রহস্যেই ঘুরপাক খাচ্ছে তিন আলোচিত হত্যাকাণ্ড

ইমরান রহমান

রাজধানীর উত্তর বাড্ডার একটি মাদ্রাসায় দারোয়ানের চাকরি করতেন সাইফুল ও পরিচ্ছন্নতার কাজ করতেন শাকিলা। মাদ্রাসার সঙ্গে যুক্ত একটি বাড়ির নিচতলার পরিত্যক্ত রুম থেকে উদ্ধার করা হয় তাদের অর্ধগলিত লাশ। বাসাটি বাইরে থেকে তালাবদ্ধ থাকায় এবং বাড়ির মালিক পরিবারসহ গ্রামের বাড়িতে থাকায় তদন্তকারীরা নিশ্চিত হয় এটি হত্যাকাণ্ড। থানায় দায়ের করা হয় হত্যা মামলা। কিন্তু প্রায় সাড়ে চার মাস পার হয়ে গেলেও এখনো কোনো ক্লু পায়নি পুলিশ। ধরা পড়েনি হত্যাকারী। শুধু এ ঘটনাই নয়, পশ্চিম রাজাবাজারে নিজ ফ্ল্যাটে জামায়াতে ইসলামীর নেতা আনোয়ার উল্লাহ (৬৫) হত্যাকাণ্ড ও গেন্ডারিয়া রেলস্টেশন থেকে গলা কাটা এক অন্তঃসত্ত্বা নারীর লাশ উদ্ধারের ঘটনাও রহস্যের বৃত্তেই ঘুরপাক খাচ্ছে। এমনকি পাঁচ মাসেও ওই নারীর পরিচয় শনাক্ত করতে পারেনি পুলিশ।

জোড়া লাশে মেডিকেল রিপোর্টের অপেক্ষা : গত বছরের ২ নভেম্বর উত্তর বাড্ডার পূর্বাচল সড়ক লেনের ইবনে কাছির ক্যাডেট মাদ্রাসার পাশের একটি রুম থেকে সাইফুল ও শাকিলা আক্তার নামে দুই তরুণ-তরুণীর অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় থানায় হত্যা মামলা করেন শাকিলার মা মনোয়ারা খাতুন। মামলার এজাহারে তিনি দাবি করেন, তার মেয়ে ও সাইফুলকে পূর্বপরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। কারণ যে ঘরে দুজনের লাশ পাওয়া যায় সে ঘরটি বাইরে থেকে তালাবদ্ধ ছিল। লাশ উদ্ধারের আগে ২৫ অক্টোবর থেকে নিখোঁজ ছিলেন তারা। বিষয়টি নিয়ে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করেন ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা। তাদের সন্ধান পেতে থানায় জিডিও করা হয়। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা বাড্ডা থানার এসআই ইব্রাহিম খলিল জানান, আমরা মেডিকেল রিপোর্টের অপেক্ষায় আছি। ঘটনাটির রহস্য উন্মোচনে অনেক অগ্রগতি আছে। তবে তদন্তের স্বার্থে এখন কিছু বলা সম্ভব না।

রেলস্টেশনে নারী খুনের ক্লু মিলছে না : গত ৫ অক্টোবর সকালে গেন্ডারিয়া রেলস্টেশনের উত্তর পাশে দেয়ালঘেঁষা স্থানে কাদামাখা অবস্থায় এক নারীর গলা কাটা লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। ওই নারী গর্ভবতী থাকায় প্রেমের সম্পর্ক ধাপাচাপা দিতে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের পর ওই নারীকে গলা কেটে হত্যা করা হয় বলে ধারণা। তবে ফিঙারপ্রিন্টেও ওই নারীর পরিচয় শনাক্ত না হওয়ায় মামলার তদন্তে অনেকটাই জটিলতা তৈরি হয়। লাশের পাশ থেকে উদ্ধার হওয়া একটি হাতঘড়ি ছাড়া কোনো ক্লুই মেলেনি এ হত্যাকাণ্ডের। এ ঘটনায় সন্দেহভাজন হিসেবে এক মাদক কারবারিকে গ্রেপ্তার করা হলেও তিনি দায় স্বীকার করেননি। লাশ উদ্ধারের পর দায়ের হওয়া হত্যা মামলার অগ্রগতি বিষয়ে গেন্ডারিয়া থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. নাজমুল হাসান খান জানান, আমরা এখনো ওই নারীর পরিচয় শনাক্ত করতে পারিনি। তবে তদন্তকাজ অব্যাহত আছে।

জামায়াত নেতা খুনে গ্রেপ্তার নেই : গত ১২ জানুয়ারি রাত আড়াইটার দিকে রাজাবাজারের একটি বাসায় গ্রিল কেটে বাসায় প্রবেশ করে জামায়াতে ইসলামীর নেতা আনোয়ার উল্লাহকে (৬৫) হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। ফ্ল্যাটটি থেকে ৮ ভরি স্বর্ণ ও ৫ লাখ টাকা লুট হওয়ায় শুরু থেকে ধারণা করা হচ্ছিল চুরির জন্য এ ঘটনা ঘটিয়েছে চোরচক্র। সিসি ক্যামেরা ফুটেজেও দেখা যায়, গ্রিল কেটে বাসাটিতে প্রবেশ করছে দুই ব্যক্তি। কিন্তু নিহতের পরিবার অভিযোগ করে আসছিল এটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। তবে আসামিদের কেউ শনাক্ত ও গ্রেপ্তার না হওয়ায় চুরির ধারণাতেই ঘুরপাক খাচ্ছে মামলার তদন্ত। শেরেবাংলানগর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আজিজুর রহমান জানান, এ ঘটনায় এখনো কাউকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি। তবে আমরা কয়েকটি বিষয় সামনে নিয়ে তদন্তে অগ্রসর হচ্ছি। আশা করি দ্রুতই খুনিরা গ্রেপ্তার হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights