সন্তানদের অপহরণের হুমকি দিয়ে বাড়ির দেয়ালে পোস্টার, আতঙ্কে গ্রামবাসী

নিজস্ব প্রতিবেদক, বগুড়া

বগুড়ায় সন্তানদের অপহরণের হুমকি দিয়ে চাঁদা দাবি করে বিভিন্ন বাড়ির দেয়ালে লিফলেট লাগিয়েছে দুর্বৃত্তরা। রবিবার ভোরে এলাকাবাসী বিভিন্ন অংকের চাঁদা দাবি করা লিফলেট তাদের প্রত্যেক বাড়ির দেয়ালে দেখতে পান। বগুড়ার কাহালু উপজেলার মুরইল ইউনিয়নের বিষ্ণুপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটেছে।

ওই গ্রামের বাসিন্দারা জানান, হঠাৎ করেই বাড়ির সামনে এমন হুমকি দেয়া লিফলেট দেখে ভয় পেয়ে যান তারা। এ ঘটনার পর অনেক পরিবারের অভিভাবকরা তাদের সন্তানদের স্কুল-মাদ্রাসায় পাঠাননি। রাতের আঁধারে এমন পোষ্টার লাগানো হয়েছে। এ ঘটনায় পুরো গ্রাম জুড়ে আতঙ্ক বিরাজ করছে।

বিষ্ণুপুর গ্রামের প্রায় ৩শ’ থেকে ৪শ’ ঘরের দেয়ালেই ‘স্যাডো’ বাহিনীর পোস্টার লাগানো দেখা যায়। সেখানে লেখা, ‘আসসালামু আলাইকুম, সর্বনিম্ন ২’শ টাকা থেকে ৫ হাজার টাকা চলতি ৬ অক্টোবর তারিখের মধ্যে দিতে হবে। না হলে ৭ তারিখ থেকে আপনাদের ছেলে-মেয়ে হারিয়ে গেলে আমার কোনো কিছু করার থাকবে না। আমি বা আমরা কে সেটা না খুঁজে আমি যা বলছি সেটা করার চেষ্টা করেন। তাহলে কিছু হবে না। অল্প কিছু টাকার জন্য বাচ্চাদের বিপদে ফেলবেন না। যদি ছেলে মেয়েদের মঙ্গল চান তাহলে লোয়া পুকুরে সোলার লাইট এর সাথে যে বক্স থাকবে নিজের টাকার সাথে নাম কাগজে লিখে ওই বক্সে ফেলবেন আর নিজের বাচ্চাকে সুরক্ষিত রাখুন। আমার এই কাগজ আপনি পড়েছেন, তাহলে মনে করেন আপনার ছেলে মেয়েকে তুলে আনতেও পারবো। দয়া করে টাকাটা দিয়েন আমরা ছেলেগুলা ভালো না। ভালো থাকবেন ৬ তারিখ পর্যন্ত আল্লাহ হাফেজ।’
বিষ্ণুপুর গ্রামের মাঝাগাড়ি পাড়ার পারভেজ মিয়া বলেন, সকালে সবার চিৎকার চেচামেচিতে ঘুম ভেঙে যায়। উঠে দেখি আমাদের পাড়ার সবার বাড়ির দেয়ালে কে বা কারা টাকা চেয়ে পোস্টার লাগিয়ে গেছে। এ নিয়ে আমরা অনেক ভয়ে আছি। তবে যে কাজটি করেছে সে পরিচিত কেউ হতে পারে। কারণ সবার কাছে একই পরিমাণ টাকা চায়নি। সামর্থ্য বুঝে টাকার পরিমাণ উল্লেখ করা হয়েছে। যা সন্দেহজনক।

একই গ্রামের গৃহবধূ আশা খাতুন জানান, আমার কাছে ২’শ টাকা চাওয়া হয়েছে। আমার ছেলেকে আজ আমি স্কুলে যেতে দেইনি। আমরা প্রশাসনের সহযোগিতা চাই।

মুরইল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল জলিল জানান, বিষ্ণুপুর গ্রামের প্রায় ৩’শ থেকে ৪’শ ঘরে একটি চক্র টাকা চেয়ে পোস্টার লাগিয়েছে। আমরা প্রশাসনকে বিষয়টি জানিয়েছি।

বগুড়ার পুলিশ সুপার সুদীপ কুমার চক্রবর্ত্তী বলেন, বিষ্ণুপুর গ্রামের ঘটনা অবগত হওয়া মাত্রই পুলিশের একাধিক টিম কাজ শুরু করেছেন। এ ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights