রাঙামাটিতে পানিবন্দি কয়েক হাজার মানুষ, আশ্রয়কেন্দ্রে বাড়ছে ভিড়

ফাতেমা জান্নাত মুমু, রাঙামাটি:

টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে রাঙামাটির বিভিন্ন নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়ে কয়েক হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। এরই মধ্যে জেলার বাঘাইছড়ি উপজেলার প্রায় ৩০টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে লংগদু ও সদর উপজেলার মাগবান ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ এলাকা।

পাহাড়ি ঢলে সড়ক, হাটবাজার, দোকানপাট, বিদ্যালয়, কলেজ, গবাদিপশুর খামার ও ফসলি জমি পানিতে তলিয়ে গেছে। ডুবে গেছে অসংখ্য বসতঘরও। বিশুদ্ধ পানি ও খাদ্যসংকটে মানবেতর জীবন কাটাচ্ছেন পানিবন্দি মানুষ।

এদিকে টানা বৃষ্টিতে রাঙামাটি শহর ও জেলার বিভিন্ন এলাকায় প্রায় ২৫টি সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

রাঙামাটি সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী সবুজ চাকমা জানান, গত পাঁচ দিনের টানা বর্ষণে জেলার বিভিন্ন সড়কে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এর মধ্যে রাঙামাটি-চট্টগ্রাম মহাসড়কের ৮টি, রাঙামাটি-ঘাগড়া ও কাপ্তাই-বান্দরবান সড়কের ৭টি, রাঙামাটি-খাগড়াছড়ি সড়কের ৩টি এবং রাজস্থলী উপজেলা ও বাঙ্গালহালিয়া ইউনিয়ন এলাকায় ৭টি স্থানে সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

তিনি বলেন, আপাতত পাহাড় ধসে পড়ে থাকা মাটি সরিয়ে যান চলাচল স্বাভাবিক রাখা হয়েছে। তবে দ্রুত স্থায়ী মেরামতের ব্যবস্থা না নিলে টানা বৃষ্টিতে সড়কের আরও ক্ষতি হয়ে জেলার বিভিন্ন এলাকার যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

শুধু সড়ক নয়, পাহাড় ধসে বিলাইছড়ি ও কাউখালী উপজেলায় বেশ কয়েকটি বসতঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। রাঙামাটি শহরের আশপাশের পাহাড়ি এলাকাতেও ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে আশ্রয়কেন্দ্রে ছুটছেন মানুষ।


রাঙামাটির জেলা প্রশাসক নাজমা আশরাফী বলেন, লংগদু উপজেলার বগাচতর ইউনিয়নের গাউসপুর সেতুটি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ায় এর ওপর যান চলাচল বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, জেলার ৪০টি আশ্রয়কেন্দ্রে এ পর্যন্ত ৪ হাজার ২৬৫ জন আশ্রয় নিয়েছেন। তাদের জন্য তিন বেলা খাবারের ব্যবস্থা করা হয়েছে। দুর্যোগ পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত আশ্রয়কেন্দ্রগুলো চালু থাকবে। যারা এখনো আশ্রয়কেন্দ্রে যাননি, তাদের মাইকিং করে সতর্ক করা হচ্ছে এবং ঝুঁকি দেখা দিলে নিকটস্থ আশ্রয়কেন্দ্রে চলে যাওয়ার আহ্বান জানানো হচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights