সন্ত্রাসীদের গ্রেফতারের দাবিতে বরিশালে মহাসড়ক অবরোধ
নিজস্ব প্রতিবেদক, বরিশাল
বরিশাল নগরীর নবগ্রাম রোডে যুবক দ্বীন ইসলাম খান ওরফে মুন্নার (২১) ওপর হামলা ও তার হাত বিচ্ছিন্ন করার ঘটনার প্রতিবাদে এবং অভিযুক্তদের দ্রুত গ্রেফতারের দাবিতে মানববন্ধন ও মহাসড়ক অবরোধ করেছেন এলাকাবাসী।
বৃহস্পতিবার (৪ জুন) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে নগরীর চৌমাথা এলাকায় মানববন্ধন শেষে বিক্ষুব্ধ জনতা প্রায় এক ঘণ্টা মহাসড়ক অবরোধ করে রাখেন। এতে সড়কে যান চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি হয়। পরে পুলিশের আশ্বাসে অবরোধ প্রত্যাহার করেন তারা।
এসময় কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আল মামুনুল ইসলাম বলেন, আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে মামলার আসামিদের গ্রেফতারের চেষ্টা করা হবে।
সমাবেশে বক্তারা বলেন, সামান্য বিরোধের জেরে একজন যুবকের হাত বিচ্ছিন্ন করার মতো নৃশংস ঘটনা নগরীর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। তারা নগরীতে মাদকের বিস্তার, কিশোর গ্যাংয়ের দৌরাত্ম্য এবং সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড বন্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান। মানববন্ধনে চৌমাথা এলাকার বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ, মুন্নার সহপাঠীসহ প্রায় তিন শতাধিক নারী-পুরুষ অংশ নেন।
জানা গেছে, গত ১ জুন সকালে নবগ্রাম রোডের ললিত দাসপোল এলাকায় নির্মাণসামগ্রীর বালু রাখা নিয়ে পূর্বের বিরোধের জেরে মুন্নার ওপর হামলার ঘটনা ঘটে।
অভিযোগ রয়েছে, প্রতিপক্ষের লোকজন ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে গুরুতর আহত করে।
পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। অবস্থার অবনতি হলে তাকে ঢাকার জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠান (নিটোর)-এ স্থানান্তর করা হয়।
এ ঘটনায় আহত মুন্নার মা কুলসুম বেগম বাদী হয়ে কোতোয়ালি মডেল থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন। মামলায় মিলন খান, রানা খান, হিমেল, কালাম খান ও নার্গিস বেগমসহ কয়েকজনকে আসামি করা হয়েছে। ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ, মামলা দায়েরের পরও অভিযুক্তরা প্রকাশ্যে ঘোরাফেরা করছে এবং বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি ও হুমকি দিচ্ছে।
এদিকে ঘটনার পর বরিশাল মহানগর বিএনপিও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। দলের নেতারা বলেছেন, কোনো সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে বিএনপির কোনো নেতাকর্মীর সম্পৃক্ততা প্রমাণিত হলে তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে তারা মাদক, সন্ত্রাস ও কিশোর গ্যাংয়ের বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানান।
