রোগী কেন ফুটপাতে

রেজা মুজাম্মেল, চট্টগ্রাম

চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের লাশঘরের সামনে থেকে অজ্ঞাত এক নারীকে অর্থোপেডিক ওয়ার্ডে ভর্তি করেন অজ্ঞাত রোগীদের সেবা দেওয়া টিমের সদস্যরা। ওই নারী মানসিক রোগী, সঙ্গে ইনফেকশন হয়ে তার একটি হাত পচে যায়। ভর্তির ১৫ দিন পর সম্পূর্ণ সুস্থ হওয়ার আগেই তাকে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র দেওয়া হয়। তিনি আবারও সড়ক-ফুটপাতে দিন কাটাচ্ছেন।

অভিযোগ উঠেছে, হাসপাতালের এক শ্রেণির অসাধু কর্মচারী এমন অজ্ঞাত রোগীদের সম্পূর্ণ সুস্থ হওয়ার আগেই ছাড়পত্র দিতে তৎপর থাকেন। শয্যাসংকটকে পুঁজি করে অজ্ঞাত রোগীদের নিয়ে ঝামেলা এড়াতে কাজটি করা হয়। ফলে হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়ে যেটুকু সুস্থ হয়, পরে আবারও অসুস্থ হয়ে পড়েন।

চমেক হাসপাতালে অজ্ঞাত রোগীদের সেবকখ্যাত প্রকৌশলী সাইফুল ইসলাম নেসার বলেন, অসুস্থ অজ্ঞাত রোগীরা চমেক হাসপাতালে চিকিৎসা নেন। দেখা যায় ৭০ শতাংশ চিকিৎসা শেষ হলেই অজ্ঞাত রোগীদের হাসপাতাল থেকে নিচে নামিয়ে দেওয়া হয় বা ছাড়পত্র দেওয়া হয়। পরবর্তীতে এই রোগীদের আর কোথাও যাওয়ার জায়গা থাকে না। হাসপাতালের আশপাশের সড়ক-ফুটপাতসহ বিভিন্ন স্থানে অবহেলায় পড়ে থাকে। তখন অযতেœ শরীরের বিভিন্ন ক্ষত স্থানে আবারও পচন ধরে। অজ্ঞাত রোগীদের পাশ দিয়ে অসংখ্য রোগী ও সাধারণ মানুষ যাতায়াত করেন। এতে করে তাদেরও আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, একজন রোগীর অপারেশন করা হলে দু-তিন দিন পর পর ড্রেসিং করাতে হয়। তাই তাদের সময় নিয়েই হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে হয়। কিন্তু একজন অজ্ঞাত রোগীকে পুরোপুরি সুস্থ হওয়ার আগেই রিলিজ করে দেওয়া হচ্ছে। বেশির ভাগ অজ্ঞাত রোগীর ৫০-৬০ শতাংশ ক্ষত স্থান ড্রেসিংয়ের মাধ্যমে শুকিয়ে এলেই আর হাসপাতালে রাখা হয় না। ফলে সুস্থ হওয়া ক্ষত স্থানটি আবারও অযত্ন-অবহেলায় পচন ধরে, দুর্গন্ধ ছড়ায়। জানা যায়, অজ্ঞাত রোগীদের সেবা দেওয়া টিমটি ২০০৭ সাল থেকে হাসপাতালে অজ্ঞাত রোগীদের সেবা দিয়ে আসছে। ইতোমধ্যে এ টিমের মাধ্যমে প্রায় দেড় হাজার রোগীর চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে হাসপাতালের ২৮ নম্বর ওয়ার্ডে চারজন অজ্ঞাত রোগী চিকিৎসাধীন। চমেক হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ তসলিম উদ্দিন বলেন, চিকিৎসা শেষ হওয়ার আগে ছাড়পত্র দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। তাছাড়া, ওয়ার্ডের দায়িত্বশীল চিকিৎসকের মতামতের ভিত্তিতেই ডিসচার্জ করা হয়। সমস্যা হলো তাদের তো যাওয়ার কোনো জায়গা নেই। তাই তারা হয়তো হাসপাতালের বাইরে কোথাও পড়ে থাকে। পরে আবারও অসুস্থ হয়ে পড়ে। কিন্তু আমরাও তো শয্যাসংকটসহ নানা কারণে তাদের চিকিৎসা শেষ হলে আর রাখতে পারি না।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights