রস সংগ্রহে ব্যস্ত গাছিরা

লালমনিরহাট প্রতিনিধি

রাতে ঠান্ডা বাতাস আর সকালের শিশিরভেজা ঘাস-পাতা জানান দিচ্ছে শীত এসে গেছে। গাছিরা ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন খেজুর রস সংগ্রহে। শীত যত বাড়ছে, খেঁজুর গুড়ের চাহিদাও বাড়ছে। শীতে লালমনিরহাটে রস থেকে গুড় তৈরির ধুম পড়ে। গ্রামীণ জীবনে উৎসব শুরু হয় খেজুরের রস ঘিরে। পুরো শীত মৌসুমজুড়ে চলে বিভিন্ন ধরনের তৈরি। গাছিরা জানান, খেজুর গাছের সাদা অংশ চ্যাচ দিয়ে বিভিন্ন মাটির হাঁড়ি লাগিয়ে রাখা হয়। পরদিন ভোরে সব গাছ থেকে রস সংগ্রহ করে টিনের বড় পাত্রে জ্বাল দিয়ে পাটালি ও লালি গুড় তৈরি করা হয়। রস সংগ্রহকারী মোকছেদুল ইসলাম, রফিক মিয়া ও আবদুল মান্নান জানান, তারা দীর্ঘদিন ধরে গুড় তৈরির কাজ করে আসছেন। বছরের পাঁচ মাস এই কাজ করেন। বাকি সময় অন্য ব্যবসা করেন। শুরুতেই ২০-২৫ কেজি করে খেজুরের গুড় তৈরি হয়। পর্যায়ক্রমে বেড়ে ১-২ মণ পর্যন্ত গুড় তৈরি হয়। প্রতি কেজি খেজুরের গুড় বাজারে পাইকারদের কাছে ১৭০ টাকায় এবং খুচরা ১৮০ টাকায় বিক্রি করা হয়। কৃষক আনিছুর রহমান জানান, শীত মানেই পিঠাপুলি-পায়েস, আর খেজুর গুড় ছাড়া ভাবাই যায় না। জেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ হামিদুর রহমান জানান, কৃষকদের খেঁজুরের গাছ লাগানোর জন্য উৎসাহ ও পরামর্শ দেওয়া হয়। দেশে-বিদেশে খেজুর গুড়ের চাহিদা রয়েছে। রস ও গুড় ঘিরে কর্মসংস্থান হয়েছে। খেজুর রস দিয়ে গুড় উৎপাদন করে অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হওয়ার সুযোগ আছে। বাজারে নিরাপদ গুড় বিপণনের বিষয়ে মনিটরিং করা হয়। সদর হাসপাতালের কনসালটেন্ট ডা. আবদুল বাসেত জানান, খেজুরের কাঁচা রস খেলে নিপা ভাইরাসের ঝুঁকি রয়েছে। আমাদের সচেতন হতে হবে। রস সংগ্রহের সময় হাঁড়ি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন এবং গাছ নেট দিয়ে ঢেকে দেওয়া যেতে পারে, যাতে বাদুড় সংস্পর্শে না আসে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights