শীর্ষ জেনারেলদের বরখাস্তের পর নেতৃত্ব সংকটে মার্কিন সেনাবাহিনী
অনলাইন ডেস্ক
ইসরায়েলের সঙ্গে মিলে ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করছে যুক্তরাষ্ট্র। ঠিক এমন সময়ে বেশ কয়েকজন শীর্ষ জেনারেলকে সরিয়ে মার্কিন সেনাবাহিনীতে বড় ধরনের নেতৃত্ব সংকট তৈরি করেছেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ।
গত এপ্রিলে জেনারেল র্যান্ডি জর্জকে মাত্র ১৫ সেকেন্ডের ফোনালাপে বরখাস্ত করেন তিনি। এরপর থেকে সেনাপ্রধানের পদটি শূন্য। জর্জের সম্ভাব্য তিন উত্তরসূরিসহ মোট ছয়জন শীর্ষ কর্মকর্তাকে ইতিমধ্যে সরানো হয়েছে। দ্য নিউইয়র্ক টাইমসের মতে, সহসাই নতুন কাউকে নিয়োগের কোনো লক্ষণ নেই।
ইরাক ও আফগানিস্তান যুদ্ধের পর মার্কিন সেনাবাহিনী এখন সবচেয়ে ব্যস্ত সময় পার করছে। তারা মধ্যপ্রাচ্যে ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র থেকে মার্কিন সেনাদের রক্ষা এবং ইউক্রেনকে গোয়েন্দা সহায়তা দিচ্ছে। পাশাপাশি ইরান ও রাশিয়ার অত্যাধুনিক ড্রোনের ক্রমবর্ধমান ব্যবহারও মোকাবিলা করছে তারা।
এর মধ্যেই সেনাবাহিনীতে চার-তারকা জেনারেলের সংখ্যা ১০ থেকে পাঁচে নেমে এসেছে। ড্রোন যুদ্ধের প্রস্তুতি ও ইউক্রেন যুদ্ধ থামানোর প্রচেষ্টায় জর্জের সহযোগী সেনাসচিব ড্যানিয়েল পি ড্রিসকলও আগামী মাসগুলোতে পদত্যাগ করতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এছাড়া প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা পরিচালনাকারী কমান্ডের প্রধান জেনারেল ডেভিড এম হোডন এবং সহকারী সেনাপ্রধান জেনারেল জেমস মিঙ্গাসকেও অকারণে সরানো হয়। মিঙ্গাসের জায়গায় নিয়োগ পান হেগসেথের সাবেক সামরিক সহকারী জেনারেল ক্রিস্টোফার লেনেভ। বর্তমানে লেনেভ একাই সেনাপ্রধান ও সহকারী—উভয় চার-তারকা পদের দায়িত্ব সামলাচ্ছেন।
এমন পরিস্থিতিতে রিপাবলিকান সিনেটর জনি আর্নস্ট সতর্ক করে বলেছেন, প্রশিক্ষণের ঘাটতি ও শৃঙ্খলার অভাবের মূল্য রক্ত দিয়ে চোকাতে হবে। ডেমোক্র্যাট প্রতিনিধি প্যাট রায়ানের মতে, যুদ্ধের সময় এমন পরীক্ষিত নেতাদের সরিয়ে দেওয়া মানে সেনাদের নিরাপত্তাহীনতায় ফেলা এবং জয়ের সম্ভাবনা কমিয়ে দেওয়া।
