লালমনিরহাটে জেঁকে বসেছে শীত, নেই সূর্যের দেখা

লালমনিরহাট প্রতিনিধি

উত্তরের হিমেল হাওয়া আর কনকনে ঠান্ডায় লালমনিরহাটে জেঁকে বসেছে শীত। মঙ্গলবার সারাদিন সূর্যের দেখা মেলেনি। ঘন কুয়াশায় ঢেকে ছিল চারপাশ, শীতের হিমেল বাতাসে কাঁপছে জনজীবন।

ঘন কুয়াশার কারণে সড়কে যানবাহনগুলো হেডলাইট জ্বালিয়ে চলাচল করছে। পথচারীরা শীতবস্ত্র গায়ে জড়িয়ে দ্রুত পা বাড়াচ্ছেন গন্তব্যের দিকে। কুয়াশার প্রভাবে জেলার বিভিন্ন নৌঘাট থেকে সকালে প্রায় তিন ঘণ্টা দেরিতে নৌযান চলাচল শুরু হয়।

কনকনে ঠান্ডায় সবচেয়ে বিপাকে পড়েছেন খেটে খাওয়া মানুষ ও ছিন্নমূল জনগোষ্ঠী। বিশেষ করে দিনমজুরদের সকাল শুরু হচ্ছে অনিশ্চয়তায়। কুয়াশা ও শীতের কারণে অনেকেই দেরিতে কাজে বের হওয়ায় কাজ পাচ্ছেন না। ফলে সকাল থেকে জেলার বিভিন্ন সড়কের মোড়ে মোড়ে কাজের অপেক্ষায় দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গেছে বহু মানুষকে।

জেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, শীত থেকে বাঁচতে ছিন্নমূল মানুষ খড়কুটো ও কাঠ জ্বালিয়ে শরীর গরম করার চেষ্টা করছেন।

শীত উপেক্ষা করে কাজে বের হন কালীগঞ্জ উপজেলার কাকিনা এলাকার দিনমজুর সামাদ মিয়া। ঠান্ডায় দুই হাত পকেটে গুঁজে তিনি বলেন, পেট তো আর ঠান্ডা বোঝে না বাহে। দুইদিন ধইরা খুব ঠান্ডা। হাত-পা ঠান্ডাতে শিষ্টা (অবশ) হইয়া যায়। কামে যাইতেও দেরি হইতাছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, কয়েকদিন ধরেই এমন আবহাওয়া বিরাজ করছে। সূর্যের দেখা না মেলায় শীতের তীব্রতা আরও বেড়েছে। এতে শিশু ও বয়স্কদের মধ্যে সর্দি-কাশির প্রকোপ বাড়ছে বলেও জানিয়েছেন তারা।

তুষভান্ডার বাজারের রিকশাচালক নুর হোসেন বলেন, আমার ছোট ছেলেটা গতকাল থেকে সর্দিতে ভুগতেছে। হাসপাতালে চিকিৎসা নিছি। এই ঠান্ডার মধ্যেও গাড়ি নিয়ে বের হইছি, কিন্তু শীতের কারণে যাত্রী কম।

রাজারহাট কৃষি আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সুবল চন্দ্র জানান, মঙ্গলবার সকাল ৬টায় লালমনিরহাটে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১১ ডিগ্রি সেলসিয়াস। বাতাসে জলীয় বাষ্পের আদ্রতা ছিল ৯৭ শতাংশ। তিনি আরও জানান, আগামী কয়েকদিন শীত ও কুয়াশার প্রবণতা অব্যাহত থাকতে পারে এবং জেলার ওপর দিয়ে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights