রাশিয়ার তিনটি তেল উত্তোলন স্থাপনায় হামলা ইউক্রেনের

অনলাইন ডেস্ক

কাস্পিয়ান সাগরে রাশিয়ার তিনটি তেল উত্তোলন স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে ইউক্রেন। একই সঙ্গে রাশিয়ার ভোরোনেজ শহরেও ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে। গতকাল রবিবার আলাদাভাবে এসব হামলা চালায় কিয়েভ।

ভোরোনেজ অঞ্চলের গভর্নর আলেক্সান্ডার গুসেভ জানিয়েছেন, ওই হামলায় এক নারী নিহত হয়েছেন, আহত হয়েছেন আরও তিনজন। শহরটির আকাশে একাধিক ড্রোন ভূপাতিত করা হলেও হতাহতের ঘটনা এড়ানো যায়নি। অন্যদিকে, কাস্পিয়ান সাগরের তেল উত্তোলন স্থাপনাগুলোতে হামলার ফলে ঠিক কতটা ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, সে বিষয়ে এখনো নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

ইউক্রেনের স্পেশাল অপারেশনস ফোর্সেস বা এসএসও তেল স্থাপনাগুলোতে হামলার ভিডিও প্রকাশ করেছে। ভিডিওতে দেখা যায়, রাতের আঁধারে কাস্পিয়ান সাগরে অবস্থিত তেল উত্তোলন স্থাপনাগুলোর ওপর দিয়ে উড়ে যাচ্ছে তিনটি বিস্ফোরক ড্রোন। কিছুক্ষণ পর ড্রোনগুলো সরাসরি আঘাত হানে রাশিয়ার অন্যতম বৃহৎ তেল কোম্পানি লুকওইলের মালিকানাধীন তিনটি ড্রিলিং প্ল্যাটফর্মে। লক্ষ্যবস্তু ছিল ভি. ফিলানোভস্কি, ইউরি কোরচাগিন এবং ভ্যালেরি গ্রাইফার নামের তেল রিগগুলো।

ইউক্রেনের সশস্ত্র বাহিনীর সর্বোচ্চ সামরিক পরিকল্পনা ও সমন্বয়কারী কর্তৃপক্ষ জেনারেল স্টাফ এক বিবৃতিতে জানায়, তেল স্থাপনাগুলোতে সরাসরি আঘাতের ঘটনা নিশ্চিত হয়েছে। তবে ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ চিত্র এখনো যাচাই করা হচ্ছে।

কিয়েভের দাবি, কাস্পিয়ান সাগরের এসব তেল ও গ্যাস স্থাপনা রাশিয়ার যুদ্ধ পরিচালনায় সরাসরি সহায়তা করছে। সে কারণেই এগুলোকে বৈধ সামরিক লক্ষ্যবস্তু হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে। রাশিয়ার যুদ্ধ সক্ষমতা দুর্বল করতে ইউক্রেন সম্প্রতি দেশটির জ্বালানি অবকাঠামোর ওপর হামলা আরও জোরদার করেছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো।

এদিকে, ইউক্রেনের এই হামলার আগে রাশিয়া দেশটিতে ব্যাপক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালায়। ওই হামলায় কিয়েভের বিদ্যুৎ ও তাপ সরবরাহ ব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ফলে শীতের মধ্যে হাজার হাজার মানুষ বিদ্যুৎ ও গরমের সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। পরিস্থিতির ভয়াবহতা বিবেচনায় কিয়েভের মেয়র অস্থায়ীভাবে বাসিন্দাদের রাজধানী ছেড়ে নিরাপদ স্থানে যাওয়ার আহ্বানও জানিয়েছিলেন।

সূত্র: নিউইয়র্ক পোস্ট

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights