রোনালদোকে পুরো সময় খেলানোর পক্ষে কোচ

অনলাইন ডেস্ক

গ্রুপ পর্বে নিজেদের শেষ ম্যাচে কলম্বিয়ার বিপক্ষে গোলশূন্য ড্র করেছে পতুর্গাল। এতে গ্রুপ সেরা হয়ে নকআউটে জায়গা করে নিয়েছে নেস্তর লরেঞ্জোর দল। এই ম্যাচে ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোকে চিরচেনা রুপে দেখা যায়নি। উল্টো এই তারকা ফুটবলারকে বিশ্রাম দেওয়া উচিত বলে মত দিয়েছেন সমর্থক ও বিশেষজ্ঞরা।

তারা বলছেন, নকআউট পর্বে সম্পূর্ণ ফিট থাকতে লিওনেল মেসি ও আর্লিং হালান্ডের মতোই সিআর সেভেনকে বিশ্রাম দেওয়ার প্রয়োজন ছিল। যদিও এমন পরামর্শ বা আলোচনা পুরোপুরি উড়িয়ে দিয়েছেন পর্তুগালের কোচ রবার্তো মার্টিনেজ। তিনি এই ধরনের মতামতকে ‘ছেলেমানুষি’ বলে অভিহিত করেন। মার্টিনেজ বলেন, রোনালদো পুরো সময়খেলার জন্য সম্পূর্ণ সক্ষম।

কলম্বিয়ার বিপক্ষে ম্যাচে রোনালদোর পারফরম্যান্স খুব একটা আশানুরূপ ছিল না। অন্যদিকে জর্ডানের বিপক্ষে আর্জেন্টিনার ম্যাচে মেসি বদলি খেলোয়াড় হিসেবে মাঠে নেমেছিলেন, আর ফ্রান্সের বিপক্ষে গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে হালান্ড নরওয়ের হয়ে খেলেনইনি।

ম্যাচ শেষে মার্টিনেজ বলেন, অন্য দলের খেলোয়াড়দের সঙ্গে আমরা তুলনা করি না। সেটা হবে ছেলেমানুষি।রোনালদোর খেলার ধরন অভিজ্ঞতা ও শৃঙ্খলার ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে। তিনি বলেন, রোনালদো সঠিক সময়ে সঠিক জায়গায় থাকতে অভ্যস্ত। এটি মূলত মানসিক দৃঢ়তা এবং পজিশনের ক্ষেত্রে সবসময় শৃঙ্খলা বজায় রাখার বিষয়। এর সঙ্গে আক্রমণাত্মক কৌশলের সময় ফাঁকা জায়গা তৈরি করার বিষয়টিও এখানে গুরুত্বপূর্ণ।

পর্তুগিজ কোচ জোর দিয়ে বলেন, বিশ্বকাপের সময় খেলার ধকল সামলানোর ক্ষেত্রে এই মহাতারকার মধ্যে কোনো সমস্যা বা ক্লান্তির লক্ষণ দেখা যায়নি। তার ৯০ মিনিট খেলার কোনো সমস্যা নয়। তবে হয়তো পরের ম্যাচে আমাদের কোনো পরিবর্তন আনতে হতে পারে, কিন্তু সেটা অন্য যেকোনো ফুটবলারের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য হতে পারে।

অপটা অ্যানালিস্ট’-এর তথ্য অনুযায়ী, ৪১ বছর বয়সী পর্তুগাল অধিনায়ক নিজের ২৫তম বিশ্বকাপ ম্যাচ খেলেছেন।এর মাধ্যমে তিনি টুর্নামেন্টের ইতিহাসে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ম্যাচ খেলার রেকর্ডে জার্মানির কিংবদন্তি লোথার ম্যাথাউসের পাশে বসলেন। রোনালদোর চেয়ে বেশি বিশ্বকাপ ম্যাচ খেলেছেন কেবল আর্জেন্টিনা অধিনায়ক লিওনেল মেসি (২৯টি ম্যাচ)।

রোনালদো টুর্নামেন্টের একটি ব্যতিক্রমী পরিসংখ্যানও দীর্ঘায়িত করেছেন। এই অভিজ্ঞ ফরোয়ার্ড গত দুটি ফিফা বিশ্বকাপে মোট ১১ বার অফসাইডের কবলে পড়েছেন। যা এই সময়ের মধ্যে অন্য যেকোনো খেলোয়াড়ের চেয়ে চারটি বেশি। এই তালিকার পরবর্তী অবস্থানে আছেন ফ্রান্সের কিলিয়ান এমবাপ্পে ও কলম্বিয়ার লুইস দিয়াজ। তারা সাতবার করে অফসাইডের শিকার হয়েছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights