শরীয়তপুরে পাঠদান বন্ধ রেখে বিদ্যালয় মাঠে স্বেচ্ছাসেবক লীগের সম্মেলন

শরীয়তপুর প্রতিনিধি

শরীয়তপুরের ভেদরগঞ্জে পাঠদান বন্ধ রেখে একটি বিদ্যালয় ও কলেজের মাঠে আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগ ভেদরগঞ্জ উপজেলা, পৌরসভা ও ইউনিয়ন শাখার ত্রি-বার্ষিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার ভেদরগঞ্জ হেডকোয়ার্টার সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় এ্যান্ড কলেজ মাঠে দিনব্যাপী এ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সম্মেলনের কারণে বিদ্যালয় ও কলেজের পাঠদান সম্পূর্ণরূপে বন্ধ রাখা হয়। এতে বিদ্যালয় ও কলেজ মিলিয়ে প্রায় ১ হাজার শিক্ষার্থী বঞ্চিত হয় ক্লাস থেকে। এ ঘটনায় ছাত্র-ছাত্রী ও তাদের অভিভাবকদের মধ্যে চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছে।

ভেদরগঞ্জ হেডকোয়ার্টার পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের অফিস সূত্রে জানা গেছে, ভেদরগঞ্জ হেডকোয়ার্টার পাইলট উচ্চ বিদ্যলয় ও কলেজে সকাল ১০টা হতে বিকাল ৪টা পর্যন্ত পাঠদান কার্যক্রম চালানো হয়। তিনটি ভবনে পাঠদান ও প্রশাসনিক কার্যক্রম চলে। স্কুল ও কলেজ শাখায় মিলে প্রায় ১ হাজার শিক্ষার্থী পড়াশুনা করে। তার সামনে বিদ্যালয়ের মাঠ। সেই মাঠে মঙ্গলবার সকাল ৯টা হতে নেতা-কর্মীরা মিছিল নিয়ে মাঠে জড়ো হতে থাকেন। প্যান্ডেলের সাথে সেখানে ১০টি মাইক স্থাপন করা হয় আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগের সম্মেলন করার জন্য।

পরে বেলা ১১টার দিকে সম্মেলন উদ্বোধন করেন স্বেচ্ছাসেবক লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির মানব সম্পদ বিষযক সম্পাদক এম জুয়েল আহমেদ। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শরীয়তপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য নাহিম রাজ্জাক। এছাড়া জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের আওয়ামী লীগের নেতা, স্বেচ্ছাসেবক লীগের কেন্দ্রীয় নেতা, জেলা -উপজেলা পর্যায়ের নেতারা মঞ্চে বক্তব্য দেন। ওই মঞ্চে ভেদরগঞ্জ উপজেলা, পৌরসভা, নারায়নপুর ইউনিয়ন, রামভদ্রপুর ইউনিয়ন, ছয়গাঁও ও মহিসার ইউনিয়নের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সম্মেলন উপলক্ষে প্রায় দেড় হাজার নেতাকর্মী মাঠে জড়ো হন। তাদের খাওয়ার ব্যবস্থা করা হয় মাঠে।
মঙ্গলবার সরেজমিন বেলা ১১টার দিকে বিদ্যালয়ের মাঠে গিয়ে দেখা যায়, বিদ্যালয় ও কলেজ শাখার শিক্ষার্থীরা বাড়ি ফিরে যাচ্ছে। অনেকে সম্মেলন মঞ্চের আশপাশে ঘোরাঘুরি করছে। শিক্ষকদের কক্ষ থেকে চেয়ার নিয়ে মঞ্চে ও প্যান্ডেলে বসানো হয়েছে। শ্রেণিকক্ষে অতিথিদের খাবার রাখা হয়েছে। মাঠের একপাশে অতিথিদের জন্য খাবার রান্না করা হচ্ছে। কিছুক্ষণ পরপর মিছিল নিয়ে কর্মী-সমর্থকেরা মাঠে প্রবেশ করছেন। মাঠে বিভিন্ন নেতাকর্মীদের সাথে স্কুল ড্রেস পরিহিত কিছু শিক্ষার্থীরা বসে আছেন চেয়ারে। অন্য শিক্ষার্থীরা বের হয়ে যাচ্ছেন বিদ্যালয় ও কলেজ থেকে। পরে একাধিক শিক্ষার্থীর সাথে কথা হলে তারা জানায়, সকালে তারা ক্লাসে গেলে পাঠদান না করিয়ে শুধু হাজিরা নিয়ে ছুটি দেওয়া হয় তাদের।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষার্থীর অভিভাবক বলেন, এই বিদ্যালয়ের অনুষ্ঠান ছাড়াও কয়দিন পরপরই বিদ্যালয়ের মাঠে রাজনৈতিক ও সামাজিক বিভিন্ন প্রোগ্রাম করা হয়। এতে পাঠদান বন্ধ থাকে এবং বিকট শব্দে আমাদের বাচ্চাদের পড়াশুনার ব্যাঘাত ঘটে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে বিষয়টি জানিয়েছেন উল্লেখ করে ভেদরগঞ্জ হেডকোয়ার্টার সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম বলেন, মাঠে স্বেচ্ছাসেবক লীগের সম্মেলন হওয়ার কারণে শিক্ষার্থীদের পাঠদান করানো যায়নি। কিন্তু বিদ্যালয় ছুটিও ঘোষণা করা হয়নি। ক্লাস করতে না পেরে শিক্ষার্থীরাই চলে গেছে। মাঠে সম্মেলন করার জন্য আমাদের কাছ থেকে কোনো অনুমতি কেউ নেয়নি।

জানতে চাইলে বিদ্যালয় ও কলেজের সভাপতি ভেদরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আব্দুল্লাহ আল মামুন স্থানীয় সাংবাদিকদের বলেন, ওই মাঠে সম্মেলন করার জন্য আমরা কোন অনুমতি দেইনি। সকালে প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষকের মাধ্যমে শুনেছি সম্মেলনের কথা। মাসিক সমাবেশ থাকার কারণে আর খোঁজ নেওয়া হয়নি। শরীয়তপুর প্রতিনিধি
শরীয়তপুরে পাঠদান বন্ধ রেখে বিদ্যালয় মাঠে স্বেচ্ছাসেবক লীগের সম্মেলন

শরীয়তপুরের ভেদরগঞ্জে পাঠদান বন্ধ রেখে একটি বিদ্যালয় ও কলেজের মাঠে আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগ ভেদরগঞ্জ উপজেলা, পৌরসভা ও ইউনিয়ন শাখার ত্রি-বার্ষিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার ভেদরগঞ্জ হেডকোয়ার্টার সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় এ্যান্ড কলেজ মাঠে দিনব্যাপী এ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সম্মেলনের কারণে বিদ্যালয় ও কলেজের পাঠদান সম্পূর্ণরূপে বন্ধ রাখা হয়। এতে বিদ্যালয় ও কলেজ মিলিয়ে প্রায় ১ হাজার শিক্ষার্থী বঞ্চিত হয় ক্লাস থেকে। এ ঘটনায় ছাত্র-ছাত্রী ও তাদের অভিভাবকদের মধ্যে চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছে।

ভেদরগঞ্জ হেডকোয়ার্টার পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের অফিস সূত্রে জানা গেছে, ভেদরগঞ্জ হেডকোয়ার্টার পাইলট উচ্চ বিদ্যলয় ও কলেজে সকাল ১০টা হতে বিকাল ৪টা পর্যন্ত পাঠদান কার্যক্রম চালানো হয়। তিনটি ভবনে পাঠদান ও প্রশাসনিক কার্যক্রম চলে। স্কুল ও কলেজ শাখায় মিলে প্রায় ১ হাজার শিক্ষার্থী পড়াশুনা করে। তার সামনে বিদ্যালয়ের মাঠ। সেই মাঠে মঙ্গলবার সকাল ৯টা হতে নেতা-কর্মীরা মিছিল নিয়ে মাঠে জড়ো হতে থাকেন। প্যান্ডেলের সাথে সেখানে ১০টি মাইক স্থাপন করা হয় আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগের সম্মেলন করার জন্য।

পরে বেলা ১১টার দিকে সম্মেলন উদ্বোধন করেন স্বেচ্ছাসেবক লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির মানব সম্পদ বিষযক সম্পাদক এম জুয়েল আহমেদ। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শরীয়তপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য নাহিম রাজ্জাক। এছাড়া জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের আওয়ামী লীগের নেতা, স্বেচ্ছাসেবক লীগের কেন্দ্রীয় নেতা, জেলা -উপজেলা পর্যায়ের নেতারা মঞ্চে বক্তব্য দেন। ওই মঞ্চে ভেদরগঞ্জ উপজেলা, পৌরসভা, নারায়নপুর ইউনিয়ন, রামভদ্রপুর ইউনিয়ন, ছয়গাঁও ও মহিসার ইউনিয়নের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সম্মেলন উপলক্ষে প্রায় দেড় হাজার নেতাকর্মী মাঠে জড়ো হন। তাদের খাওয়ার ব্যবস্থা করা হয় মাঠে।
মঙ্গলবার সরেজমিন বেলা ১১টার দিকে বিদ্যালয়ের মাঠে গিয়ে দেখা যায়, বিদ্যালয় ও কলেজ শাখার শিক্ষার্থীরা বাড়ি ফিরে যাচ্ছে। অনেকে সম্মেলন মঞ্চের আশপাশে ঘোরাঘুরি করছে। শিক্ষকদের কক্ষ থেকে চেয়ার নিয়ে মঞ্চে ও প্যান্ডেলে বসানো হয়েছে। শ্রেণিকক্ষে অতিথিদের খাবার রাখা হয়েছে। মাঠের একপাশে অতিথিদের জন্য খাবার রান্না করা হচ্ছে। কিছুক্ষণ পরপর মিছিল নিয়ে কর্মী-সমর্থকেরা মাঠে প্রবেশ করছেন। মাঠে বিভিন্ন নেতাকর্মীদের সাথে স্কুল ড্রেস পরিহিত কিছু শিক্ষার্থীরা বসে আছেন চেয়ারে। অন্য শিক্ষার্থীরা বের হয়ে যাচ্ছেন বিদ্যালয় ও কলেজ থেকে। পরে একাধিক শিক্ষার্থীর সাথে কথা হলে তারা জানায়, সকালে তারা ক্লাসে গেলে পাঠদান না করিয়ে শুধু হাজিরা নিয়ে ছুটি দেওয়া হয় তাদের।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষার্থীর অভিভাবক বলেন, এই বিদ্যালয়ের অনুষ্ঠান ছাড়াও কয়দিন পরপরই বিদ্যালয়ের মাঠে রাজনৈতিক ও সামাজিক বিভিন্ন প্রোগ্রাম করা হয়। এতে পাঠদান বন্ধ থাকে এবং বিকট শব্দে আমাদের বাচ্চাদের পড়াশুনার ব্যাঘাত ঘটে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে বিষয়টি জানিয়েছেন উল্লেখ করে ভেদরগঞ্জ হেডকোয়ার্টার সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম বলেন, মাঠে স্বেচ্ছাসেবক লীগের সম্মেলন হওয়ার কারণে শিক্ষার্থীদের পাঠদান করানো যায়নি। কিন্তু বিদ্যালয় ছুটিও ঘোষণা করা হয়নি। ক্লাস করতে না পেরে শিক্ষার্থীরাই চলে গেছে। মাঠে সম্মেলন করার জন্য আমাদের কাছ থেকে কোনো অনুমতি কেউ নেয়নি।

জানতে চাইলে বিদ্যালয় ও কলেজের সভাপতি ভেদরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আব্দুল্লাহ আল মামুন স্থানীয় সাংবাদিকদের বলেন, ওই মাঠে সম্মেলন করার জন্য আমরা কোন অনুমতি দেইনি। সকালে প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষকের মাধ্যমে শুনেছি সম্মেলনের কথা। মাসিক সমাবেশ থাকার কারণে আর খোঁজ নেওয়া হয়নি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights