“শহীদি মার্চ, আমাদের প্রেরনা”
হাসিনা মরিয়ম

একটা সময় আমরা ভাবতাম আমাদের যুবসমাজ ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে, আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থা ধ্বংস, ইচ্ছাকৃত ভাবে মাদকের বিস্তার যাতে আমাদের কোমলমতি ভবিষ্যত প্রজন্ম ধ্বংস হয়ে যায়, স্বাংস্কৃতিক কাঠামোতে বিজাতীয় রাষ্ট্রের আগ্রসন,সব মিলিয়ে একটা স্থবির অথর্ব জাতি গঠনের নীল নকশা, আমাদের যুবসমাজকে ধ্বংস করার যে হীন অপচেষ্টা করেছিল আমাদের তথাকথিত রাজনীতিবিদ ও সুশীল সমাজ, সেই অপচেষ্টাকে নস্যাৎ করে দিয়েছে আমাদের এই ভবিষ্যত প্রজন্ম, আমরা আমাদের জেনারেশনকে ভুল বুঝেছিলাম,জুলাই /২৪ ওরা আমাদের সেই ভুল ভাঙিয়ে দিয়েছে,আমরা অবাক বিষ্ময়ে দেখলাম আমাদের এই ডিজিটাল জেনারেশনকে,ওরা যেন ফিনিক্স পাখির মতো উঠে দাঁড়িয়েছে,সমস্ত অপশক্তিকে নস্যাৎ করে দিয়ে ওরা ঘুরে দাঁড়িয়েছে,এই দেশ তথা ভবিষ্যত প্রজন্মকে রক্ষা করার জন্য, ওরা ভয়কে জয় করে বুক পেতে দিয়েছে,একের পর এক গুলিতে লুটিয়ে পড়েছে আমাদের কান্ডারীর মতো দেশের হাল ধরা যুবসমাজ কিন্তু পিছু হটেনি,কোথা থেকে এই উদ্দ্যম এসেছে ওদের, কোথায় পেয়েছে এই অসীম সাহস, একদিকে গুলিতে লুটিয়ে পড়ছে অন্যদিকে বুক চিতিয়ে এগিয়ে গেছে, কোনো বাঁধাই ওদের রুখতে পারেনি,ওদেরকে গুম করেছে, হত্যা করেছে, অমানুষিক নির্যাতন করেছে শাসকদল,তারপর ও পিছু হটেনি,এগিয়ে গেছে দেশ মাতৃকাকে রক্ষা করার জন্য, আমরাতো আশাহত হয়ে গিয়েছিলাম যে আমাদের দেশ সিকিম হয়ে যাচ্ছে লেন্দুপ দর্জির লোভ ও স্বার্থের কারণে, আমাদের প্রিয় দেশে আমরা আর খোলা আকাশের নিচে স্বাধীনভাবে নিঃশ্বাস নিতে পারব না,
আমরা বারবার আমাদের ঘুমন্ত যুবাদের বলেছি তোমারা দেশটাকে বাঁচাও, ওরা হয়তো শুরুতে একটু দিশেহারা ছিল কারণ ওদেরকে ঘুম পাড়িয়ে রাখার সকল প্রয়াস চালিয়েছে দূর্নীতিবাজ শাসকশ্রেণী, কিন্তু আমাদের যুবসমাজ জেগে উঠেছে দুর্নিবার আত্মবিশ্বাসে,ওরা শক্ত হাতে তুলে ধরেছে আমাদের পতাকা, যে পতাকাকে খামচে রেখেছিল শকুন ও হায়েনার দল,ওরা এগিয়ে গেছে রক্তের সাগর পেরিয়ে, অবশেষে ঐতিহাসিক জয় নিয়ে এসেছে এই জাতির জন্য, আগষ্ট /৫/২৪ আমাদের জীবনে স্বর্ণাক্ষরে লিখা থাকবে, আমাদের প্রজন্ম আমাদের স্বাধীনতা এনে দিয়েছে,আমরা আবার নিঃশ্বাস নিতে পারবো প্রান ভরে,
আমাদের সন্তানেরা বুঝতে পেরেছে তাদের ভবিষ্যত,আর আমাদের ভয় নেই, ওরাই এই দেশকে রক্ষা করবে শক্ত হাতে,
যারা আজ আমাদের মাঝে নেই, আমাদের যে সন্তানেরা অকপটে নিজের জীবন বিলিয়ে দিয়ে দেশ মাতৃকাকে রক্ষা করতে যেয়ে শহীদ হয়েছে, ওদের স্বরণে শহীদি মার্চ করেছে আপামর জনগণ,
দেয়াল চিত্রনে বিভিন্ন গ্রাফিতিতে ওরা আমাদের ইতিহাস ঐতিহ্য তুলে ধরেছে,ওরা ঘুমন্ত জাতিকে ঘুম থেকে জাগিয়ে তুলেছে, এই জাতিকে নতুন করে বাঁচতে শিখিয়েছে,কোথায় পেয়েছে তারা এই শব্দের বুনন,কি চমৎকার শব্দশৈলীতে ভরে গেছে আমাদের শহরের দেয়ালগুলো,মুগ্ধ বিস্ময়ে আমরা ওদের এই শব্দের মালা পড়ে যাই, কি চমৎকার ভাষায় ব্যঞ্জনা,
আমাদের যুবসমাজ আমাদের ভুল ভাঙিয়ে দিয়েছে,ওরা নিজস্ব স্বকীয়তায় দেশকে এক নতুন ভবিষ্যতের দিকে নিয়ে যাবে, এটা এখন সময়ের ব্যাপার মাত্র, ওরা জেগে আছে অতন্দ্রপ্রহরীর মতো, ওদের কে আর পিছু হটানো যাবে না,সামনে ওদের সোনালী ভবিষ্যত,অনেক ত্যাগের এই স্বাধীনতা ওরা নস্যাৎ হতে দিবে না,ওদের হাত ধরেই এগিয়ে যাবে আমাদের পরবর্তী প্রজন্ম,
বিনম্র শ্রদ্ধা জানাই আমরা আমাদের শহীদদের প্রতি, তোমরা বেঁচে থাকবে আমাদের মাঝে, পরবর্তী প্রজন্ম তোমাদের গভীর শ্রদ্ধার সাথে মনে রাখবে,এই দেশ তোমাদের, এই দেশ তোমাদের এই আত্মত্যাগ ইতিহাসের পাতায় স্বর্ণাক্ষরে লিখে রাখবে।।
