রাবিশ জমে নদীতে তৈরি হয় কৃত্রিম লেক, কেউ বুঝতেও পারেনি তৈরি হচ্ছিল মৃত্যুফাঁদ

অনলাইন ডেস্ক
রাবিশ আর বরফধসে নদীর পানি প্রবাহ বন্ধ হয়ে তৈরি হয়েছিল একটি অস্থায়ী লেক। সেই লেকই একসময় হঠাৎ ভেঙে পড়ায় ভয়াবহ বন্যার সৃষ্টি হয়। পানি আর রাবিশের স্রোত একসঙ্গে নিচের দিকে নেমে আসায় নেপাল ও তিব্বতের সীমান্তবর্তী এলাকায় শতাধিক মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে। এখনো নিখোঁজ রয়েছেন চার শতাধিক মানুষ।

সংবাদমাধ্যম কাঠমান্ডু পোস্ট জানিয়েছে, নেপালের হাইড্রোলজি ও মেটেওরোলজি বিভাগের কর্মকর্তারা এ তথ্য জানিয়েছেন।

সংস্থাটির বন্যা পূর্বাভাস বিভাগের প্রধান বিনোদ পারাজুলি জানান, চীনের সরবরাহ করা স্যাটেলাইটের ছবিতে নদীর উজানে রাবিশ জমে থাকার বিষয়টি ধরা পড়েছে। স্থানীয় মিতেরি সেতু থেকে প্রায় ২০ কিলোমিটার দূরে নদীর ওপরের অংশে এসব রাবিশ জমে পানির স্বাভাবিক প্রবাহ বন্ধ হয়ে যায়। এর ফলে সেখানে একটি অস্থায়ী লেক তৈরি হয়েছিল।

বিনোদ পারাজুলি বলেন, অস্থায়ী লেক তৈরির আগে ও পরের স্যাটেলাইটের ছবি পর্যালোচনা করা হয়েছে। এসব ছবিতে বরফধস ও ভূমিধসের চিহ্নও দেখা গেছে। বরফ ও রাবিশ জমে সেখানে এক ধরনের বাঁধের মতো তৈরি হয়েছিল। পরে সেটি ভেঙে গিয়ে পানি ও রাবিশ একসঙ্গে নিচের দিকে নেমে আসে।

তার ভাষ্য, উজানে বিপুল পরিমাণ রাবিশ জমে থাকায় পানি নিচে নেমে আসার সময় এর ধ্বংসাত্মক ক্ষমতা অনেক বেড়ে যায়। শুধু স্বচ্ছ পানি প্রবাহিত হলে আকস্মিক বন্যাটি এতটা ভয়াবহ হতো না।

এর আগে কাঠমান্ডু বিশ্ববিদ্যালয়ের এক অধ্যাপকও জানিয়েছিলেন, নদীতে বরফধসের কারণে পানি আটকে গিয়েছিল। পরে সেই পানি একসঙ্গে নদীর নিম্নাঞ্চলের দিকে নেমে আসে। একই দিনে তিব্বতে একটি ভূমিকম্পের ঘটনাও ঘটেছে। ওই ভূমিকম্পের কারণে আকস্মিকভাবে পানি নেমে আসার সম্ভাবনা রয়েছে বলে তিনি ধারণা প্রকাশ করেন।

ঘটনার পর নেপাল ও তিব্বতের সীমান্তবর্তী এলাকায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে। শতাধিক মানুষের মৃত্যু হয়েছে এবং চার শতাধিক মানুষ এখনো নিখোঁজ রয়েছেন।

সূত্র: কাঠমান্ডু পোস্ট

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights