শৃঙ্খলা ভঙ্গের দায়ে চমেকের ৭৫ শিক্ষার্থীকে বহিস্কার

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম

চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) ক্যাম্পাসে শৃঙ্খলা ভঙ্গ, ছাত্রাবাসে অবৈধ অনুপ্রবেশ ও রুম দখল, অঙ্গীকার ভঙ্গ, শিক্ষার পরিবেশ নষ্ট, মারধর ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে যুক্ত থাকার অভিযোগে বিভিন্ন ব্যাচের ৭৫ জন শিক্ষার্থীকে বিভিন্ন মেয়াদে বহিস্কার করা হয়েছে। এর মধ্যে এমবিবিএস বিভিন্ন ব্যাচের ৫৯ জন ও বিডিএসের ১৬ জন। তাছাড়া ১১ জনকে অব্যাহতি দেয়া হয়।

সোমবার কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন স্বাক্ষরিত চিঠিতে এ বহিস্কারাদেশ দেয়া হয়।

চমেক সূত্রে জানা যায়, কিছু শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে বিভিন্ন শৃঙ্খলা বিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগের প্রেক্ষিতে কলেজ কর্তৃপক্ষ ১২ সদস্য বিশিষ্ট একটি কমিটি গঠন করে। তদন্ত কমিটি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তদন্তের কাজ সম্পন্ন করে প্রতিবেদন জমা দেয়। গত রবিবার তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন নিয়ে কলেজের একাডেমিক কাউন্সিলের সভা অনুষ্ঠিত হয়। তদন্ত কমিটির সুপারিশের প্রেক্ষিতে একাডেমিক কাউন্সিল ৭৫ জনকে বহিস্কার করে। এর মধ্যে ৭ জনকে দুই বছরের জন্য, ১৫ জনকে দেড় বছরের জন্য, ৩৯ জনকে এক বছরের জন্য ও ১৪ জনকে ৬ মাসের জন্য বহিস্কার করা হয়। একই সঙ্গে ১১ জনকে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মুচলেকা সাপেক্ষে শাস্তি থেকে অব্যাহত প্রদান করা হয়।
চমেক হাসপাতালের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন বলেন, তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন, শিক্ষার্থীদের বক্তব্য, প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার তথ্য, গোয়েন্দা তথ্য যাচাই ও অন্যান্য সূত্রে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী পরিলক্ষিত হয় যে, অভিযুক্ত শিক্ষার্থীদের যথেচ্ছাচারী আচরণের কারণে কলেজের সুষ্ঠু শিক্ষার পরিবেশ চরমভাবে বিঘ্নিত হয়েছে। তারা সঙ্গবদ্ধ হয়ে কলেজ ক্যাম্পাস ও ছাত্রাবাসসমুহে সংঘাতময় পরিস্থিতি সৃষ্টি করে। ইতিপূর্বে কিছু শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ এলাকায় সংঘটিত সংঘাতের কারণে বিভিন্ন মেয়াদে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। শাস্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীরা কলেজ ক্যাম্পাস ও ছাত্রাবাসের ছাত্র রাজনীতি নিষিদ্ধ থাকার পরও ছাত্র রাজনীতির নাম ভাঙিয়ে একক কর্তৃত্ব, গোষ্ঠীগত আধিপত্য এবং ব্যক্তিগত হিরোইজম প্রদর্শনের জন্য বিভিন্ন নিন্দনীয় ঘটনা ঘটায়। তাই শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে ছাত্রাবাসে অবৈধ অনুপ্রবেশ, অবৈধভাবে রুম দখল, অঙ্গীকার ভঙ্গসহ কলেজের শিক্ষার পরিবেশ নষ্ট, মারধর ও সন্ত্রাসী কর্মকান্ডের যুক্ত থাকা সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় বিধি মোতাবেক শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights