রাজশাহীতে কফি পানের গুঞ্জনকে ‘মিথ্যা-ভিত্তিহীন’ বললেন বাদশা ও মিনু

নিজস্ব প্রতিবেদক, রাজশাহী

রাজশাহীতে দুই মেরুর প্রবীণ রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ফজলে হোসেন বাদশা ও মিজানুর রহমান মিনুর একসঙ্গে কফি পানের গুঞ্জনকে উভয়ে মিথ্যা ও ভিত্তিহীন বলেছেন। এনিয়ে নগরীতে নানা আলোচনা-সমালোচনার মধ্যে ওয়ার্কার্স পার্টির কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক ফজলে হোসেন বাদশা এবং বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা মিজানুর রহমান মিনু কথা বলেছেন। তারা দু’জনেই নগরীর একটি হোটেলের ক্যাফেতে একসঙ্গে কফি পানের গুঞ্জনকে ‘মিথ্যা ও ভিত্তিহীন’ বলে উড়িয়ে দিয়েছেন।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, স্থানীয় রাজনীতিতে দুই মেরুর শীর্ষ নেতা বাদশা ও মিনু। দু’জনেরই ছাত্রবস্থায় রাজনীতিতে হাতেখড়ি। অবস্থান পরস্পর বিরোধী দুই মেরুতে। সুযোগ পেলেই কেউ-কাউকে তুলোধুনো করতে ছাড়েন না। বলা যায়, স্বভাব সুলভ আচরণ। ফজলে হোসেন বাদশা যেমন মিনুকে কোনো ছাড় দেন না, তেমনি মিজানুর রহমান মিনুও ফজলে হোসেন বাদশাকে কোনো ছাড় দেন না।

সূত্র জানায়, কয়েকমাস আগেও রাজশাহীতে অনুষ্ঠিত একটি টেলিভিশন চ্যানেলের টক-শোতে বাদশাকে নিয়ে নানা কটূ কথা বলেন মিনু। তবে ফজলে হোসেন বাদশা সেখানে উপস্থিত না থাকায় কোনো জবাব দিতে পারেননি। তবে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে স্থানীয় একটি মহল একটি তিন তারকা হোটেলে ২৩ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় বাদশা-মিনুকে জড়িয়ে একসঙ্গে কফি পানের গুঞ্জন ছড়ায়। যা রাজনৈতিক মহলে চাউর হয়ে যায়।
এ বিষয়ে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ফজলে হোসেন বাদশা বলেন, ‘আমি বাসায় ফেরার পথে প্রায়ই ওই হোটেলে গিয়ে কফি পান করি। যে দিনের কথা বলা হচ্ছে, সেদিনও বাসায় ফেরার পথে সেখানে গিয়ে কফি পান করেছি। বেরিয়ে আসার সময় শুনেছি, বিএনপি নেতা মিজানুর রহমান মিনু সেখানে খাবার নিতে গিয়েছিলেন। তবে তাকে আমি দেখিনি। তার সাথে দেখা এমনকি কফি পানের কোনো প্রশ্নই ওঠে না।’ এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘সর্বশেষ বছর দু’য়েক আগে মিনুর সঙ্গে আমার দেখা বা সাক্ষাত হয়েছে’।

একইভাবে মিজানুর রহমান মিনুও এই প্রতিবেদকের কাছে ফজলে হোসেন বাদশার সঙ্গে দেখা হওয়ার গুঞ্জন মিথ্যা ও ভিত্তিহীন বলে জানান। মিনু বলেন, দুই বছর আগে বাদশার সঙ্গে সরাসরি দেখা-সাক্ষাত হয়েছিল। এর বাইরে কোথাও দেখা বা সাক্ষাৎ হয়নি আমাদের।’ এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘বাদশা আওয়ামী লীগের এজেন্ট হিসেবে নির্বাচন করছেন, আর আমরা দেশ রক্ষায় তথাকথিত নির্বাচন বর্জন করছি। সুতরাং এই সময়ে বাদশার সঙ্গে সাক্ষাত বা কফি পানের কোনো প্রশ্নই আসে না।’

উল্লেখ্য, আগামী ৭ জানুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য সংসদ নির্বাচনে রাজশাহী-২ (সদর) আসনে ১৪ দলীয় জোটের নৌকা প্রতীকের প্রার্থী হয়েছেন ফজলে হোসেন বাদশা। তিনি জোটের প্রার্থী হলেও স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা তার নির্বাচনি প্রচারণায় অংশ নিচ্ছেন না। তারা স্বতন্ত্র প্রার্থী মহানগর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি শফিকুর রহমান বাদশার কাঁচি প্রতীকের প্রচারণায় অংশ নিচ্ছেন। এছাড়া সদর আসনে ১৪ দলীয় জোটের আরেক শরিক জাসদের একজন প্রার্থী মশাল প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। গত ২৫ ডিসেম্বর রাতে রাজশাহী মহানগর ১৪ দলীয় জোটের সভা হয়েছে। তবে কোনো সিদ্ধান্ত ছাড়াই সভা শেষ হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights