএসটিআইয়ের পরিদর্শক প্রকৌশলী তাদমিরা শারমিন, জেলা স্যানিটারি ইন্সপেক্টর মাহবুবার রহমান এবং জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর-এর সহকারী পরিচালক মোস্তাফিজুর রহমান।

নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট তমাল আজাদ বলেন, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে কুটিরপাড়ার ওই গুদামে অভিযান চালিয়ে ভেজাল শিশু খাদ্য ও কোমল পানীয় জব্দ করা হয়েছে। পরীক্ষা করে দেখা গেছে, কিছু কোমল পানীয়ে স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর হেভি মেটাল রয়েছে। এছাড়া এসব পণ্যের কোনো নিবন্ধনও নেই।

তিনি আরও বলেন, ঈদকে সামনে রেখে অসাধু ব্যবসায়ীরা নিম্নমানের খাদ্যপণ্য বাজারে ছাড়ার চেষ্টা করছে। জব্দ করা পণ্যের উৎপাদনস্থল হিসেবে শুধু ঢাকা বা নরসিংদীর নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এতে ধারণা করা হচ্ছে, এগুলো গোপন কারখানায় উৎপাদিত। এমন কারখানার সন্ধান পেলে সেখানে অভিযান চালানো হবে।

রংপুর বিএসটিআইয়ের সহকারী পরিচালক (সিএম) প্রকৌশলী মো. মেসবাহ-উল-হাসান বলেন, আমরা ৪২টি পণ্য পরীক্ষা করে চারটি নিম্নমানের পণ্য পেয়েছি। ভেজাল পণ্য প্রতিরোধে নিয়মিত অভিযান চালানো হচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights