রাফিনিয়া-লোপেসের গোলে বিলবাওকে হারাল বার্সেলোনা

স্পোর্টস ডেস্ক

আক্রমণের পর আক্রমণ, একের পর এক গোলের সুযোগ, তবু ব্যবধান বড় করতে পারেনি বার্সেলোনা। পোস্ট, ক্রসবার আর প্রতিপক্ষ গোলরক্ষক উনাই সিমনের দুর্দান্ত দৃঢ়তায় বেশ কয়েকবার গোলবঞ্চিত হয়েছে তারা। শেষ পর্যন্ত দুই অর্ধে দুটি গোল করে আথলেতিক বিলবাওকে হারিয়ে লা লিগায় টানা দ্বিতীয় জয় তুলে নিয়েছে হান্সি ফ্লিকের দল।

কাম্প নউয়ে বৃহস্পতিবার রাতে লিগের ম্যাচটি ২-০ গোলে জিতেছে বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা। বার্সেলোনার হয়ে প্রথম গোলটি করেন রাফিনিয়া। পরে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন ফের্মিন লোপেস।

ম্যাচে মোট আটটি সেভ করেন ২০২৬ বিশ্বকাপে সেরা গোলরক্ষকের পুরস্কার জেতা সিমন। তার দুর্দান্ত পারফরম্যান্স না থাকলে বার্সেলোনার জয়টি আরও বড় হতে পারত।

ম্যাচে ৭০ শতাংশ বল দখলে রেখে গোলের জন্য মোট ২২টি শট নেয় বার্সেলোনা। এর মধ্যে ১০টি ছিল লক্ষ্যে। বিপরীতে বিলবাওয়ের পাঁচটি শটের একটিও লক্ষ্যে ছিল না।

শুরু থেকেই বল দখলে রেখে আক্রমণে ওঠে বার্সেলোনা। নবম মিনিটে পেদ্রির কর্নার থেকে এরিক গার্সিয়ার হেড অল্পের জন্য লক্ষ্যে থাকেনি। দুই মিনিট পর লামিন ইয়ামালের শটও পোস্টের সামান্য বাইরে দিয়ে চলে যায়।

১৯তম মিনিটে প্রথমবার লক্ষ্যে শট নেয় বার্সেলোনা। তবে ইয়ামালের শট ঝাঁপিয়ে এক হাতে দুর্দান্তভাবে ঠেকিয়ে দেন সিমন। চার মিনিট পর এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ আসে স্বাগতিকদের সামনে। রাফিনিয়ার চমৎকার হেড পোস্টে লেগে ফিরে আসে।

২৯তম মিনিটে বিলবাওয়ের জালে বল পাঠিয়েছিলেন পেদ্রি। অ্যান্থনি গর্ডনের নিচু ক্রস দারুণভাবে জালে জড়ান তিনি। কিন্তু আক্রমণ তৈরির সময় ইয়ামাল অফসাইডে থাকায় গোলটি বাতিল হয়।

তবে আর বেশিক্ষণ অপেক্ষা করতে হয়নি বার্সেলোনাকে। ৩৭তম মিনিটে পেদ্রির রক্ষণচেরা পাস ধরে বক্সে ঢুকে পড়েন রাফিনিয়া। এরপর এগিয়ে আসা গোলরক্ষক সিমনকে কাটিয়ে ফাঁকা জালে বল পাঠিয়ে দলকে এগিয়ে দেন ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড।

চলতি লিগে দুই ম্যাচে এটি রাফিনিয়ার তৃতীয় গোল।

প্রথমার্ধ শেষ হওয়ার পাঁচ মিনিট আগে ব্যবধান দ্বিগুণ করার সুযোগ পেয়েছিল বার্সেলোনা। ওয়ান-অন-ওয়ানে ইয়ামালের খুব কাছ থেকে নেওয়া শট অবিশ্বাস্য দক্ষতায় ঠেকিয়ে দেন সিমন। নিজের সুযোগ নষ্ট হওয়ায় ইয়ামালও যেন বিশ্বাস করতে পারছিলেন না, কীভাবে গোলটি হলো না।

প্রথমার্ধে গোলের জন্য নয়টি শট নেয় বার্সেলোনা, যার তিনটি ছিল লক্ষ্যে। বিপরীতে বিলবাওয়ের শট ছিল মাত্র একটি।

দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই সুযোগ পায় বিলবাও। ৬০ সেকেন্ডের মাথায় বক্সের বাঁ দিকে বল পেয়ে গর্ডনের নেওয়া ভালো শট ক্রসবারের কয়েক ইঞ্চি ওপর দিয়ে চলে যায়।

৫৩তম মিনিটে আবার গোলের খুব কাছে পৌঁছে যায় বার্সেলোনা। প্রায় ২০ গজ দূর থেকে ইয়ামালের জোরালো শট ক্রসবারে লেগে ফিরে আসে। এর কিছুক্ষণ পর বক্সের বাইরে থেকে লোপেসের নেওয়া শটও ঠেকিয়ে দেন সিমন।

৬৩তম মিনিটে দুটি পরিবর্তন করেন বার্সেলোনা কোচ হান্সি ফ্লিক। রাফিনিয়ার জায়গায় নতুন ক্লাবে অভিষেক হয় রদ্রির। মার্ক বের্নালের বদলে মাঠে নামেন দানি ওলমো।

৭৫তম মিনিটে সমতায় ফেরার দারুণ সুযোগ পেয়েছিল বিলবাও। সানসেতের শট বার্সেলোনার গোলরক্ষক হোয়ান গার্সিয়াকে পরাস্ত করলেও পোস্টে লেগে ফিরে আসে।

এরপর ৮২তম মিনিটে ম্যাচের ভাগ্য কার্যত নিশ্চিত করে বার্সেলোনা। দুই মিনিট আগে বদলি হিসেবে নামা কারিম আডেইয়েমি বাঁ দিক থেকে বক্সে বল বাড়ান। সেটি নিয়ন্ত্রণে নিতে পারেননি বিলবাও ডিফেন্ডার এমরিক লাপোর্ত। বল চলে যায় লোপেসের পায়ে। ফাঁকা জালে বল পাঠিয়ে ব্যবধান ২-০ করেন তিনি।

৮৯তম মিনিটে কাছ থেকে আডেইয়েমির নেওয়া শটও ফিরিয়ে দেন সিমন। যোগ করা সময়ে ইয়ামালের আরেকটি শট ঠেকিয়ে দেন বিলবাওয়ের গোলরক্ষক।

শেষ পর্যন্ত ২-০ গোলের জয় নিয়েই মাঠ ছাড়ে বার্সেলোনা। দুই ম্যাচে দুই জয়ে ৬ পয়েন্ট নিয়ে লা লিগার শীর্ষে উঠেছে তারা। সমান ৬ পয়েন্ট নিয়ে গোল ব্যবধানে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে রিয়াল মাদ্রিদ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights