লাশ নিয়ে রংপুরে থানা ঘেরাও
নিজস্ব প্রতিবেদক, রংপুর
রংপুরের পীরগাছার এক কিশোরীকে উদ্ধারে গিয়ে সাভার থানা ছাত্রদলের এক নেতার মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় পুলিশ জড়িত অভিযোগ এনে লাশ নিয়ে থানা ঘেরাও করে বিক্ষোভ করেছেন নিহতের স্বজনরা। গতকাল দুপুরে পীরগাছা থানার সামনে তার লাশ রেখে সড়ক অবরোধ করেন বিক্ষুব্ধ স্বজনরা। পরে স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাদের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি শান্ত হয়। নিহত ওই নেতার নাম মনোয়ারুল বকসি (৩০)। তিনি সাভার থানা ছাত্রদলের সহসভাপতি এবং গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার বামনডাঙ্গা ইউনিয়নের দক্ষিণ হাতীবান্ধা গ্রামের জাফর বকসির ছেলে। তিনি পরিবারসহ স্থায়ীভাবে বসবাস করতেন সাভারে।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত ২৩ জুলাই পীরগাছা উপজেলার কৈকুড়ি ইউনিয়নের মোংলাকুটি গ্রাম থেকে মিমি আক্তার (১৫) নামে এক কিশোরী নিখোঁজ হলে তার বাবা পীরগাছা থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। প্রযুক্তির সহায়তায় অবস্থান শনাক্ত করে পীরগাছা থানা পুলিশ সাভার থানা পুলিশের সহযোগিতায় ৭ আগস্ট ঢাকার সাভারে লোক প্রশাসন প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটের (বিপিএটিসি) স্টাফ কোয়ার্টারে অভিযান চালায়। এ সময় ছাদ থেকে কিছু একটা নিচে পড়ার শব্দ পাওয়া যায়। পরে গিয়ে দেখা যায় মনোয়ারুল বকসি নিচে পড়ে আছেন। আশঙ্কাজনক অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসাধীন থাকাকালে তার মৃত্যু হয়। তবে নিহতের স্বজনদের দাবি এটি একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। তাদের অভিযোগ, নিখোঁজ কিশোরী মিমির সঙ্গে মনোয়ারুলের ভাগনে পীরগাছার শাহরিয়ার কবির সৌমিকের প্রেমের সম্পর্ক ছিল এবং তারা স্বেচ্ছায় বিয়ে করে সাভারে অবস্থান করছিলেন। দুই পরিবার এই সম্পর্ক মেনে না নেওয়ায় সম্প্রতি দুজন একসঙ্গে বাড়ি ছেড়ে চলে যান। জিডির সূত্র ধরে গত বৃহস্পতিবার রাতে পীরগাছা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) কনক চন্দ্রের নেতৃত্বে চার সদস্যের একটি পুলিশ দল ঢাকার সাভারের বিপিএটিসি কোয়ার্টারে অভিযান চালায়।
