লক্ষ্মীপুরে দুই শিক্ষকের পদত্যাগের দাবিতে পক্ষে-বিপক্ষে সড়ক অবরোধ

লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি

লক্ষ্মীপুর পৌর শহরে অবস্থিত বালিকা বিদ্যা নিকেতনের দুই শিক্ষকের পক্ষে-বিপক্ষে শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ করেছে। এ সময় তারা উভয়পক্ষ পৃথক শিক্ষকদের পদত্যাগের দাবিতে ডিসি অফিসের সামনে লক্ষ্মীপুর-রায়পুর সড়ক অবরোধ করে।

অভিযুক্ত দুই শিক্ষক হলেন-বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক লিটন চন্দ্র দেবনাথ ও সহকারী শিক্ষিকা ফরিদা ইয়াছমিন।

বুধবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণ থেকে শিক্ষার্থীদের দুই গ্রুপ দুই শিক্ষকের পক্ষে-বিপক্ষে পৃথক বিক্ষোভ শুরু করে। পরে তারা ওই দুই শিক্ষকের পদত্যাগের দাবিতে মিছিল নিয়ে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে জড়ো হয়। সেখানেও বিক্ষোভ প্রদর্শন শেষে ১২টার দিকে তারা ওই কার্যালয়ের সামনে লক্ষ্মীপুর-রায়পুর সড়কে অবরোধ কর্মসূচি পালন করে। প্রায় ঘণ্টাব্যাপী অবরোধ চলাকালে ওই সড়কে সকল প্রকার যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে চরম জনভোগান্তি দেখা দেয়।

শিক্ষার্থীদের এক পক্ষের অভিযোগ, বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক লিটন চন্দ্র দেবনাথ বিভিন্নভাবে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের অন্যায়ভাবে নির্যাতন করে আসছে। এর আগে ওই বিদ্যালয়ের আয়া নিগার সুলতানা ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগও তোলেন।

শিক্ষার্থীদের অপরপক্ষের অভিযোগ, সহকারী শিক্ষিকা ফরিদা ইয়াসমিনের কাছে প্রাইভেট না পড়লে তিনি তাদের নানান অজুহাতে মারধর করেন। এ ছাড়া তিনি সহকর্মী শিক্ষক-শিক্ষিকাদের সাথেও নানান সময়ে খারাপ আচরণ করে আসছেন।

জানা যায়, গত ২১ নভেম্বর বিদ্যালয়ের কম্পিউটার শিক্ষিকা শাহনাজ আক্তার শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে ফরিদা ইয়াসমিনের অশালীন আচরণের বিভিন্ন বিষয় তুলে ধরে সভাপতি বরাবর অভিযোগ দাখিল করেন। এসব বিষয় নিয়ে গত কয়েকদিন থেকে বিদ্যালয়ে উত্তপ্ত পরিবেশ বিরাজ করছে। আজ বিদ্যালয়ে বার্ষিক পরীক্ষায় অংশ নিতে এসে ফের অভিযুক্ত ওই দুই শিক্ষক একে-অপরের সাথে বাক-বিতণ্ডায় জড়ান। একই সময়ে শিক্ষার্থীদের সাথেও তারা পৃথক অশালীন আচরণ করেন বলেও অভিযোগে জানা যায়।

এতেই দুই শিক্ষকের পক্ষে-বিপক্ষে বিক্ষুব্ধ হয়ে শিক্ষার্থীরা দুই গ্রুপে বিবাদেও জড়ায়। এরপরই তারা উভয় শিক্ষকের পৃথক পদত্যাগের দাবিতে ডিসি অফিসের সামনে বিক্ষোভসহ সড়কে অবরোধ করে।

এক পর্যায়ে লক্ষ্মীপুর জেলা প্রশাসনের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) সম্রাট খীসা ঘটনাস্থলে এসে শিক্ষার্থীদের উভয় গ্রুপের সাথে পৃথক আলোচনা করে তাদের আশ্বস্ত করেন। পরে শিক্ষর্থীরা অবরোধ তুলে নেয়।

এসময় অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) সম্রাট খীসা বলেন, জরুরি ভিত্তিতে এ ঘটনার তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পাশাপাশি দুই শিক্ষককেই কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হবে।

জানতে চাইলে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক লিটন চন্দ্র দেবনাথ জানান, শিক্ষিকা ফরিদা ইয়াছমিন ও আয়া নিগার সুলতানসহ তার সাথে বিভিন্নভাবে খারাপ ব্যবহার করার পাশাপাশি তার বিরুদ্ধে বাজে মন্তব্য প্রতিনিয়ত তুলে থাকেন। এজন্য শিক্ষার্থীরা বিক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন শিক্ষক জানান, প্রাইভেট পড়ানোকে কেন্দ্র করে দুই শিক্ষকের ভেতরে মনস্তাত্বিক দ্বন্দ্বের জের ধরে এসব হচ্ছে। তারা একে-অপরের বিরুদ্ধে বিশোদগারসহ শিক্ষার্থীদের একজন আরেকজনের বিরুদ্ধে লেলিয়ে দিয়ে বিক্ষুব্ধ করে তোলেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights