রবিবার জেনেভায় যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সমঝোতা স্মারক সই হতে পারে : রয়টার্স

অনলাইন ডেস্ক
উপসাগরীয় অঞ্চলে চলমান সংঘাত নিরসনে আগামীকাল রবিবার ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হতে পারে। চুক্তি সইয়ের সম্ভাব্য স্থান হিসেবে সুইজারল্যান্ডের জেনেভার নাম সবচেয়ে বেশি আলোচনায় রয়েছে। পশ্চিমা একটি সূত্র বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে এ তথ্য জানিয়েছে।

সূত্রটির ভাষ্য অনুযায়ী, সমঝোতা স্মারকের বিষয়বস্তু নিয়ে এখনও আলোচনা চলছে। এ চুক্তির আওতায় লেবাননে ইসরায়েলি হামলা বন্ধের বিষয়টিকে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে তেহরান।

দুই পক্ষই শনিবার (১৩ জুন) এর মধ্যে স্মারকের খসড়া চূড়ান্ত করতে আগ্রহী। এরপর রবিবার যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এবং ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ চুক্তিতে সই করতে পারেন বলে জানা গেছে।

এর আগে বৃহস্পতিবার (১১ জুন) মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানান, তিনি ইরানের বিরুদ্ধে নতুন হামলার পরিকল্পনা বাতিল করছেন। তার ভাষ্য ছিল, তেহরানের সঙ্গে একটি চুক্তি এখন প্রায় প্রস্তুত।

তবে শুক্রবার (১২ জুন) ইরানি কর্মকর্তাদের বর্ণিত শর্তগুলোতে দেখা যায়, তেহরান তাদের দীর্ঘদিনের বেশ কয়েকটি দাবি বাস্তবায়নের কাছাকাছি রয়েছে। অন্যদিকে, ট্রাম্পের প্রত্যাশিত বিষয়গুলোর মধ্যে হরমুজ প্রণালি পুনরায় উন্মুক্ত হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্রের হামলার পর ইরান এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ বন্ধ করে দিয়েছিল।

শুক্রবার রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ইরানের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বলেন, খসড়া চুক্তির আওতায় ইরানি তেলের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা হবে। পাশাপাশি দেশটির আটকে থাকা কয়েক বিলিয়ন ডলারের তহবিল মুক্ত করা হবে। এছাড়া লেবাননসহ বিভিন্ন ফ্রন্টে হামলা ও উসকানিমূলক কর্মকাণ্ড বন্ধ করার বিষয়টিও এতে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

তবে পারমাণবিক ইস্যুতে এই সমঝোতা স্মারকে কোনো সুনির্দিষ্ট সিদ্ধান্ত থাকছে না। বিষয়টি পরবর্তী আলোচনার জন্য রেখে দেওয়া হবে। ওয়াশিংটন চায়, ইরান যেন কখনও পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি না করে—এমন নিশ্চয়তা। অন্যদিকে, তেহরান বরাবরই দাবি করে আসছে যে তারা পারমাণবিক অস্ত্র কর্মসূচি পরিচালনা করছে না।

ইরানের প্রধান দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে তেলের ওপর নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, বিদেশে আটকে থাকা সম্পদ মুক্ত করা এবং লেবাননে ইসরায়েলি হামলা বন্ধ করা। তবে এসবের বিনিময়ে ইরান কী ধরনের প্রতিশ্রুতি দেবে, সে বিষয়ে সূত্রটি কোনো তথ্য দেয়নি। এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকেও তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

এদিকে ইরানের মেহর নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে, সম্ভাব্য চুক্তির শর্তে আরও কিছু গুরুত্বপূর্ণ মার্কিন ছাড় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এর মধ্যে ইরানের আশপাশ থেকে মার্কিন বাহিনী প্রত্যাহারের অঙ্গীকার এবং যুদ্ধের প্রভাবে ক্ষতিগ্রস্ত ইরানি অর্থনীতি পুনর্গঠনের জন্য একটি পরিকল্পনা প্রণয়নের বিষয়ও রয়েছে।

মেহরের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের পুনর্গঠনের জন্য যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের অন্তত ৩০০ বিলিয়ন ডলারের একটি পরিকল্পনা উপস্থাপন করতে হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights