শনিবারই কি ইরানে হামলা?

অনলাইন ডেস্ক
ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি এবং দেশটিতে চলমান অস্থিরতাকে কেন্দ্র করে তেহরান-ওয়াশিংটনের মধ্যে উত্তেজনা এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আবারও সামরিক পদক্ষেপের হুমকি দেওয়ায় মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে যুদ্ধের কালো মেঘ ঘনীভূত হচ্ছে। হোয়াইট হাউস বুধবার ইরানকে সতর্ক করে জানিয়েছে, মার্কিন প্রশাসনের সাথে একটি চুক্তিতে আসা তেহরানের জন্য বুদ্ধিমানের কাজ হবে। অন্যথায় তেহরানের ওপর বড় ধরনের সামরিক হামলার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিবিএস নিউজ তাদের এক প্রতিবেদনে দাবি করেছে, আগামী শনিবারের মধ্যেই ইরানে বিমান হামলার প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছে মার্কিন সামরিক বাহিনী, যদিও প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এখনো চূড়ান্ত নির্দেশ দেননি।

এদিকে ওমানের মধ্যস্থতায় দুই দেশের মধ্যে পরোক্ষ আলোচনা চললেও তা খুব একটা আলোর মুখ দেখছে না। গত মঙ্গলবার জেনেভায় অনুষ্ঠিত বৈঠককে মার্কিন কর্মকর্তারা গুরুত্বহীন বলে অভিহিত করেছেন। হোয়াইট হাউস প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট জানিয়েছেন, কূটনীতি সবসময়ই প্রথম পছন্দ, তবে ইরানকে বুঝতে হবে যে পরিস্থিতি ক্রমশ জটিল হচ্ছে। অন্যদিকে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও আগামী ২৮ ফেব্রুয়ারি ইসরায়েল সফরে যাচ্ছেন বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে। সেখানে তিনি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সাথে ইরানের পরমাণু ইস্যুতে আলোচনার পাশাপাশি যুদ্ধের প্রস্তুতি নিয়েও কথা বলবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

উদ্ভূত পরিস্থিতিতে ইসরায়েল তাদের সামরিক বাহিনীকে উচ্চ সতর্কতায় রেখেছে। ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী এবং হোম ফ্রন্ট কমান্ডকে যেকোনো পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বিভিন্ন গোয়েন্দা সূত্রে জানা গেছে, ইরান সম্ভাব্য হামলা মোকাবিলায় তাদের মিত্র হিজবুল্লাহকে যুদ্ধে যোগ দেওয়ার জন্য চাপ দিচ্ছে। যদিও হিজবুল্লাহ গত জুন মাসের সংঘাতে নিজেকে দূরে রেখেছিল, তবে এবার তারা কী ভূমিকা নেবে তা নিয়ে গভীর পর্যবেক্ষণ চালাচ্ছে ইসরায়েল। ইসরায়েলি কর্মকর্তারা হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, হিজবুল্লাহ যুদ্ধে জড়ালে তাদের চরম মূল্য দিতে হবে।

অন্যদিকে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি দাবি করেছেন, তারা আলোচনার জন্য একটি কাঠামো তৈরি করছেন এবং আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার সাথে যোগাযোগ রাখছেন। কিন্তু দেশটির অভ্যন্তরে আতঙ্ক বিরাজ করছে, এবার হয়তো কূটনৈতিক পথ বন্ধ হয়ে যেতে পারে। বিশ্লেষকদের মতে, ইরান বর্তমানে ১৯৮৮ সালের পর সবথেকে বড় সামরিক হুমকির মুখে দাঁড়িয়ে আছে। পারমাণবিক স্থাপনা রক্ষা এবং নেতৃত্বকে সুরক্ষিত রাখতে তেহরান তাদের নিরাপত্তা বাহিনীকে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় রেখেছে। পারস্য উপসাগরে সাম্প্রতিক সামরিক মহড়া এবং ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষার মাধ্যমে ইরানও তাদের প্রস্তুতির জানান দিচ্ছে। পবিত্র রমজান মাসের শুরুতেই এমন যুদ্ধাবস্থা পুরো অঞ্চলের স্থিতিশীলতাকে এক চরম অনিশ্চয়তার মুখে ঠেলে দিয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights