লিসবনে লাল কার্ডের ঝড়, শেষ মুহূর্তের দুঃস্বপ্নে প্লে-অফে রিয়াল

অনলাইন ডেস্ক

ঘুরে দাঁড়ানোর ইঙ্গিত দিয়েছিল রিয়াল মাদ্রিদ। কোচ জাবি আলোনসোর বিদায়ের ধাক্কা সামলে ধারাবাহিকতার খোঁজে ছিল লস ব্লাঙ্কোসরা। কিন্তু উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগে সরাসরি শেষ ষোলো নিশ্চিত করার রাতটাই হয়ে উঠল বিভীষিকাময়। হোসে মরিনিয়োর বেনফিকার বিপক্ষে নাটকীয় ম্যাচে দুই লাল কার্ড, প্রতিপক্ষ গোলরক্ষকের গোল- সব মিলিয়ে ৪-২ ব্যবধানে হেরে প্লে-অফে ছিটকে পড়েছে ইউরোপের রেকর্ড চ্যাম্পিয়নরা।

বুধবার একই সময়ে মাঠে নেমেছিল টুর্নামেন্টের ৩৬ দল। মাত্র দুটি দল আগেই নিশ্চিত করেছিল শেষ ষোলো, বাকিদের সামনে ছিল হিসাব-নিকাশের সমীকরণ। টেবিলের তিনে থেকে ম্যাচ শুরু করা রিয়াল সেই চাপেই ভেঙে পড়ে লিসবনের আলো ঝলমলে রাতে।

ম্যাচের ৩০ মিনিটে কিলিয়ান এমবাপ্পের গোলে এগিয়ে গিয়েছিল রিয়াল। কিন্তু সেই লিড বেশিক্ষণ টেকেনি। একের পর এক আক্রমণে রিয়ালের রক্ষণভাগকে ব্যস্ত করে তোলে বেনফিকা। প্রথমার্ধেই ম্যাচে ফিরে আসে পর্তুগিজ ক্লাবটি, আর দ্বিতীয়ার্ধে নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি নিজেদের হাতে নেয়।

দ্বিতীয়ার্ধে এমবাপে আবারও গোল করে ব্যবধান কমালেও ততক্ষণে ৩-১ ব্যবধানে এগিয়ে ছিল বেনফিকা। নির্ধারিত সময় শেষের আগেই ম্যাচ কার্যত হাতছাড়া হয়ে যায় রিয়ালের। ইনজুরি সময় এসে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়-পরপর দুই লাল কার্ডে মাঠ ছাড়েন রাউল অ্যাসেন্সিও ও রদ্রিগো গোয়েস।

শেষ আঘাতটা আসে একেবারে অপ্রত্যাশিত জায়গা থেকে। ফ্রি-কিক নিতে গোলবার ছেড়ে সামনে আসেন বেনফিকার গোলরক্ষক আনাতোলি ট্রুবিন। হেডে বল জালে পাঠিয়ে তিনি নিশ্চিত করেন ৪-২ ব্যবধানের ঐতিহাসিক জয়। গ্যালারি স্তব্ধ, রিয়াল বেঞ্চ হতবাক।

পরিসংখ্যানে বল দখলে এগিয়ে ছিল রিয়াল-৫৩ শতাংশ পজেশন ও ১৪টি শটের ৬টি লক্ষ্যে। তবে আক্রমণে ছিল না ধার-বেনফিকার ২২ শটের ১২টিই ছিল গোলমুখে। এই হারের ফলে তিন নম্বর থেকে নেমে রিয়াল এখন নয় নম্বরে। নিয়ম অনুযায়ী ৯ থেকে ২৪ নম্বরে থাকা দলগুলোকে খেলতে হবে দুই লেগের প্লে-অফে, যেখানে টিকে থাকলেই মিলবে শেষ ষোলোর টিকিট।

নাটকীয় এই জয়ে প্লে-অফের শেষ টিকিটটি নিজেদের করে নিয়েছে বেনফিকা। আর ইউরোপ কাঁপানো রিয়ালের সামনে এখন আরও কঠিন পথচলার চ্যালেঞ্জ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights