রায়পুরে বিদ্যালয়ে ‘মানবতার দেয়াল’ স্থাপন
রায়পুর (লক্ষ্মীপুর) প্রতিনিধি
লক্ষ্মীপুরের রায়পুর উপজেলার হায়দরগঞ্জ মডেল স্কুলের উদ্যোগে ‘মানবতার দেয়াল’ তৈরি করা হয়েছে। এখান থেকে যে কেউ তার প্রয়োজনীয় জামাকাপড় বিনামূল্যে নিতে পারবে। আবার কেউ চাইলে নিজের অব্যবহৃত বা অপ্রয়োজনীয় পোশাকটি এখানে ঝুলিয়ে রেখে যেতে পারবে। সম্প্রতি প্রতিষ্ঠানটি মানবতার দেয়াল বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে সহায়তা দেওয়া ও নেওয়ার বিষয়টি প্রচারণা শুরু করে।
শিক্ষার্থী আব্দুল্লাহ আল ফাহিম, জান্নাতুল ফেরদৌস ও শামীম আশরাফ বলেন, ‘আমাদের বিদ্যালয়ের প্রবেশমুখে এমন একটি উদ্যোগ আমাদেরকেও মানবিক হতে উদ্বুদ্ধ করবে। কাউকে এভাবেও সহায়তা করা যায়, এমনটি আমাদের ভাবনায় আগে কখনো আসেনি। প্রতিষ্ঠানটির এ ধরনের উদ্যোগ আমাদের অনুপ্রাণিত করবে।’
ব্যবসায়ী জাহাঙ্গীর আলম, অভিভাবক ইমরান হোসেন ও স্থানীয় সুপার মার্কেটের সভাপতি শাহিন আলম বলেন, ‘বিদ্যালয়টি বাজারের মাঝখানে অবস্থিত। তারা এ ধরনের উদ্যোগ নিয়ে শিশুদের শিক্ষার পাশাপাশি ব্যবসায়ীদেরও সহায়তায় উদ্বুদ্ধ করেছে। আমাদের মতো অনেকেই এখানে অপ্রয়োজনীয় কাপড় এনে রেখে দেন। যাদের প্রয়োজনীয় কাপড় কেনার সামর্থ্য নেই তাঁরা নিঃসঙ্কোচে এখান থেকে এসে নিয়ে যেতে পারেন। অনেকেই যেমন জামা-কাপড় জমা দিয়ে যাচ্ছেন তেমনি অনেকে নিয়েও যাচ্ছেন। এটি সমাজের জন্য অনুকরণীয়।’
প্রতিষ্ঠানটির জনসংযোগ কর্মকর্তা মোস্তফা কামাল জানান, ২০০৯ সালে উপজেলার নদী তীরবর্তী এলাকা উত্তর চর আবাবিল ইউনিয়নের প্রাণকেন্দ্র হায়দরগঞ্জ বাজারে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটি কার্যক্রম শুরু করে। বিদ্যালয়টি শিক্ষা, সামাজিক উদ্যোগের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। এই এলাকার প্রায় ৬০ জন বিশিষ্ট ব্যক্তি সম্মিলিত অর্থায়নে প্রতিষ্ঠানটি স্থাপন করেন। এ প্রতিষ্ঠানে সক্ষম শিক্ষার্থীরা বেতন দিয়ে ও দরিদ্ররা অর্ধ বেতন এবং বিনা বেতনে একই মানের পড়ালেখা ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা লাভ করে। ইতোমধ্যে প্রতিষ্ঠানটি অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা ও ভালো ফলাফল অর্জনের মাধ্যমে জেলার একটি শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান হিসেবে স্বীকৃতি অর্জন করেছে।
হায়দরগঞ্জ মডেল স্কুল পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি মো. হাবিবুর রহমান বলেন, ‘শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো হলো সামাজিক প্রতিষ্ঠান। সামাজিক দায়বদ্ধতার জায়গা থেকেই হায়দরগঞ্জ মডেল স্কুলে ‘মানবতার দেয়াল’ স্থাপন করা হয়েছে। এর মাধ্যমে শিক্ষক, শিক্ষার্থী সবাইকে মানবসেবায় উদ্বুদ্ধ করার পাশাপাশি সমাজের দরিদ্র ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষজন যেন উপকৃত হতে পারে, এটিই মানবতার দেয়াল স্থাপনের উদ্দেশ্য। সমাজের সর্বস্তরে মানবতাবোধের এই দৃষ্টান্ত ছড়িয়ে পড়লে অবহেলিত মানুষ কিছুটা হলেও উপকৃত হবেন।’
