রিয়েল ইমপ্যাক্ট প্রোডাকশনের পেছনে কে?

ক্রীড়া প্রতিবেদক

জুলাই ২০২৪-এর রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর থেকে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডে (বিসিবি) নানা রদবদল হলেও সম্প্রচার প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান রিয়েল ইমপ্যাক্ট প্রোডাকশনের অবস্থানে তেমন কোনো পরিবর্তন দেখা যায়নি। এ নিয়ে ক্রিকেট অঙ্গনে প্রশ্ন উঠেছে কার সমর্থনে টিকে আছে প্রতিষ্ঠানটি? বিসিবির সাবেক সভাপতি নাজমুল হাসান পাপনের নেতৃত্বাধীন বোর্ডের সঙ্গে কাজ শুরু করে রিয়েল ইমপ্যাক্ট। বিসিবির প্রভাবশালী পরিচালক ইসমাইল হায়দার মল্লিকসহ শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাদের সুসম্পর্ক ছিল বলে ক্রিকেট মহলে সুপরিচিত। গত ২০২৪-এর আগস্টে অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস দায়িত্ব নেওয়ার পর বিসিবিতেও পরিবর্তন আসে। সভাপতি হন ফারুক আহমেদ। তবে নেতৃত্ব বদলালেও রিয়েল ইমপ্যাক্টের অবস্থান অটুট থাকে। বর্তমানে তারা বিসিবির হোম সিরিজের স্পোর্টস টিভি প্রোডাকশন পার্টনার হিসেবে চুক্তিবদ্ধ, যার মেয়াদ ২০২৭ সালের জুন পর্যন্ত।

বোর্ডসংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, নাজমুল হাসান পাপনের বিদায়ের পর অনেকেই ধারণা করেছিলেন রিয়েল ইমপ্যাক্টের দিন ফুরিয়ে এসেছে। কিন্তু দুবাইয়ে প্রভাবশালী কয়েকজন বোর্ড পরিচালকের সঙ্গে একটি বৈঠকের পর পরিস্থিতি পাল্টে যায়। এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘শুরুর দিকে তাদের উচ্চমূল্য নিয়ে আলোচনা হয়েছিল। পরিবর্তনের কথাও উঠেছিল। কিন্তু দুবাইয়ের বৈঠকের পর সব থেমে যায়।’ এদিকে সর্বশেষ বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) সম্প্রচার নীতিমালায় বিসিবি বড় ধরনের পরিবর্তন আনে। দীর্ঘদিনের অংশীদার রিয়েল ইমপ্যাক্টের পরিবর্তে পাকিস্তানের ট্র্যান্স প্রোডাকশন টেকনোলজিসকে (টিপিটি) দায়িত্ব দেওয়া হয়। বিসিবির ভাষ্য অনুযায়ী, ‘নতুন প্রোডাকশন স্ট্যান্ডার্ড’ গড়ার লক্ষ্যেই এ সিদ্ধান্ত।

আর্থিক দিক থেকেও বোর্ড প্রায় ৪ কোটি ৫০ লাখ টাকা সাশ্রয় করে। টিপিটির কাজ দর্শক মহলেও প্রশংসিত হয়। ফলে পাকিস্তান, নিউজিল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে আসন্ন হোম সিরিজগুলোতেও টিপিটিকে দায়িত্ব দেওয়ার পক্ষে বিসিবির একটি অংশ মত দেয়। বোর্ড সূত্র বলছে, তিনটি সিরিজে (দুই টেস্ট, ৯ ওয়ানডে ও তিন টি-২০) সম্প্রচার ব্যয়ে অন্তত সাড়ে ৪ কোটি টাকা সাশ্রয়ের সুযোগ রয়েছে, যদি রিয়েল ইমপ্যাক্টের চুক্তি বাতিল করে টিপিটিকে দায়িত্ব দেওয়া হয়। যদিও অনেকে মনে করেন, চুক্তির এখনো এক বছর বাকি থাকায় তা বাতিল করা সহজ নয়। পাল্টা যুক্তি হিসেবে বলা হচ্ছে, সন্তোষজনক সেবা না পেলে বোর্ড চাইলে চুক্তি বাতিল করতে পারে। গত ২২ ফেব্রুয়ারির বোর্ড সভায় এক প্রভাবশালী পরিচালক রিয়েল ইমপ্যাক্টের পক্ষে অবস্থান নেন বলে জানা গেছে। তার দাবি, প্রতিষ্ঠানটির সেবা সন্তোষজনক। তবে সমালোচকদের মতে, পাকিস্তানি প্রতিষ্ঠান টিপিটি মানের দিক থেকে অনেক এগিয়ে থাকার প্রমাণ দিয়েছে। রিয়েল ইমপ্যাক্টকে ঘিরে সমর্থনের নেপথ্যে কারণ কী, তা নিয়ে চলছে নানা আলোচনা। দুবাই বৈঠককে কেন্দ্র করেই প্রশ্ন উঠছে সবচেয়ে বেশি। এ বিষয়ে বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলামের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights