শীতের পাখি বড় সাদাকপালি রাজহাঁস
দীপংকর ভট্টাচার্য লিটন, শ্রীমঙ্গল
শীতের আগমনে আমাদের দেশের জলাভূমি, হাওড়-বাঁওড় ও চরাঞ্চলে যে পরিযায়ী পাখিদের আগমন ঘটে, তাদের মধ্যে বড় সাদাকপালি রাজহাঁস একটি অত্যন্ত অভিজাত ও আকর্ষণীয় অতিথি পাখি। এই পাখির ইংরেজি নাম Greater White-fronted Goose .আর বৈজ্ঞানিক নাম Anser albifrons. এই রাজহাঁসের চঞ্চু ও মাথার মাঝখানে সাদা থাকার কারণে এর নামকরণ হয়েছে বড় সাদাকপাল রাজহাঁস। আকৃতিতে অনেক বড় হওয়ায় দূর থেকে এদের চমৎকার দেখায়।
এরা হাজার হাজার মাইল পথ পাড়ি দিয়ে হিমশীতল মেরু অঞ্চলের প্রজনন এলাকা থেকে দক্ষিণ এশিয়ার তুলনামূলক উষ্ণ অঞ্চল আমাদের বাংলাদেশে এরা আসে একটু উষ্ণতার খোঁজে। আবার শীতের শেষে তারা চলে নিজ আবাসে। তবে আমাদের দেশে নিয়মিত এদের দেখা মেলে না। সম্প্রতি চাঁপাইনবাবগঞ্জের একটি বিলে বড় সাদাকপালি রাজহাঁসের দেখা পান শৌখিন ফটোগ্রাফার শাকিল আহমেদ, তুলে নেন ছবি।
এ রাজহাঁসের শরীর ধূসর বাদামি থেকে গাঢ় বাদামি হয়। পেটের অংশে হালকা গাঢ় ধূসর রঙের ছোপ ছোপ কালোর মিশেল রয়েছে। লেজের দিকটা সাদা। কপালে সাদা দাগ রয়েছে। দৈর্ঘ্যে ৬৪-৮১ সেমি। পা হলদেটে। পালক প্রধানত গাঢ় ধূসর। পাখার ওপরের সাদা সরু রেখা চোখে পড়ে। ঠোঁট গোলাপি। স্ত্রী পুরুষ দেখতে প্রায় একই রকম। এরা সাধারণত দলবদ্ধভাবে চলাফেরা করে। খোলা জলাভূমি, ধানখেত ও চরাঞ্চলে খাদ্যের সন্ধান করে। ঘাস, জলজ উদ্ভিদ ও কচি গাছের অংশ এদের প্রধান খাবার। এপ্রিল জুন এদের প্রজননকাল। এ সময় ঘাস জাতীয় জমিতে বাসা বাঁধে। ৩-৮টি ডিম দেয়। ২২-২৭ দিনে ডিম ফুটে ছানা বের হয়। বাচ্ছারা এক বছর মা-বাবার সঙ্গেই থাকে। আবার বড় হয়ে অনেক রাজহাঁস সারা জীবন মা-বাবার সঙ্গেই থেকে যায়। একসঙ্গেই পরিযায়ী হয়। ফটোগ্রাফার শাকিল আহমেদ বলেন, শীতকালে বাংলাদেশে কিছু উপযুক্ত পরিবেশ ও নিরাপদ জলাভূমি এলাকায় এদের উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়। জলাভূমি ধ্বংস, অবৈধ শিকার এদের জন্য বড় হুমকি। প্রকৃতির এই দূরদেশি অতিথিদের নিরাপদ আশ্রয় নিশ্চিত করা আমাদের সবার দায়িত্ব। জলাভূমি সংরক্ষণ ও পরিযায়ী পাখি রক্ষার মাধ্যমে আমরা শুধু জীববৈচিত্র্যই নয়, বরং আমাদের প্রকৃতির ভারসাম্যও রক্ষা করতে পারি।
