রাঙামাটিতে কিশোর গ্যাংয়ের বিরুদ্ধে অভিযান, মুচলেকা দিয়ে মুক্তি ৭০

রাঙামাটি প্রতিনিধি
রাঙামাটিতে কিশোর গ্যাংয়ের বিরুদ্ধে একের পর এক অভিযান অব্যাহত রেখেছে পুলিশ। গত দু’দিনের অভিযানে আটক হয়েছে প্রায় ৭০ জন যুবক। পরে অভিভাবকদের জিম্মায় মুচলেকা দিয়ে তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়। এদের বেশির ভাগই কলেজ শিক্ষার্থী। প্রতিদিন সন্ধ্যার পর এসব যুবকদের রাজত্ব চলে রাঙামাটি শহর জুড়ে।

তাদের মোটরসাইকেলের উত্তেজনা আর পাড়া মহল্লায় আড্ডাবাজি উচ্ছৃঙ্খল আচার আচরণে অতিষ্ঠ ছিল রাঙামাটিবাসী। এসব উঠতি বয়সী যুকদের চিহ্নিত করে অভিযান অব্যাহত রেখেছে রাঙামাটি জেলা পুলিশ। প্রাথমিকভাবে আটক করলেও পরে থানায় নিয়ে মুচলেকা দিয়ে ছেড়েও দেওয়া হচ্ছে বলে জানায় রাঙামাটি কোতয়ালী থানার কর্মকর্তা।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি বেশ কিছু অভিযোগের ভিত্তিতে রাঙামাটির কিশোর গ্যাংয়ের বিরুদ্ধে অভিযানে নামে পুলিশ। শহরের কোর্ট বিল্ডিং, বনরূপা, তবলছড়ি, রিজার্ভ বাজার, কলেজ গেইট ও আসামবস্তি এলাকায়। এ বিশেষ অভিযানটা চলে রাত ১০টার থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত। এসময় বিভিন্ন অলিগলি ও পাড়ায় মহল্লায় আড্ডারত বিভিন্ন কিশোর গ্যাংয়ের প্রায় ৭০ জন সদস্যকে আটক করে পুলিশ। আটক করে সবাইকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ করে মুচলেকা দিয়ে ছেয়ে দেওয়া হয়।
এ ব্যাপারে রাঙামাটি কোতয়ালী থানার ভারপাপ্ত কর্মকর্তা মো. আরিফুল আমিন জানায়, যুব সমাজকে সঠিক পথে নিয়ন্ত্রণে রাখতে এ অভিযবান অব্যাহত থাকবে। বিশেষ করে রাত ৯টার পর কোনো কিশোরকে আড্ডাবাজি করতে দেখা গেলে তাদের পুলিশ আটক করবে। এখন পর্যন্ত রাত ১০টার পর ওয়াপদা কলোনি, এডিসি কলোনী, পর্যটন এলাকা, ধনমিয়া পাহাড়, ওমদামিয়া পাহাড়, মাঝেরবস্তি, শহীদ মিনার এলাকা, উন্নয়ন পেছনে ও নিচের রাস্তা, সিভিল সার্জনের অফিসের পাশে অভিযান চালিয়ে ৩৩ জন কিশোরকে আটক করা হয়। পরের দিন শহরের কাঠাঁলতলী, বনরুপা ফরেষ্ট রোড, ট্টাইবেল আদাম, কালিন্দিপুর, স্টেডিয়াম এলাকা ও কলেজ গেইট এলাকায় অভিযান পরিচালনা করা হয়। এতে উঠতি বয়সি ৩৭ জন কিশোরকে আটক করা হয়। আটকৃতকৃতদের বিরুদ্ধে মোবাইল ক্যাসিনো, জুয়ার আড্ডা, মাদকের আড্ডাসহ কিশোর গ্যাং কার্যক্রম পরিচালনার সাথে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে। আটককৃতরা অধিকাংশই শিক্ষার্থী ও ভালো পরিবারের সন্তান। তাই তাদের ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে তাদের পিতা-মাতা বা অভিভাবকদের থানায় ডেকে নিয়ে পরবর্তীতে এসব কার্যক্রমে জড়াবে না মর্মে মুচলেকা নিয়ে অভিভাবকদের জিম্মায় তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। তবে পুলিশের এ অভিযান অব্যাহত থাকবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights