লাল ড্রাগনে স্বপ্নপূরণ
সামছুজ্জামান শাহীন, খুলনা
সবুজ গাছের ফাঁকে টকটকে লাল ড্রাগন। খেতে সুস্বাদু ও পুষ্টিকর ড্রাগন চাষে ভাগ্য বদল হয়েছে অনেক তরুণ-যুবকের। চাষে খরচ কম, লাভ বেশি। গত ১০ বছরে খুলনা ও যশোরের বিভিন্ন উপজেলায় ড্রাগন ফলের আবাদ বেড়েছে প্রায় পাঁচ গুণ। উচ্চশিক্ষিত তরুণ-যুবকদের বাণিজ্যিকভাবে ড্রাগন চাষে আগ্রহ দিনদিন বাড়ছে। ২০০৪ সাল থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত দুবাইয়ে ছিলেন যশোরের কেশবপুরের যুবক আইয়ুব হোসেন। দেশে ফিরে শখের বসে ৫৯ শতাংশ জমিতে ড্রাগন ফলের বাগান করেন। বর্তমানে সেই জমি থেকে বছরে আয় করছেন ৬ থেকে ৭ লাখ টাকা। তার দেখাদেখি গ্রামের অসংখ্য যুবক-তরুণ ড্রাগন চাষে উদ্বুদ্ধ হচ্ছেন। শুরুতে ৫৯ শতাংশ জমিতে আইয়ুব হোসেন সাড়ে চার হাজার ড্রাগনের চারা রোপণ করেন। ওপরে নেট দিয়ে মাটিতে সারি সারি পিলারের প্রতিটিতে চারটি চারা ও পিলারের ফাঁকে বাঁশের চটায় আরও দুটি করে চারা লাগান। লাভজনক হওয়ায় গত বছর আরও ৪৩ শতাংশ জমিতে একইভাবে সাড়ে ৩ হাজার চারা রোপণ করেন। বাগান থেকে প্রতিবার কয়েক মণ করে বছরে ১০-১২ বার ড্রাগন বিক্রি করা হয়। আইয়ুব হোসেন বলেন, কোনো রাসায়নিক বা কীটনাশক ছাড়া প্রাকৃতিকভাবে উৎপন্ন ড্রাগন ফলের চাহিদা রয়েছে। শুরুতে জমি প্রস্তুত, সার দেওয়া, চারা লাগানো ও সেড তৈরির জন্য অনেক টাকার প্রয়োজন হয়। আগ্রহ থাকলেও অনেক তরুণই ড্রাগন চাষে আসতে পারেন না। সরকার এ ক্ষেত্রে প্রশিক্ষণ ও ঋণ সহায়তা দিয়ে আগ্রহীদের সহায়তা করলে ড্রাগন চাষের পরিধি বাড়বে। আইয়ুব হোসেনের সফলতা থেকে ড্রাগন চাষে উদ্বুদ্ধ হওয়ার কথা জানান স্থানীয় চাষিরা। কেশবপুর উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা শুভংকর মোড়ল বলেন, ড্রাগন চাষের ক্ষেত্রে সাধারণত কিছুটা উঁচু জমি প্রয়োজন হয়। বিদেশি ফলের উচ্চমূল্যের বিপরীতে পুষ্টিগুণ সম্পন্ন ও সুস্বাদু হওয়ায় ড্রাগন ফলের চাহিদা রয়েছে। লাভজনক হওয়ায় বাণিজ্যিকভাবেও ড্রাগন চাষ বাড়ছে।
