শ্রাবণের বৃষ্টিতে দেখা মিলল দুর্লভ জল ময়ূরের

নজরুল মৃধা, রংপুর
অপূর্ব সৌন্দর্যের অধিকারী দুর্লভ আবাসিক পাখি জল ময়ূরের দেখা মিলেছে রংপুরের কাউনিয়া উপজেলায়। শ্রাবণের বৃষ্টিভেজা পরিবেশে জলাভূমিতে বিচরণরত এই বিরল পাখির ছবি তুলেছেন বন্যপ্রাণী আলোকচিত্রী, কবি ও লেখক রানা মাসুদ।

জল ময়ূর বাংলাদেশের অন্যতম দুর্লভ আবাসিক পাখি। সহজে এদের দেখা মেলে না। এই পাখির বিশেষ বৈশিষ্ট্য হলো—স্ত্রী জল ময়ূর ডিম পেড়ে চলে যায়, আর পুরুষ পাখিই ডিমে তা দিয়ে ছানা ফোটানো থেকে শুরু করে তাদের লালন-পালনের দায়িত্ব নেয়।

প্রজনন মৌসুমে পুরুষ জল ময়ূর ভাসমান জলজ উদ্ভিদের পাতার ওপর বাসা তৈরি করে। এরপর ২৩ থেকে ২৬ দিন ডিমে তা দিয়ে ছানা ফোটায়। ডিম থেকে বের হওয়ার পরপরই ছানারা হাঁটতে, সাঁতার কাটতে ও পানিতে ডুব দিতে পারে। প্রায় দুই মাস পর্যন্ত বাবার তত্ত্বাবধানেই বেড়ে ওঠে তারা।

পাখিপ্রেমীদের কাছে জল ময়ূর তার রং ও সৌন্দর্যের জন্য বিশেষ আকর্ষণের। স্থানভেদে এটি পদ্মপিপি বা মেওয়া নামেও পরিচিত। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার এই পাখি বাংলাদেশের হাওর, বিল, হ্রদ ও মিঠাপানির জলাভূমিতে বসবাস করে।

জল ময়ূর সাধারণত ভাসমান পাতার ওপর হেঁটে জলজ উদ্ভিদের মধ্যে থাকা পোকামাকড়, অমেরুদণ্ডী প্রাণী, কচি পাতা, অঙ্কুর ও বীজ খেয়ে জীবন ধারণ করে। লম্বা লেজসহ এদের দৈর্ঘ্য প্রায় ৩৯ থেকে ৫৮ সেন্টিমিটার পর্যন্ত হয়।

প্রজননকালে জল ময়ূরের সৌন্দর্য আরও বেড়ে যায়। এ সময় পুরুষ ও স্ত্রী উভয় পাখির মাথা, গলা ও ডানার পালকে সাদা, সোনালি-হলুদ ও বাদামি রঙের মিশ্রণ দেখা যায়। তাদের ঠোঁট নীলচে, চোখ বাদামি এবং পা নীলাভ-কালো হয়ে থাকে।

ছবির কারিগর রানা মাসুদ বলেন, জল ময়ূর আবাসিক পাখি হলেও এখন দুর্লভ পর্যায়ে চলে গেছে । অনেক দিন থেকে আশা ছিল জলময়ূরের ছবি তোলার। অবশেষ এর দেখা পেলাম কাউনিয়ায়। দেখা ও ছবি তোলার অনুভূতি ভাষায় প্রকাশ করা যাবে না।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights