শেষ হচ্ছে দেশম অধ্যায়
অনলাইন ডেস্ক
স্পেনের কাছে সেমিফাইনালে হারের সঙ্গে শুধু বিশ্বকাপের স্বপ্নই ভাঙেনি ফ্রান্সের, শেষ হয়েছে জাতীয় দলের ইতিহাসের এক সফল অধ্যায়েরও। দীর্ঘ ১৪ বছর পর ফরাসি দলের প্রধান কোচের দায়িত্ব ছাড়ছেন দিদিয়ের দেশম। তার বিদায়ের মধ্য দিয়ে শুরু হতে যাচ্ছে জিনেদিন জিদানের নতুন যুগ।
বিশ্বকাপ শুরুর আগেই দেশম ঘোষণা দিয়েছিলেন, আসর শেষে তিনি আর দায়িত্বে থাকবেন না। স্পেনের বিপক্ষে ২-০ গোলের পরাজয়ের পর সেই ঘোষণাই বাস্তবে রূপ নিতে যাচ্ছে। তবে বিদায়ের আগে তার সামনে রয়েছে আরেকটি ম্যাচ। তৃতীয় স্থান নির্ধারণী লড়াইয়ে শেষবারের মতো ফ্রান্সের ডাগআউটে দেখা যাবে এই সফল কোচকে।
২০১২ সালে জাতীয় দলের দায়িত্ব নেওয়ার সময় ফ্রান্স ছিল পুনর্গঠনের পথে। দেশমের হাত ধরে দলটি ধীরে ধীরে ফিরে পায় নিজেদের শক্তির পরিচয়। তার নেতৃত্বে ২০১৪ বিশ্বকাপে কোয়ার্টার ফাইনাল, ২০১৮ সালে বিশ্বকাপ জয়, ২০২২ সালে রানার্সআপ এবং ২০২৬ সালে সেমিফাইনালে পৌঁছায় ফ্রান্স। টানা চারটি বিশ্বকাপেই দলকে শেষের দিক পর্যন্ত নিয়ে যাওয়ার বিরল কৃতিত্ব দেখিয়েছেন তিনি।
এবারের বিশ্বকাপে দেশমের সামনে ছিল আরও বড় এক ইতিহাস গড়ার সুযোগ। টানা তৃতীয়বার ফ্রান্সকে ফাইনালে তুলতে পারলে সেটি হতো বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম স্মরণীয় অর্জন। আর শিরোপা জিতলে খেলোয়াড় ও কোচ মিলিয়ে তিনটি বিশ্বকাপ জয়ের অনন্য কীর্তিতে পৌঁছে যেতেন তিনি। কিন্তু স্পেনের কাছে সেমিফাইনালে হার সেই সম্ভাবনার ইতি টেনেছে।
ফরাসি ফুটবলে দেশমের নাম স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে। ১৯৯৮ সালে অধিনায়ক হিসেবে বিশ্বকাপ জিতেছিলেন তিনি। দুই দশক পর ২০১৮ সালে কোচ হিসেবেও দেশকে এনে দেন ফুটবলের সবচেয়ে মর্যাদার শিরোপা। ২০২২ সালে ফাইনালে আর্জেন্টিনার কাছে নাটকীয় হারে স্বপ্নভঙ্গ হলেও দলকে ধরে রেখেছিলেন সাফল্যের ধারায়।
তার কোচিং অধ্যায়ের পরিসংখ্যানও ঈর্ষণীয়। ১৮৫ ম্যাচে দায়িত্ব পালন করে পেয়েছেন ১২০ জয়। ড্র হয়েছে ৩৫টি ম্যাচ, আর হার মাত্র ৩০টিতে।
দেশমের বিদায়ের পর ফ্রান্সের দায়িত্ব নিতে যাচ্ছেন দেশের আরেক কিংবদন্তি জিনেদিন জিদান। খেলোয়াড় হিসেবে বিশ্বকাপ জয়ের স্মৃতি আছে তার, কোচ হিসেবেও ক্লাব ফুটবলে অসাধারণ সাফল্য অর্জন করেছেন। এবার জাতীয় দলের দায়িত্ব নিয়ে নতুন স্বপ্ন বুনবেন তিনি।
ফরাসি ফুটবল এখন এক যুগের সমাপ্তি এবং আরেক যুগের সূচনার অপেক্ষায়। দেশমের গড়া শক্ত ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়ে জিদানের লক্ষ্য হবে দলকে নতুন উচ্চতায় পৌঁছে দেওয়া এবং আবারও বিশ্ব ফুটবলের শীর্ষ আসনে ফিরিয়ে নেওয়া।
