রাজবাড়ীর চন্দনা অপমৃত্যুর কবলে

দেবাশীষ বিশ্বাস, রাজবাড়ী

পানি উন্নয়ন বোর্ড

একসময় পাঁচ শ থেকে হাজার মণ পণ্যবোঝাই বড় বড় নৌকা যাতায়াত করত রাজবাড়ীর ঐতিহ্যবাহী চন্দনা নদী দিয়ে। এখন সেই দৃশ্য নেই। নদীর দুই পাশে দখল করে গড়ে উঠেছে ছোটবড় অবৈধ স্থাপনা। দখলের প্রতিযোগিতার পাশাপাশি নদী দূষণের প্রতিযোগিতাও চলছে। চন্দনা নদীর মূল উৎস পদ্মা নদী। পদ্মার পরেই জেলার বড় নদী চন্দনা। রাজবাড়ীর পাংশা উপজেলা থেকে বেরিয়ে নদীটি বালিয়াকান্দি, ফরিদপুরের মধুখালী, বোয়ালমারী ও ফরিদপুর সদর উপজেলা হয়ে তা আবার অন্য নামে পদ্মায় মিলেছে। চন্দনা নদীর কারণে রাজবাড়ীর পাংশা, কালুখালী ও বালিয়াকান্দি উপজেলায় গড়ে উঠেছিল উপশহর। কালের বিবর্তনে সেই চন্দনা নদী এখন সরু খাল। প্রভাবশালীদের দখল আর দূষণে নদী কেবলই সরু হয়েছে। গত শনিবার পানি উন্নয়ন বোর্ডের একাধিক দায়িত্বশীল কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, চন্দনা দখলমুক্ত করতে ২০২১-২২ অর্থবছরে একটি কর্মপরিকল্পনা এবং প্রয়োজনীয় আর্থিক বরাদ্দের চাহিদা পাঠানো হয়। তৎকালীন নির্বাহী প্রকৌশলী আবদুুল্লাহ আল আমিন স্বাক্ষরিত ওই পত্র জেলা প্রশসন দপ্তরে পাঠানো হয়। উচ্ছেদ অভিযান পরিচলানার জন্য তৎকালীন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক জয়ন্তী রূপা রায় একটি পত্র ঢাকায় পাঠান। ওই পত্র আর আলোর মুখ দেখেনি। বর্তমানে কয়েক শ দখলদার নদীটি দখল করে রেখেছেন। বালিয়াকান্দি উপজেলার বাসিন্দা সুদেব কুমার সরকার বলেন, ‘চন্দনা নদী কেন্দ্র করে ব্যবসাবাণিজ্য করার জন্য রতনদিয়া, সোনাপুর, রামদিয়া, বহরপুর, বালিয়াকান্দি ও জামালপুরে বড় বড় হাটবাজার গড়ে ওঠে। এসব হাট বাজারে নদী পথে পণ্য আনা-নেওয়া করা হতো। এখন আর নদী পথে নৌকা চলে না। ব্যবসাবাণিজ্য সড়ক পথে হওয়ার কারণে খরচ অনেক বেড়েছে। নদীটি মারা যাচ্ছে শুধু স্থানীয়দের সচেতনতার অভার আর প্রশাসনের অবহেলায়।’ নাম প্রকাশ না করার শর্তে বালিয়াকান্দির এক বাসিন্দা বলেন, ‘খুব কৌশলে নদী দখল করেন প্রভাবশালীরা। এখানে কিছু রাজনৈতিক নেতা, পানি উন্নয়ন বোর্ডসহ সরকারের বিভিন্ন লোকের ইন্ধন থাকে। চন্দনার রাজবাড়ী অংশে প্রায় ২০০ দখলদার রয়েছেন। নদী কেন্দ্র করে অনেক জেলের জীবনজীবিকা নির্বাহ হতো। সেগুলো বন্ধ হয়ে গেছে। বালিয়াকান্দির নদীর ময়লা প্রতিদিন সেতু থেকে নদীতে ফেলে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়।’ বালিয়াকান্দি উপজেলা নির্বাহী অফিসার চৌধুরি মুস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘চন্দনা নদীটি বালিয়াকান্দির জন্য আশীর্বাদ। নদী দখলমুক্ত করার ব্যাপারে সরকার কাজ করছে। নদী দূষণমুক্ত রাখতে প্রচার চালানো হয়।’ সবাইকে নদী দূষণমুক্ত রাখার অনুরোধ উপজেলা প্রশাসনের এই কর্মকর্তার।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights