লালমনিরহাট কারাগারে ধারণক্ষমতার তিনগুণ বেশি বন্দী
লালমনিরহাট প্রতিনিধি
লালমনিরহাট জেলা কারাগারে ধারণক্ষমতার তিন গুণের বেশি বন্দী থাকায় আবাসন ও স্বাস্থ্যসেবা নিয়ে চাপ বেড়েছে। ১৯০ জনের ধারণক্ষমতার কারাগারটিতে বর্তমানে প্রায় ৬১৯ বন্দী রয়েছেন বলে কারাগার সূত্রে জানা গেছে। কখনো কখনো এ সংখ্যা ৭০০ ছাড়িয়ে যায়।
সূত্র জানায়, ধারণক্ষমতার তুলনায় কয়েকগুণ বেশি বন্দী থাকায় আবাসন ব্যবস্থা নিয়ে হিমশিম খেতে হচ্ছে প্রশাসনকে। বন্দিদের জন্য পর্যাপ্ত জায়গা না থাকায় অনেককে লকআপের ভেতর ও বাইরের বারান্দায় অবস্থান করতে হচ্ছে। এতে স্বাস্থ্যঝুঁকি, স্যানিটেশন সংকট এবং স্বাভাবিক জীবনযাপনে নানা প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হচ্ছে। নিয়োগ করা একজন চিকিৎসক ও একজন ফার্মাসিস্ট স্বাস্থ্যসেবার চাপ সামলাতে হিমশিম খাচ্ছেন।
লালমনিরহাট সদর উপজেলার মোস্তফি এলাকা বন্দী আলমের মা জমিলা বেগম জানান, বর্তমানে ধারণক্ষমতার তুলনায় অতিরিক্ত বন্দী থাকায় কারাগারের স্যানিটেশন, গোসল, আবাসনের মতো মৌলিক সমস্যায় বন্দিরা চরম ভোগান্তিতে পড়েছে।
কারামুক্ত রাহুল মহাজন জানান, কারাগারে বন্দিরা মানবেতর জীবনযাপন করছে, অতিরিক্ত বন্দির চাপ সামলাতে লকআপের ভেতর এবং বাইরে আবাসন ব্যবস্থা করেও ঠাসাঠাসি করে থাকছেন।
লালমনিরহাট জেলা কারাগারের জেলার জামাল উদ্দিন জানান, অতিরিক্ত বন্দির চাপ সামাল দিতে জেল প্রশাসন পেশাদারিত্ব কাজ করছে। বন্দিদের খাবারের মান অক্ষুণ্ন রেখে পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে অনৈতিক অর্থ লেনদেন এবং জামিন পরবর্তী কোনো অনৈতিক লেনদেন কঠোর ভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হয়েছে। বন্দিদের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় জেল কর্তৃপক্ষ সজাগ রয়েছে। আবাসন সমস্যা সমাধানে জেলা প্রশাসকসহ ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।
লালমনিরহাট জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট রফিকুল ইসলাম জানান, জেলার কারাগারে ধারণক্ষমতার তিনগুণ বন্দী থাকাটা উদ্বেগের বিষয়, লালমনিরহাট চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ৬ জন বিচারক সংকট থাকায় বিচারিক পক্রিয়ায় কিছুটা ধীরগতি চলছে।
মানবাধিকারকর্মী ওয়ার্ল্ড লিগ্যাল এইড কাউন্সিল চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট জাকিউল হাসান সিদ্দিক রাসেল বলেন, কারাগারের ধারণক্ষমতার তুলনায় অতিরিক্ত বন্দী থাকা বন্দিদের মৌলিক অধিকার ও মানবিক মর্যাদার প্রশ্নকে সামনে নিয়ে এসেছে। বিষয়টি সমাধানে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তিনি।
