রোনালদোকে নিয়ে সমালোচনা, সামনে এলো কোহলির সেই পুরোনো সতর্কবার্তা

স্পোর্টস ডেস্ক

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর নিজেদের প্রথম ম্যাচে ডিআর কঙ্গোর বিরুদ্ধে পর্তুগাল ১-১ গোলে ড্র করার পর থেকেই তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছেন সর্বকালের অন্যতম সেরা ফুটবলার ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো। ৪১ বছর বয়সে এসেও পর্তুগালের আক্রমণভাগকে নেতৃত্ব দেওয়ার দায়িত্ব তার কাঁধেই। তবে আন্তর্জাতিক ফুটবলে ১৪৩টি গোলের রেকর্ড গড়া এই তারকা নিজের উদ্বোধনী ম্যাচে ছিলেন নিজের ছায়া হয়ে। আর তাতেই ফুটবল পণ্ডিত ও সমর্থকদের তোপের মুখে পড়েছেন তিনি, এমনকি দলে তার অন্তর্ভুক্তি নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। তবে রোনালদো যখন চারপাশ থেকে সমালোচনায় জর্জরিত, তখন তিন বছর আগে ভারতীয় ক্রিকেট তারকা বিরাট কোহলির দেওয়া একটি সতর্কবার্তা আবারও প্রাসঙ্গিক হয়ে উঠেছে।

তিন বছর আগে পিএসজির মুখোমুখি হয়েছিল আল-হিলাল ও আল-নাসরের তারকাদের নিয়ে গঠিত রিয়াদ অল-স্টারস। লিওনেল মেসি, নেইমার ও কিলিয়ান এমবাপ্পে সমৃদ্ধ পিএসজির বিরুদ্ধে সেই ম্যাচে রোনালদো জোড়া গোল করে দলকে ৪-৩ ব্যবধানে জেতান। সেই পারফরম্যান্সের পর কোহলি সমালোচকদের ধুয়ে দিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেছিলেন, ৩৮ বছর বয়সেও তিনি সর্বোচ্চ স্তরে খেলছেন। যারা প্রতি সপ্তাহে স্রেফ মনোযোগ পাওয়ার জন্য তার সমালোচনা করেন, বিশ্বের অন্যতম সেরা ক্লাবের বিরুদ্ধে এমন পারফরম্যান্সের পর তারা আজ সুবিধাজনকভাবে চুপ হয়ে গেছেন। অথচ বলা হচ্ছিল, রোনালদোর ক্যারিয়ার নাকি শেষ।

এটি সত্য যে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড, রিয়াল মাদ্রিদ বা জুভেন্টাসের দিনগুলোর মতো বিধ্বংসী ফর্মে এখন আর রোনালদো নেই। তবে অনেকে এটিও ভুলে যাচ্ছেন যে সদ্য সমাপ্ত ২০২৫-২৬ মৌসুমেও আল-নাসরের হয়ে ৩০ ম্যাচে ২৮টি গোল করেছেন তিনি। পর্তুগালের হয়ে আক্রমণভাগ সামলানোর ক্ষমতার চেয়ে বর্তমানে তার বড় ঘাটতি হলো সতীর্থদের সঙ্গে বোঝাপড়ার অভাব, কারণ তার সতীর্থরা তুলনামূলক দ্রুত ও কঠিন লিগগুলোতে খেলেন। রোনালদোর মতো একজন কিংবদন্তিকে নিয়ে গঠনমূলক সমালোচনা করা যেতেই পারে, কিন্তু ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা নায়ককে নিয়ে উপহাস করার ক্ষেত্রে একটি সীমারেখা টানা উচিত।

২০২২ সালের কাতার বিশ্বকাপ থেকে পর্তুগাল বিদায় নেওয়ার পরও কোহলি রোনালদোর প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেছিলেন, কোনো ট্রফি বা খেতাব খেলাধুলায় এবং বিশ্বজুড়ে ক্রীড়াপ্রেমীদের মনে তার অবদানকে মুছে দিতে পারবে না। তিনি মানুষকে যেভাবে অনুপ্রাণিত করেছেন, তা ঈশ্বরের এক অনন্য উপহার। কোহলি তাকে কঠোর পরিশ্রম ও উৎসর্গের মূর্ত প্রতীক এবং নিজের চোখে সর্বকালের সেরা হিসেবে আখ্যা দিয়েছিলেন। এমনকি ২০১৯ সালে এক সাক্ষাৎকারে কোহলি বলেছিলেন যে রোনালদোর কাজের প্রতি নিষ্ঠা অতুলনীয় এবং তার প্রতিটি ম্যাচ কোহলিকে অনুপ্রাণিত করে।

ক্রিকেট মাঠে যেভাবে কোহলি বারবার সমালোচকদের মুখ বন্ধ করে নিজের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করেছেন, ফুটবলের মাঠে রোনালদোর মানসিকতাও ঠিক একই রকম। প্রতিটি ধাক্কাই পর্তুগিজ তারকাকে নিজেকে নতুন করে চিনিয়ে নেওয়ার এবং মানুষকে ভুল প্রমাণ করার শক্তি জোগায়। বিশ্বকাপ ২০২৬-এর গ্রুপ পর্বের বাকি ম্যাচগুলোতে পর্তুগাল যখন ঘুরে দাঁড়ানোর লড়াইয়ে নামবে, তখন রোনালদোর কাছ থেকে আবারও চেনা রূপের সর্বোচ্চ চেষ্টা দেখার অপেক্ষাতেই রয়েছে ফুটবল বিশ্ব।

সূত্র: এনডিটিভি

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights