শ্যামনগরে খোয়াড় থেকে ১০ ফুটের অজগর উদ্ধার
সাতক্ষীরা প্রতিনিধি
সাতক্ষীরার শ্যামনগরে একটি কৃষকের হাঁস-মুরগির খোয়াড় থেকে প্রায় ১০ ফুট লম্বা একটি অজগর উদ্ধার করা হয়েছে। অজগরটি খোয়াড়ে ঢুকে ছয়টি হাঁস-মুরগি খেয়ে সেখানে কুণ্ডলী পাকিয়ে ছিল। পরে বন বিভাগ ও কমিউনিটি প্যাট্রোল গ্রুপের (সিপিজি) সদস্যরা সাপটিকে উদ্ধার করে সুন্দরবনের গহিন অরণ্যে অবমুক্ত করেন।
বুধবার সকালে উপজেলার বুড়িগোয়ালিনী গ্রামের মুক্তার গাজীর বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। তিনি ওই গ্রামের আতিয়ার রহমানের ছেলে।
পরিবারের সদস্যরা জানান, ভোরে মুক্তার গাজীর স্ত্রী হাঁস-মুরগি বের করার জন্য খোয়াড়ের দরজা খুলতে যান। এ সময় দরজার কাছে একটি মৃত মুরগি পড়ে থাকতে দেখে তাঁর সন্দেহ হয়। পরে খোয়াড়ের ভেতরে তাকিয়ে তিনি একটি বড় অজগর দেখতে পান। এতে আতঙ্কিত হয়ে তিনি অচেতন হয়ে মাটিতে পড়ে যান। তাঁর চিৎকারে পরিবারের সদস্য ও প্রতিবেশীরা এসে তাঁকে উদ্ধার করেন।
খোয়াড়ে বড় অজগর ঢোকার খবর ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক দেখা দেয়। পরে বন বিভাগ ও সিপিজি সদস্যদের খবর দেওয়া হয়। খবর পেয়ে বুড়িগোয়ালিনী ফরেস্ট স্টেশনের কর্মকর্তা এরফান উদ্দিনের নেতৃত্বে বন বিভাগের একটি দল ঘটনাস্থলে যায়। তাঁরা সতর্কতার সঙ্গে অজগরটিকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করে ফরেস্ট স্টেশনে নিয়ে যান।
বুড়িগোয়ালিনী ফরেস্ট স্টেশন কর্মকর্তা এরফান উদ্দিন বলেন, অজগরটির দৈর্ঘ্য প্রায় ১০ ফুট এবং ওজন আনুমানিক ৩০ কেজি। খোয়াড়ে ঢোকার পর এটি ছয়টি হাঁস-মুরগি খেয়ে ফেলেছিল। প্রাথমিকভাবে সাপটিকে হেফাজতে রেখে পর্যবেক্ষণ করা হয়। পরে বন বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুযায়ী অজগরটিকে সুন্দরবনের গহিন অরণ্যে অবমুক্ত করা হয়েছে।
তিনি বলেন, লোকালয়ে কোনো বন্যপ্রাণী চলে এলে আতঙ্কিত হয়ে সেটিকে হত্যা বা আঘাত করা উচিত নয়। এ ধরনের পরিস্থিতিতে দ্রুত বন বিভাগকে খবর দিতে হবে। সুন্দরবন ও এর বন্যপ্রাণী রক্ষায় স্থানীয় মানুষের সচেতনতা ও সহযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ।
