সত্যিই কি হামাসের অভিযানে সহযোগিতা করেছে ইসরায়েলের কিছু সেনা?

অনলাইন ডেস্ক

ফিলিস্তিন ও ইসরায়েলের মধ্যে নজিরবিহীন যুদ্ধ চলছে। গত শনিবার ভোরে ইসরায়েলের অভ্যন্তরে ঢুকে অভিযান শুরু করে গাজাভিত্তিক ফিলিস্তিনি প্রতিরোধ আন্দোলন হামাসের যোদ্ধারা। এতদিন ইসরায়েলের বিপক্ষে শুধুমাত্র প্রতিরোধ ব্যবস্থা নিয়েছে ফিলিস্তিন। শনিবারই প্রথমবারের মতো আগে ইসরায়েলে হামলা চালিয়েছে ফিলিস্তিন কর্তৃপক্ষ।

তবে অনতিবিলম্বে ইসরায়েলও পাল্টা আক্রমণ শুরু করে। তারা ফিলিস্তিনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক যুদ্ধ ঘোষণা করেছে। পাল্টা আক্রমণে দেশটি গাজায় মুহুর্মুহু বোমা বর্ষণ করছে। এরই মধ্যে ইসরায়েলি হামলায় ফিলিস্তিনে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৬৯০ জনে দাঁড়িয়েছে। ফিলিস্তিন কর্তৃপক্ষের বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে আল জাজিরা।

এছাড়াও ইসরায়েলের হামলায় বহু সংখ্যক ফিলিস্তিনি আহত হয়েছে বলে জানা গেছে।
রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম ‘টাইমস অব ইসরায়েল’ দাবি করেছে, হামাসের হামলায় এরই মধ্যে ইসরায়েলে নিহতের সংখ্যা ৯০০ ছাড়িয়েছে। সেখানেও বহু সংখ্যক মানুষ আহত হয়েছে।

হামাসের এই আকস্মিক হামলায় বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে ইসরায়েল। বিষয়টি কোনোভাবেই টের পায়নি ইসরায়েল কর্তৃপক্ষ। হামাসের কৌশল বুঝতেই পারেনি তারা।

হামাসের অভিযান শুরু হয় রকেট নিক্ষেপের মধ্য দিয়ে। প্রথমে ইসরায়েলে পাঁচ হাজার রকেট নিক্ষেপ করে গাজাভিত্তিক ফিলিস্তিন প্রতিরোধ সংগঠনটি। তাও আবার মাত্র ২০ মিনিটে। একই সঙ্গে বুলডোজার, গ্লাইডার এবং মোটরবাইক নিয়ে ইসরায়েলের অভ্যন্তরে ঢুকে পড়ে হামাস যোদ্ধারা, যা ছিল নজিরবিহীন। এটি নিঃসন্দেহে ১৯৭৩ সালে আরব-ইসরায়েল যুদ্ধের পর ইসরায়েলের প্রতিরক্ষাব্যবস্থায় সবচেয়ে বড় আঘাত।

বিগত ৫০ বছর আগে সিরিয়া ও মিশর ইসরায়েলে আকস্মিক হামলা চালিয়ে পুরো প্রতিরক্ষাব্যবস্থাকে বিপর্যস্ত করে ফেলেছিল। সেই স্মৃতিই যেন ফিরিয়ে আনলো হামাস।

এদিকে, কোনো কোনো গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, ফিলিস্তিনি প্রতিরোধ যোদ্ধাদের ইসরায়েল বিরোধী চলমান ‘আল-আকসা স্টর্ম’ অভিযানে কিছু ইসরায়েলি সেনা সদস্য গোয়েন্দা তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করেছে। একজন ফিলিস্তিনি কর্মকর্তা এ তথ্য জানিয়েছেন।

ইরানের তাসনিম বার্তা সংস্থার সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে এমন দাবি করেছেন ফিলিস্তিনের প্রতিরোধ আন্দোলনগুলোর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ওই কর্মকর্তা।

তবে ওই সাক্ষাৎকারের বিষয়টি নিরপেক্ষভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। তাছাড়াও অন্য কোনো প্রভাবশালী আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমেও এমন কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।

তাসনিম নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চরম নিরাপত্তা ব্যবস্থা-বেষ্টিত ইসরায়েলে কীভাবে ফিলিস্তিনি যোদ্ধারা এত বড় একটি অভিযান চালাতে সক্ষম হলো তা নিয়ে যখন তেল আবিবের ঘোর কাটছে না, তখন এই চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশিত হলো।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই ফিলিস্তিনি কর্মকর্তা বার্তা সংস্থা তাসনিমকে বলেন, সুনির্দিষ্ট কিছু ইসরায়েলি সেনা সদস্যের সঙ্গে ফিলিস্তিনি প্রতিরোধ সংগঠনগুলোর বহুদিন ধরে সম্পর্ক রয়েছে। ওই সম্পর্কের জের ধরে ইসরায়েলের বহু গোপন ও স্পর্শকাতর তথ্য পেয়ে যাচ্ছিলেন ফিলিস্তিনি যোদ্ধারা।

তিনি বলেন, “আল-আকসা ফ্লাড অভিযানের শুরুতে ইসরায়েলি এলাকাগুলোতে অনুপ্রবেশ করতে বিশেষ করে ইসরায়েলি সেনা ঘাঁটিগুলোতে সহজে ঢুকে পড়তে ওই সব তথ্য অতি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।”

ওই ফিলিস্তিনি কর্মকর্তা বলেন, ইসরায়েলি সেনাদের সহযোগিতা শুধুমাত্র গোয়েন্দা তথ্যের মধ্যে সীমিত ছিল না বরং ফিলিস্তিনিরা দীর্ঘদিন ধরে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর কাছ থেকে তাদের অস্ত্রসস্ত্রের একটি বড় অংশ সংগ্রহ করে আসছিল।

ইসরায়েলের হিব্রু ভাষার বিভিন্ন গণমাধ্যমের বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা তাসনিম জানিয়েছে, ইসরায়েলি সেনাবাহিনীতে বিশেষ করে রিজার্ভ সেনাদের মধ্যে মাদকাসক্তির পরিমাণ বেড়ে গেছে। এ কারণে এসব সেনা মাদক কেনার অর্থ সংগ্রহ করতে বা সরাসরি মাদকের বিনিময়ে ফিলিস্তিনি যোদ্ধাদের কাছে তাদের অস্ত্রসস্ত্র বিক্রি করে দেয়। বিষয়টি ইসরায়েলি সেনা কমান্ডারদের জন্য মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

২০২১ সালের ১৬ ডিসেম্বর ইসরায়েলের ১৩ নম্বর টিভি চ্যানেল খবর দিয়েছিল, এই অবৈধ রাষ্ট্রের আলেক্সান্দ্রনি ব্রিগেডের একটি ঘাঁটি থেকে এম১৬ রাইফেলের এক লাখ গুলি চুরি হয়ে গেছে। পরে ইসরায়েলি পুলিশ জানায় চুরি যাওয়া গুলির সংখ্যা ছিল দেড় লাখ।

গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবরে একথাও জানা গেছে, ফিলিস্তিনি প্রতিরোধ সংগঠনগুলো সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এমন কিছু সমরাস্ত্র ব্যবহার করেছে যা ইসরায়েলি সেনাবাহিনী ব্যবহার করে থাকে। সূত্র: তাসনিম নিউজ এজেন্সি, প্রেসটিভি

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights