রংপুর বিভাগে এখনো মামলার জালে আটকা বিএনপি
নিজস্ব প্রতিবেদক, রংপুর
রংপুর মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক ও রংপুর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান সামছুজ্জামান সামু। আওয়ামী লীগের সময় তাঁর বিরুদ্ধে অন্তত ১২টি মামলা হয়। এর মধ্যে আগস্ট আন্দোলনের সময়ই চারটি। এখন বিএনপি ক্ষমতায়। এ সময়ে তাঁর বিরুদ্ধে থাকা মামলাগুলোর মাত্র দুটি মামলায় খালাস পেয়েছেন তিনি। এখনো তাঁকে ১০টি মামলায় আদালতে হাজিরা দিতে হয়। রংপুর বিভাগে আওয়ামী লীগ সরকারের ১৭ বছরে বিএনপির নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে হাজারেরও বেশি মামলা হয়েছে। এসব মামলায় লক্ষাধিক নেতা-কর্মীকে আসামি করা হয়েছে। গ্রেপ্তারও হয়েছেন কয়েক হাজার। তবে সরকার পরিবর্তন হওয়ার পর হয়রানিমূলক সেই মামলা প্রত্যাহারের সুপারিশ করা হয়। কিন্তু রংপুরে প্রত্যাহার হয়নি সেই মামলাগুলো। এ নিয়ে বিএনপির নেতা-কর্মীদের মাঝে ক্ষোভ রয়েছে।
এ ছাড়া ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই থেকে ৫ আগস্ট পর্যন্ত রংপুর মহানগর বিএনপির নেতা-কর্মীদের নামে মামলা হয়েছে ২২টি। আসামি করা হয়েছে ৩ হাজারের বেশি নেতা-কর্মীকে। গ্রেপ্তার হয়েছে কয়েক শতাধিক। ওই সব মামলা প্রত্যাহারের কথা থাকলেও তা হয়নি। এখনো ওই মামলাগুলোতে নিয়মিত হাজিরা দিয়ে যাচ্ছেন বিএনপির নেতা-কর্মীরা। দলীয় সূত্রে জানা গেছে, রংপুরের আট উপজেলায় বিস্ফোরকসহ অন্যান্য ধারায় ২০০টির বেশি মামলা হয়েছিল বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে। এসব মামলায় আসামি করা হয়েছে ৫ হাজারের বেশি নেতা-কর্মীকে। গ্রেপ্তার করা হয়েছে কয়েক শ জনকে। ঠাকুরগাঁও জেলায় অরাজক পরিস্থিতি সৃষ্টির অভিযোগে বিএনপি নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে প্রায় ১০০টির বেশি মামলা হয়েছে। এসব মামলায় আসামির সংখ্যা প্রায় ৫ হাজারের ওপর। নীলফামারীতে বিএনপির নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা কম পক্ষে ৫০টি মামলায় আসামি করা হয়েছে ৫ হাজারের বেশি নেতা-কর্মীকে। কুড়িগ্রাম, উলিপুর, ফুলবাড়ী ও রাজীবপুর থানায় ৫০টির বেশি মামলা হয়েছে। এসব মামলায় হাজারেরও বেশি নেতা-কর্মীকে আসামি করা হয়েছে। গ্রেপ্তার করা হয়েছে শতাধিক জনকে। লালমনিরহাটে সরকারি কাজে বাধা দেওয়াসহ বিভিন্ন অভিযোগে বিএনপি নেত-কর্মীদের বিরুদ্ধে প্রায় ১০০টির বেশি মামলা করা হয়। এসব মামলায় বিএনপির কয়েক হাজার নেতা-কর্মীকে আসামি করা হয়েছে। পঞ্চগড় জেলা সদরসহ তেঁতুলিয়া থানায় বিএনপির নেতা-কর্মীর বিরুদ্ধে বেশ কয়েকটি মামলায় আসামি করা হয় এক হাজারের বেশি জনকে। দিনাজপুরে কমপক্ষে ৫০টি মামলায় আসামি করা হয় ২-৩ হাজার নেতা-কর্মীকে। গাইবান্ধায় বিএনপি নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে প্রায় ১০০টির বেশি। এর মধ্যে পলাশবাড়ি এবং সুন্দরগঞ্জ থানায় সবচেয়ে বেশি মামলা হয়েছে। এসব মামলার অধিকাংশ প্রত্যাহারের সুপারিশ করা কলেও মামলাগুলো প্রত্যাহার হয়নি। ফলে এখনো বিএনপি নেতা-কর্মীদের মাথায় মামলার বোঝা রয়েছে। ২০২৪ সালে ১৯ জুলাই থেকে ৫ আগস্ট পর্যন্ত রংপুর মহানগর বিএনপির নেতা-কর্মীদের নামে মামলা হয়েছে ২২টি। আসামি করা হয়েছে ৩ হাজারের বেশি নেতা-কর্মীকে। গ্রেপ্তার হয়েছে কয়েক শতাধিক। ওই সব মামলা প্রত্যাহারের কথা থাকলেও তা হয়নি। এখনো ওই মামলাগুলোতে নিয়মিত হাজিরা দিয়ে যাচ্ছেন বিএনপির নেতা-কর্মীরা। মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক ও রংপুর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান সামছুজ্জামান সামু বলেন, ১৭ বছরে রংপুর বিভাগে হাজারের বেশি মামলায় লক্ষাধিক নেতা-কর্মীকে আসামি করা হয়েছে। গ্রেপ্তার করা হয়েছে ৫ হাজারের বেশি নেতা-কর্মীকে। নেতা-কর্মীরা জামিন পেলেও এখন পর্যন্ত মামলাগুলো প্রত্যাহার করা হয়নি। মামলায় হাজিরা দিয়ে যাচ্ছেন নেতা-কর্মীরা।
