রাজধানীতে প্রকোপ বেড়েছে কিউলেক্স মশার, গবেষণায় উদ্বেগজনক চিত্র

অনলাইন ডেস্ক

আবহাওয়ার পরিবর্তনের প্রভাবে রাজধানীতে হঠাৎ কিউলেক্স মশার উপদ্রব বেড়েছে। পাশাপাশি এডিস মশাবাহিত রোগে গত দুই মাসে চারজনের মৃত্যু হয়েছে। আক্রান্ত হয়েছেন প্রায় দেড় হাজার ব্যক্তি। এমন পরিস্থিতিতে সারা বছরব্যাপী মশক নিধন কর্মসূচি জোরদারের তাগিদ দিয়েছেন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা।

সাধারণত শীত মৌসুম এবং ফেব্রুয়ারি-মার্চ সময়ে কিউলেক্স মশার দাপট কিছুটা বাড়ে। তবে সম্প্রতি জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়–এর এক গবেষণায় দেখা গেছে, গত এক মাসের ব্যবধানে রাজধানীতে মশার পরিমাণ প্রায় ৪০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। এলাকাভিত্তিকভাবে মশার ঘনত্বও বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে।

গবেষণার তথ্য অনুযায়ী, জানুয়ারিতে প্রতি ঘণ্টায় গড়ে ৪০০ থেকে ৬০০টি মশা কামড়াতে আসত। ফেব্রুয়ারিতে সেই সংখ্যা বেড়ে গড়ে ৮৫০টিতে পৌঁছেছে। ড্রেন, নর্দমা ও জলাশয় নিয়মিত পরিষ্কার না করায় স্থির ও দূষিত পানি কিউলেক্স মশার প্রজননক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে বলে গবেষণায় উল্লেখ করা হয়।

এ বছর শীত স্বাভাবিকের তুলনায় কম ছিল এবং তুলনামূলকভাবে আগেই বিদায় নিয়েছে। জানুয়ারিতে গড় তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি থাকায় মশার বংশবিস্তারের জন্য অনুকূল পরিবেশ তৈরি হয়েছে।

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা আরও জানান, কার্যকর কিটনাশক প্রয়োগের জন্য মশা, মানুষ ও পরিবেশের ওপর সমন্বিত গবেষণা প্রয়োজন। তাদের মতে, এখনই কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে সামনের মাসগুলোতে ডেঙ্গু বা চিকুনগুনিয়ার প্রকোপ ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights