শুভ্রতা ছড়াচ্ছে কাশফুল
দীপংকর ভট্টাচার্য লিটন, শ্রীমঙ্গল
চারদিকে উঁচু-নিচু পাহাড়। পাহাড়ের বুকচিরে বয়ে গেছে ছড়া। ছড়ার দুই পাশে জেগে উঠেছে ধু-ধু বালুচর। আর এ বালুচরে দোল খাচ্ছে কাশফুল। ছড়াচ্ছে শ্বেত শুভ্রতা। নীল আকাশে ভেসে বেড়াচ্ছে সাদা মেঘের ভেলা। পাহাড়ের ভাঁজে ভাঁজে রয়েছে সবুজ চায়ের বাগান। বাগানে ঠায় দাঁড়িয়ে আছে ছায়া বৃক্ষরাজি। প্রকৃতির এ অপরূপ সৌন্দর্যের দেখা মেলে মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলের ‘কাশবনে’। ভুরভুরিয়া চা বাগানের ভিতর দিয়ে প্রবাহিত প্রাকৃতিক ছড়ার পাড়ে ফুটে ওঠে এ কাশফুল। এর অবস্থান শহর থেকে প্রায় দুই কিলোমিটার দূরে ভানুগাছ সড়কের বেলতলী এলাকায়। শরতে প্রকৃতির এ অনিন্দ্য সৌন্দর্য দেখতে প্রতিদিনই এই কাশবনে এসে ভিড় করছেন পর্যটকরা। মুগ্ধ হচ্ছেন প্রকৃতির স্নিগ্ধ কোমল মোহনীয় রূপ দেখে।
সরেজমিন দেখা যায়, ছড়ার দুই পাড়ে প্রায় এক কিলোমিটার এলাকাজুড়ে কাশফুল ফুটেছে। আর এ সাদা কাশফুল ঘিরে আছে সবুজ প্রকৃতি। দূর থেকে দেখলে মনে হয় যেন সবুজের বুুকে সাদা চাদর বিছানো। মনের এ ভ্রম ভেঙে যায়, একটু কাছে গেলেই। স্থানীয় প্রকৃতিপ্রেমী ছাড়াও দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা পর্যটকরা সড়কে গাড়ি রেখে পাহাড়ের ডাল দিয়ে নেমে যাচ্ছেন কাশবনে। পা ভিজিয়ে নিচ্ছেন ছড়ায় স্বচ্ছ পানিতে। প্রিয়জনদের সঙ্গে নিয়ে হেঁেট বেড়াচ্ছেন ছড়ার জেগে ওঠা বালুচরে। কেউ পাহাড়ে উঠে সখ্য করছেন কাশফুলের সঙ্গে। কেউবা আনন্দে হারিয়ে যাচ্ছেন কাশবনে। কেউ তুলছেন ছবি। কেউ আবার নিজের মোবাইলে তোলা সেই ছবি দেখাচ্ছে প্রিয়জনকে। আর ছড়ার পানিতে নেমে খেলা করছে শিশু-কিশোররা। প্রতি বছর আগস্টের মাঝামাঝি সময়ে এখানে কাশফুল ফুটতে শুরু করে। আগস্টের শেষ ও সেপ্টেম্বর মাসজুড়ে থাকে এর পুরো সৌন্দর্য। অক্টোবরের শুরু থেকে কাশফুল ঝরে পড়তে শুরু হয়।
