শুধু সার্টিফিকেট নয়, দক্ষতা ও নৈতিক শিক্ষায় গুরুত্ব দিতে হবে: প্রতিমন্ত্রী হাবিব

অনলাইন ডেস্ক
শিক্ষার লক্ষ্য শুধু সার্টিফিকেট অর্জন নয়, শিক্ষার্থীদের দক্ষতা, বাস্তব জীবনের সক্ষমতা ও নৈতিক মূল্যবোধে সমৃদ্ধ করে তোলা বলে মন্তব্য করেছেন রেলপথ মন্ত্রণালয় এবং সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ হাবিব। তিনি বলেন, সার্টিফিকেটনির্ভর শিক্ষা থেকে দক্ষতাভিত্তিক, কর্মমুখী ও নৈতিক শিক্ষায় উত্তরণ ঘটাতে হবে। শিক্ষা থেকে দক্ষতা, দক্ষতা থেকে কর্মসংস্থান এবং কর্মসংস্থান থেকে আত্মনির্ভরতার পথে শিক্ষার্থীদের প্রস্তুত করতে হবে।

শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) সকালে মান্ডা হায়দার আলী স্কুল অ্যান্ড কলেজের কৃতী শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

হাবিবুর রশিদ হাবিব বলেন, ‘তোমরা আগামী দিনের বাংলাদেশ। আমরা তোমাদের চোখে আগামী দিনের বাংলাদেশ দেখতে চাই। তোমাদের হাত ধরেই বাংলাদেশ গড়তে চাই। বাংলাদেশকে বিশ্ব দরবারে উন্নত সমৃদ্ধ রাষ্ট্র হিসেবে পরিচিত করতে এখন থেকেই তোমাদের প্রস্তুতি নিতে হবে।’

তিনি বলেন, শুধু জিপিএ-৫ অর্জনের নেশায় নিজেকে সীমাবদ্ধ রাখলে হবে না। ধর্মীয় অনুশাসন, সামাজিক মূল্যবোধ, খেলাধুলা, সাহিত্য-সংস্কৃতির মতো কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে নিজেকে বিকশিত করতে হবে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, মেধার পাশাপাশি কঠোর পরিশ্রম, নিষ্ঠা, দৃঢ় মনোবল এবং ‘ইনশাআল্লাহ আমি পারব, আমিই জয় করব, আমি জয়ী হব’ এই মনোভাব নিয়ে সামনে এগোতে হবে। মনে রেখো, তোমরা আমাদের আগামীর স্বপ্ন। এই স্বপ্ন বাস্তবায়নে দেশের সব সমস্যার সমাধানে তোমরা হবে অধিনায়ক। ইনশাআল্লাহ তোমরা পারবে, তোমরা সফল হবে।

শিক্ষার লক্ষ্য সম্পর্কে তিনি বলেন, শিক্ষা একজন নাগরিকের মৌলিক মানবাধিকার এবং ব্যক্তি, সমাজ ও রাষ্ট্রের টেকসই উন্নয়নের অন্যতম প্রধান ভিত্তি। শিক্ষা এমন হতে হবে, যা শিক্ষার্থীদের কর্মসংস্থানের জন্য প্রস্তুত করবে, আত্মনির্ভর হতে সাহায্য করবে এবং পরিবর্তনশীল বিশ্বের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেওয়ার সক্ষমতা তৈরি করবে। শিক্ষার মাধ্যমে দক্ষতা, বাস্তব জীবনের সক্ষমতা ও সামাজিক অগ্রগতি নিশ্চিত করতে হবে।

বর্তমান সরকারের মূল লক্ষ্য সম্পর্কে হাবিবুর রশিদ হাবিব বলেন, সার্টিফিকেটনির্ভর শিক্ষা থেকে দক্ষতাভিত্তিক, কর্মমুখী ও নৈতিক শিক্ষায় উত্তরণ। শিক্ষা থেকে দক্ষতা, দক্ষতা থেকে কর্মসংস্থান এবং কর্মসংস্থান থেকে আত্মনির্ভরতা, এই ধারায় শিক্ষার্থীদের প্রস্তুত হতে হবে।

হাবিবুর রশিদ হাবিব বলেন, ‘আমাদের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান যেমন গণতান্ত্রিক, তেমন জনবান্ধব, যেমন মানবিক, তেমনই তিনি শিক্ষাবান্ধব। তার নেতৃত্বে বর্তমান সরকার একটি মানসম্মত আধুনিক শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে অঙ্গীকারবদ্ধ।’

তিনি বলেন, এ লক্ষ্যে শিক্ষা খাতে বাজেট বাংলাদেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ জিডিপির ২ শতাংশ বরাদ্দ দিয়েছেন এবং বর্তমান সরকারের মেয়াদে ক্রমান্বয়ে তা ৫ শতাংশে উন্নীত করার পরিকল্পনা ও প্রতিশ্রুতি রয়েছে।

প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, শিক্ষা হবে ভবিষ্যৎ বাংলাদেশ গঠনের মূল ভিত্তি। এই ভিত্তি রচনায় বিএনপি সরকার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে আধুনিক ল্যাব, মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম, স্কুল ফিডিং কার্যক্রম ও শিক্ষাবৃত্তি বিতরণের পাশাপাশি পাঠদান মনিটরিং, নকলমুক্ত পরিবেশে পরীক্ষা, শিক্ষার্থীদের খেলাধুলায় সম্পৃক্ততা, নতুন শিক্ষক নিয়োগ ও প্রশিক্ষণ এবং এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের অবসরকালীন সুবিধা সহজ ও দুর্নীতিমুক্ত করার উদ্যোগ নিয়েছে। এসব কার্যক্রম শিক্ষার্থীদের প্রজন্মকে প্রস্তুত করার দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অংশ বলেও জানান তিনি।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘করবো কাজ-গড়বো দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’, ‘সুশিক্ষায় গড়বো দেশ-সবার আগে বাংলাদেশ’ প্রধানমন্ত্রীর এই প্রত্যয়কে ধারণ করে আমরা সবাই মিলে একটি উৎপাদনমুখী শিক্ষা ব্যবস্থা ও ন্যায়বিচারের সমাজ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে এগিয়ে যাব।

কৃতী শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘আজ তোমাদের যে সম্মাননা ও সার্টিফিকেট প্রদান করা হচ্ছে, এটা শুধু একটি আনুষ্ঠানিক ও প্রাতিষ্ঠানিক সংবর্ধনা নয়। এটা তোমাদের মেধা, প্রজ্ঞা, দক্ষতা, যোগ্যতা ও পরিশ্রমের স্বীকৃতি।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights