রাজশাহীতে শিক্ষা গিলছে কোচিং

নিজস্ব প্রতিবেদক, রাজশাহী

আবু সালেহ নামের এক অভিভাবকের ছেলে রাজশাহীর একটি নামকরা সরকারি স্কুলের নবম শ্রেণির ছাত্র। তিনি বলেন, ‘আমরা স্কুল ফি, পরীক্ষার ফি দিই, তারপর আবার একই শিক্ষকদের কোচিং ফি দিই। কিন্তু আমার সন্তান যদি কোচিং না করে, তাহলে ক্লাসে তাকে উপেক্ষা করা হয়।’ শাহনাজ বেগম পলি নামের অভিভাবক বলেন, ‘আমার ছেলেও কলেজে যায় না, সে কোচিং সেন্টারে যায়। যখন আমি তাকে জিজ্ঞেস করি কলেজে যাওয়া হয় না কেন, সে বলে কলেজে ক্লাস নিয়মিত হয় না এবং শিক্ষকদের পর্যাপ্ত প্রস্তুতি থাকে না।’

শিক্ষার্থীরা ক্লাসে পাঠ উদ্ধার করতে না পারায় ছুটতে হচ্ছে কোচিংয়ে। ওই কোচিংয়ের শিক্ষক আবার তার স্কুল বা কলেজের শিক্ষক। শিক্ষকদের কোচিং ব্যবসায় যুক্ত থাকার বিষয়টি ভাবিয়ে তুলেছে শিক্ষা বিভাগকে। ক্লাসরুমে শিক্ষার মান পুনরুদ্ধারে শিক্ষকদের বেসরকারি কোচিং সেন্টার ও কিন্ডারগার্টেনের সঙ্গে জড়িত থাকার তথ্য জমা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়। তবে তা প্রায় পুরোপুরি অগোচরে রেখেছে রাজশাহীর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো।

৩ ডিসেম্বর মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর-মাউশির রাজশাহী আঞ্চলিক কার্যালয় থেকে এ নির্দেশনা জারি করা হয়। বিভাগের সব স্কুল ও কলেজকে ১৫ ডিসেম্বরের মধ্যে যাচাই করে কোচিং বাণিজ্যে জড়িত শিক্ষকদের নামের তালিকা পাঠাতে বলা হয়েছিল। কিন্তু মাউশি সূত্রে জানা গেছে, বিভাগের শতাধিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে মাত্র তিনটি প্রতিষ্ঠান এ বিষয়ে সাড়া দিয়েছে।

শিক্ষাবিদরা মনে করেন, নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর রাজনৈতিক সমর্থন এবং প্রশাসনিক সাহসের অভাবেই এই সমস্যা দীর্ঘস্থায়ী হচ্ছে। রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডের সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক দীপকেন্দ্র নাথ দাস বলেন, ‘ক্লাসরুমে শিক্ষার মান না থাকা, জিপিএ-৫ পাওয়ার প্রবল প্রতিযোগিতা এবং শিক্ষকদের দ্রুত ধনী হওয়ার আকাক্সক্ষা পরিস্থিতি আরও খারাপ করেছে।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights