শিক্ষার্থী পাচ্ছে না দুর্বল মেডিকেল কলেজ

জয়শ্রী ভাদুড়ী

মুন্সিগঞ্জের শ্রীনগরে অবস্থিত বিক্রমপুর ভূইয়া মেডিকেল কলেজ। চলতি বছর এ মেডিকেল কলেজে শিক্ষার্থী ভর্তির জন্য নির্ধারিত আসন ছিল ৫৭টি। স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তর জানিয়েছে ৫৭ আসনের বিপরীতে শিক্ষার্থী ভর্তি হয়েছে মাত্র ১৪ জন। এ রকম আরও ১৩টি বেসরকারি মেডিকেল কলেজে প্রায় অর্ধেক আসন ফাঁকা। শিক্ষার্থী-অভিভাবকদের বিমুখ হওয়ার কারণ হিসেবে পিছিয়ে থাকাকেই দায়ী করছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।

এ ব্যাপারে প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী (স্বাস্থ্য) অধ্যাপক ডা. সায়েদুর রহমান বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, বেসরকারি এ মেডিকেল কলেজগুলোর শিক্ষার্থী না পাওয়াতে এটাই বোঝা যায় যে তারা মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিতে ব্যর্থ হয়েছে। এর ফলে অভিভাবক এবং শিক্ষার্থীদের কাছে এগুলো পছন্দের কলেজ হয়ে উঠতে পারছে না। কলেজ মালিকদের এটা বুঝতে সহায়তা করবে যে তাদের কলেজে শিক্ষার্থীরা ভর্তি হতে চাইছে না। মানে পিছিয়ে থাকার কারণে শিক্ষার্থী পাচ্ছে না এই মেডিকেল কলেজগুলো।

স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, চলতি বছর এমবিবিএস ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নেন ১ লাখ ৩১ হাজার জন। এর মধ্যে পাস করেছে ৬০ হাজারের বেশি শিক্ষার্থী। সরকারি ৩৭টি মেডিকেল কলেজে ভর্তি শেষে বেসরকারি মেডিকেলে ভর্তি শুরু হয়। এখানে আসন সংখ্যা ৬ হাজার ২৯৩টি। সরকারি মেডিকেল কলেজের মতো করেই বেসরকারিতেও ভর্তি চলে অটোমেশন পদ্ধতিতে। শিক্ষার্থীরা তাদের মেধাক্রম অনুযায়ী কলেজ বাছাইয়ের সুযোগ পান। এতে ৬৭টি মেডিকেল কলেজে ভর্তি হয়েছে ৫ হাজার ৮৫৬ জন। ফাঁকা রয়েছে ৪৩৭টি আসন। অটোমেশন চালু হওয়ার আগে শিক্ষার্থী ভর্তির কর্তৃত্ব ছিল কলেজের হাতে। এখন তা স্বয়ংক্রিয় হওয়ায় বেড়েছে স্বচ্ছতা ও মেধাবী শিক্ষার্থী ভর্তির হার। কিন্তু তাতে অসুবিধায় পড়েছে পিছিয়ে থাকা মেডিকেল কলেজগুলো। স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তর জানিয়েছে, শিক্ষার্থী ভর্তির হারে পিছিয়ে রয়েছে ১৩টি বেসরকারি মেডিকেল কলেজ। এর মধ্যে রয়েছে, কিশোরগঞ্জের প্রেসিডেন্ট আবদুল হামিদ মেডিকেল কলেজ, বিক্রমপুর ভূইয়া মেডিকেল কলেজ, সিটি মেডিকেল কলেজ, প্রাইম মেডিকেল কলেজ, মার্কস মেডিকেল কলেজ, পার্কভিউ মেডিকেল কলেজ, আশিয়ান মেডিকেল কলেজ, সাহাবউদ্দিন মেডিকেল কলেজ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া মেডিকেল কলেজ, আহ্ছানিয়া মিশন মেডিকেল কলেজ, সাউথ অ্যাপোলো মেডিকেল কলেজ, মনোয়ারা সিকদার মেডিকেল কলেজ এবং আদ-দ্বীন আকিজ মেডিকেল কলেজ।

এ ব্যাপারে বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিলের (বিএমডিসি) সভাপতি অধ্যাপক ডা. সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘বেসরকারি মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থীরা অর্থ খরচ করে পড়াশোনা করেন। তাই তারা চাইবেন একটা মানসম্পন্ন মেডিকেল কলেজে শিক্ষা লাভ করতে। সেক্ষেত্রে যেসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান মানসম্পন্ন নয়, সেগুলোর চাহিদা দিনে দিনে কমে আসবে। স্বাভাবিকভাবেই যারা মান নিশ্চিত করতে পারবে না, শিক্ষার্থীর অভাবে একসময় বন্ধ হয়ে যাবে।’

মেডিকেল শিক্ষার মানোন্নয়নের বিষয়ে চিকিৎসাবিজ্ঞানী ও শিক্ষাবিদ অধ্যাপক লিয়াকত আলী বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, সর্বোত্তম শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিতে মেডিকেল কলেজগুলোতে মনিটরিং বাড়াতে হবে। এ জন্য অ্যাক্রেডিটেশন কাউন্সিল করা হয়েছে। অ্যাক্রেডিটেশন কাউন্সিলের কাজ হবে বস্তুনিষ্ঠভাবে বিশ্লেষণ করে প্রশাসনিক কর্তৃপক্ষকে জানানো। তারা সমস্যাগুলো শনাক্ত করে মেডিকেল কলেজ কিংবা স্বাস্থ্য শিক্ষা কর্তৃপক্ষকে জানাবে এবং দ্রুত সেগুলো সমাধান করতে হবে। মেডিকেল শিক্ষায় গাফিলতি হলে দেশের মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হবে।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights