শহীদ পরিবারের সাথে মতবিনিময় সভার আয়োজন

গাজীপুর মহানগর সংবাদাতা মাওঃ নেছার আহমদ এম এ
গাজীপুর মহানগর জামাত ইসলাম বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনে শহীদ পরিবারের সাথে মতবিনিময় সভার আয়োজন করেন।
মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন, বাংলাদেশ জামাতে ইসলামির আমির ডাঃ শফিকুর রহমান সাহেব।
তিনি তার বক্তব্যে বলেন, ২০০৯ সালে আওয়ামীলীগ ক্ষমতায় আসার দুই মাসের মাথায় পিল খানায় হত্যাকান্ড চালিয়ে ৫৭ জন সেনাবাহিনী হত্যা করে।

গাজীপুর মহানগর শাখার আমীর অধ্যাপক মুহাম্মদ জামাল উদ্দিনের সভাপতিত্বে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। এ সময়
মঞ্চ থেকে নেমে এসে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলনে শাহাদাৎবরণকারী গাজীপুরের ২৬ শহীদ পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন এবং প্রত্যেকের হাতে নগদ দুই লক্ষ টাকাসহ অন্যান্য উপহার সমগ্রী তুলেদেন। আহতদের উন্নত চিকিৎসা নিশ্চিত করার জন্য সরকারের প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানান।
তিনি তার বক্তব্যে বলেন, সাবেক আমিরে জামাত মাওঃ মতিউর রহমান নিজামি সাহেবসহ আমাদের এগারো জন কেন্দ্রীয় নেতাদের ফাঁসির কাস্টে ঝুলিয়ে শেষ করে দেওয়া হয়েছে। সবশেষে কোরআনের পাখি আল্লামা দেলোয়ার হোসেন সাঈদীকে নাটক সাজিয়ে শহীদ করা হয়েছে। আমরা মহান রবের আদালতে বিচার চাই।
আমরা ফ্যাসিবাদ সরকারকে ক্ষমা করে দিয়েছি। কেউ যদি ব্যাক্তিগত ভাবে প্রতিশোধ নিতে চায়, তাহলে সে পারিবারিকভাবে মামলা করূক। আমরা দলীয়ভাবে কোন প্রতিশোধ নিবোনা। আমরা আমাদের নেতা কর্মীদের বলেছি, সাবধান কাহারও ইজ্জতে আগাত হানা যাবেনা। কাহারও ব্যাবসা প্রতিষ্ঠানে ভাংচুর চালানো যাবেনা। আমাদের নেতা কর্মীরা আমাদের কথা রেখেছেন।
তিনি তার বক্তব্যে আরও বলেন, বিগত আগত ফ্যাসিবাদরা যেন এখান থেকে শিক্ষা নেয়। ঐক্যের বিকল্প নেই, আমরা আঠারো কোটি মানুষকে একসাথে নিয়ে চলতে চাই।
তিনি বলেন, এই বিপ্লব ছাত্র জনতার। এই বিপ্লব মহান রবের পক্ষ থেকে একটি রহমত। আমরা বহু চেষ্টা করেছি, ফ্যাসিবাদ সরকারের জুলুম নির্যাতনের সামনে আমরা টিকে থাকতে পারিনাই। হাজার হাজার মানুষের চোখের পানি আর আর্তনাদ আল্লাহ কবুল করে এই বিজয় দান করেছেন। আমি বলেছি বিজয় উজ্জাপন করবো দুই রাকাআত নামাজ কিংবা একটি রোজা অথবা সদকা করার মধ্য দিয়ে।
আগামীর সুন্দর দেশ নিশ্চিত করতে হলে কে কোন বংশের, কোন দলের, কোন মতের,কোন ধর্মের এগুলো ভুলে যেতে হবে।
তিনি তার বক্তব্যে আরও বলেন, যারা শহীদ হয়েছেন, তাদের পরিবারের পক্ষ থেকে কমপক্ষে একজনকে সম্মান জনক চাকরি দিতে হবে। যাঁরা আহত হয়েছেন তাদেরকেও তাদের সামর্থ অনুযায়ী সম্মান জনক চাকরি দিতে হবে।
তিনি তার বক্তব্য আরও বলেন, আজকের এই বিশাল সমাবেশ সফল করার জন্য যারা রাত দিন অক্লান্ত পরিশ্রম করেছেন, তাদেরকে অসংখ্য ধন্যবাদ জানাচ্ছি। উপস্থিত সকলকে অভিনন্দন জানিয়ে আমি আমার বক্তব্য শেষ করলাম। আল্লাহ আমাদের সবাইকে আল্লাহর দ্বীন প্রতিষ্ঠার জন্য কবুল করুক।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights