সন্তানের সোনালি ভবিষ্যতের জন্য কোরআনি দোয়া

মাওলানা সাখাওয়াত উল্লাহ

সন্তান মা-বাবার কাছে আল্লাহর আমানত। তাই মা-বাবার দায়িত্ব হলো সন্তানের সোনালি ভবিষ্যৎ গড়ে তোলা। এ ক্ষেত্রে সর্বাত্মক প্রচেষ্টার পাশাপাশি মহান আল্লাহর কাছে দোয়াও করতে হবে। মা-বাবার দোয়া মহান আল্লাহ কবুল করেন।

হাদিসে এসেছে, আল্লাহর রাসুল মুহাম্মাদ (সা.) বলেছেন, ‘তিন ব্যক্তির দোয়া কবুল হয়, এতে কোনো সন্দেহ নেই। মা-বাবার দোয়া, মুসাফিরের দোয়া ও মজলুমের দোয়া।’ (আবু দাউদ, হাদিস ১৫৩৬; তিরমিজি, হাদিস : ১৯০৫)

সন্তান মানুষ হওয়ার ক্ষেত্রে মা-বাবার দোয়ার বড় ভূমিকা আছে। এ জন্য নবীরা তাদের সন্তানদের জন্য দোয়া করতেন। পবিত্র কোরআনে ইবরাহিম (আ.)-এর একাধিক দোয়ার বিবরণ এসেছে।

দেশ ও বাসস্থানের নিরাপত্তার জন্য দোয়া : ইবরাহিম (আ.) দোয়া করেছিলেন—‘এবং সেই সময়কে স্মরণ করো, যখন ইবরাহিম (দোয়া করে) বলেছিল, হে আমার রব! এ নগরকে শান্তিপূর্ণ বানিয়ে দিন এবং আমাকে ও আমার পুত্রদের মূর্তিপূজা থেকে দূরে রাখুন।’ (সুরা ইবরাহিম, আয়াত : ৩৫)

সন্তান যেন নামাজি হয়—এই মর্মে দোয়া : ইবরাহিম (আ.) দোয়া করেছিলেন—‘হে আমার রব, আমাকে নামাজ কায়েমকারী বানিয়ে দিন এবং আমার সন্তানের মধ্য থেকেও (এমন লোক সৃষ্টি করুন, যারা নামাজ কায়েম করবে)। হে আমার রব, এবং আমার দোয়া কবুল করে নিন।’ (সুরা ইবরাহিম, আয়াত : ৪০)

শয়তানের অনিষ্ট থেকে বাঁচার জন্য দোয়া : মারইয়াম (আ.) ভূমিষ্ঠ হলে তার ও তার ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য তার মা দোয়া করেছিলেন। অতঃপর যখন তার কন্যাসন্তান জন্মগ্রহণ করল তখন সে বলল,… আমি তার নাম রাখলাম মারইয়াম এবং তাকে ও তার বংশধরকে অভিশপ্ত শয়তান থেকে হেফাজতের জন্য তোমার আশ্রয়ে অর্পণ করলাম।’ (সুরা আলে ইমরান, আয়াত : ৩৬)

সন্তানের জন্মের আগ থেকেই দোয়া করা : সন্তান কামনার সময় থেকেই দোয়া করতে হবে। ইয়াহইয়া আলাইহিস সালামের জন্মের আগে জাকারিয়া আলাইহিস সালাম তাঁর জন্য দোয়া করেছিলেন—‘হে আমার রব! আমাকে তোমার পক্ষ থেকে পবিত্র সন্তান দান করো। নিশ্চয়ই তুমি দোয়া শ্রবণকারী।’ (সুরা আলে ইমরান, আয়াত : ৩৮)

সন্তান যেন হয় আল্লাহর সন্তুষ্টিপ্রাপ্ত : জাকারিয়া আলাইহিস সালাম নিজ সন্তানের জন্য দোয়া করেছিলেন—‘হে রব! তাকে এমন বানান যে (আপনার) সন্তুষ্টিপ্রাপ্ত হবে।’ (সুরা মারইয়াম, আয়াত : ৬)

সন্তান যেন হয় সৎ ও মহৎ : ইসমাঈল আলাইহিস সালামের ভূমিষ্ঠের আগে ইবরাহিম (আ.) দোয়া করেছিলেন, ‘হে আমার রব, আমাকে এমন পুত্র দান করুন, যে হবে সেলাকদের একজন।’ (সুরা আস সাফ্ফাত, আয়াত : ১০০)

সন্তান যেন হয় চক্ষুশীতলকারী : সন্তানের জন্য নেক দোয়া করা নেককার মুমিনের একটি বিশেষ বৈশিষ্ট্য। মহান আল্লাহ তাঁর প্রিয় বান্দাদের একটি গুণ বর্ণনা করেছেন যে তারা বলে—‘হে আমাদের রব! আমাদের জন্য এমন স্ত্রী/জোড়া ও সন্তান-সন্ততি দান করুন, যারা হবে আমাদের জন্য নয়নপ্রীতিকর এবং আমাদের করুন মুত্তাকিদের জন্য অনুসরণযোগ্য।’ (সুরা ফুরকান, আয়াত : ৭৪)

সন্তানের সংশোধন ও শোধরানোর জন্য দোয়া : বয়স ৪০ হয়ে গেলে নিজের জন্য, পরিবার-পরিজনের জন্য দোয়া করার বিশেষ তাগিদ আছে। পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহ বলেন—‘আর আমি মানুষকে তার মাতা-পিতার প্রতি সদয় ব্যবহারের নির্দেশ দিয়েছি। তার মা তাকে অতিকষ্টে গর্ভে ধারণ করেছে এবং অতি কষ্টে তাকে প্রসব করেছে। তার গর্ভধারণ ও দুধপান ছাড়ানোর সময় লাগে ৩০ মাস। অবশেষে যখন সে তার শক্তির পূর্ণতায় পৌঁছে এবং ৪০ বছরে উপনীত হয়, তখন সে বলে, ‘হে আমার রব, আমাকে সামর্থ্য দাও, তুমি আমার ওপর ও আমার মাতা-পিতার উপর যে নিয়ামত দান করেছ, তোমার সে নিয়ামতের যেন আমি শোকর আদায় করতে পারি এবং আমি যেন সৎকর্ম করতে পারি, যা তুমি পছন্দ করো। আর আমার জন্য তুমি আমার বংশধরদের মধ্যে সংশোধন করে দাও। নিশ্চয় আমি তোমার কাছে তাওবা করলাম এবং নিশ্চয় আমি মুসলিমদের অন্তর্ভুক্ত।’ (সুরা আহকাফ, আয়াত : ১৫)

মহান আল্লাহ আমাদের সন্তানদের দুনিয়া ও আখিরাতে কল্যাণকর চক্ষুশীতলকারী বানিয়ে দিন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights