রদ্রিগোর চোট নিয়ে জানা গেল চাঞ্চল্যকর তথ্য

অনলাইন ডেস্ক

ভয়াবহ চোটে পড়ে মৌসুম শেষ হয়ে গেছে রদ্রিগোর। পরে জানা গেছে, তিন বছর ধরে অস্ত্রোপচার ছাড়াই আংশিক এসিএল (অ্যান্টেরিয়র ক্রুসিয়েট লিগামেন্ট) ছিঁড়ে যাওয়া অবস্থায় খেলছিলেন রিয়ালের এই ব্রাজিলিয়ান উইঙ্গার। ক্লাব ও দেশের হয়ে নিয়মিত খেলতে পারার জন্য রক্ষণশীল চিকিৎসা ও প্রতিরোধমূলক ফিজিওথেরাপি বেছে নিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু এখন ২৫ বছর বয়সী এই তারকাকে দীর্ঘ ও কষ্টকর পুনর্বাসন প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হবে।

সোমবার গেতাফের বিপক্ষে ১-০ গোলে হারের ম্যাচে হঠাৎ করেই যন্ত্রণায় লুটিয়ে পড়েন রদ্রিগো। মেডিকেল পরীক্ষায় নিশ্চিত হয় যে তার ডান হাঁটুর এসিএল এবং ল্যাটারাল মেনিস্কাস দুটোই ছিঁড়ে গেছে। গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, এই ব্রাজিলিয়ানের হাঁটুর লিগামেন্ট আগেই দুর্বল হয়ে ছিল। দ্য অ্যাথলেটিকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালে ব্রাজিলের হয়ে আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলার সময় প্রথম একই লিগামেন্টে আংশিক ছেঁড়ার ঘটনা ঘটে।

তখন অস্ত্রোপচারের পথে না গিয়ে কঠোর ফিজিওথেরাপি ও জিম সেশন চালিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেন ক্লাবের চিকিৎসকরা, যাতে পূর্ণাঙ্গ ছিঁড়ে যাওয়ার ঝুঁকি কমানো যায়। কিন্তু ফেব্রুয়ারির শুরুতে ডান হ্যামস্ট্রিং টেন্ডিনোসিস থেকে সেরে ওঠার পর প্রথমবার মাঠে ফেরার ম্যাচেই তার চোট মাথাচাড়া দেয়।

রদ্রিগো সামাজিক মাধ্যমে ভক্তদের উদ্দেশে লেখেন, এটা আমার জীবনের সবচেয়ে খারাপ দিনগুলোর একটি, এই চোটটাই আমি সবসময় ভয় পেতাম। হয়তো জীবন ইদানীং আমার প্রতি একটু নিষ্ঠুর হয়েছে। জানি না এটা আমার প্রাপ্য কিনা, কিন্তু অভিযোগই বা কী করব? জীবনে এত সুন্দর অভিজ্ঞতা পেয়েছি, যেগুলোও হয়তো আমার প্রাপ্য ছিল না।

তবে তার প্রতিনিধিরা প্রাথমিক চিকিৎসা সিদ্ধান্তের পক্ষে জোরালো অবস্থান নিয়েছেন। মুখপাত্র ফার্নান্দো তোরেস দাবি করেন, প্রতিটি শারীরিক সমস্যার জন্য সবচেয়ে উপযুক্ত সমাধান নেওয়া হয়েছিল।

দ্য অ্যাথলেটিককে দেওয়া ক্লাব-সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোও বলেছে, এসিএল আংশিক ছেঁড়ার ক্ষেত্রে অস্ত্রোপচার এড়িয়ে চলা সাধারণ চিকিৎসা পদ্ধতি, কোনো অবহেলা নয়।

এই চোট রিয়াল মাদ্রিদ শিবিরে এক অশনি সংকেত হয়ে এসেছে। ২০২৩ সালের গ্রীষ্মের পর থেকে এটি ক্লাবটির কোনো ফুটবলারের পঞ্চম এসিএল ইনজুরি। এর আগে গোলরক্ষক থিবো কোর্তোয়া, ডিফেন্ডার ডেভিড আলাবা এবং রাইট-ব্যাক দানি কার্ভাহাল একই চোটে পড়েছেন। এছাড়া রদ্রিগোর স্বদেশি এদার মিলিতাও সাম্প্রতিক মৌসুমগুলোতে দু’বার একই ধরনের ইনজুরিতে পড়েছেন। প্রথমবার ২০২৩ এর আগস্টে এবং আবার ২০২৪ এর নভেম্বরে।

এখন সবচেয়ে জরুরি হলো অস্ত্রোপচার সফলভাবে সম্পন্ন করা। তবে পুনর্বাসন প্রক্রিয়ায় প্রায় ১২ মাসের দীর্ঘ সময় মাঠের বাইরে থাকতে হতে পারে রদ্রিগোকে। ফলে ২০২৬ সালে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোয় অনুষ্ঠিতব্য বিশ্বকাপে ব্রাজিলের হয়ে খেলার স্বপ্ন ভেঙে যেতে পারে তার। জাতীয় দলের জন্য তার সৃজনশীলতার অভাব বড় ধাক্কা হয়ে আসবে।

অন্যদিকে, গেতাফের বিপক্ষে হারের ধাক্কা সামলে দ্রুত ঘুরে দাঁড়াতে হবে মাদ্রিদকে। লা লিগার বাকি ম্যাচগুলো এবং চ্যাম্পিয়ন্স লিগের শেষ ষোলোতে ম্যানচেস্টার সিটির বিপক্ষে লড়াই, সব মিলিয়ে বড় চ্যালেঞ্জের সামনে লস ব্লাঙ্কোস।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights