সবাইকে শ্বাসরোধে হত্যা, ধর্ষণের আলামত পাওয়া যায়নি: সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ

নিজস্ব প্রতিবেদক, রংপুর :

ময়নাতদন্তে রংপুর জিলা স্কুলের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তীসহ তার পরিবারের চার সদস্যকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করার প্রমাণ মিলেছে বলে জানিয়েছেন রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ আবদুল মাবুদ।

বৃহস্পতিবার সকালে রংপুর মেট্রোপলিটন সদর দপ্তর মিলনায়তনে তিনি সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ‘মাদকসেবনে বাধা দেয়ায় পরিবারের প্রত্যেককে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেছে মুগ্ধ দাস ও সিদ্ধার্থ দাস। ময়নাতদন্তে ধর্ষণের কোনো আলামত পাওয়া যায়নি।’

হত্যাকাণ্ডের পর মুগ্ধ দাস দখিগঞ্জ শ্মশানে আশ্রয় নিয়েছিলে বলে আদালতে জবানবন্দী দিয়েছেন পাহারাদার বিদ্যুৎ দাস। এদিকে, হত্যাকাণ্ডে অপর অভিযুক্ত সিদ্ধার্থ দাসের পরিবারের কাছ থেকে জমি কিনে গণপতি চক্রবর্তী বাড়ি করায় তাদের পরিবারের সদস্যদের মাঝে জমি বিক্রির টাকা ভাগাভাগি নিয়ে ক্ষোভ থাকার বিষয়টি খতিয়ে দেখছে পুলিশ।

পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ আবদুল মাবুদ বলেন, ময়নাতদন্তের রিপোর্টে চারজনকে শ্বাসরোধ করে হত্যার বিষয়টি প্রমাণিত হয়েছে। নারী ভিকটিমদের ভ্যাজাইনাল সোয়াব নেয়া হয়েছিল। সেখানে ধর্ষণের কোনো আলামত পাওয়া যায়নি। শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হলে মানুষের বীর্য ও মলমূত্র বের হয়ে আসে। আমরা দেখেছি একজন ডোম বলেছিলেন, বীর্য পাওয়া গেছে। আসলে ওই বীর্য ছিল ডেডবডির।

তিনি আরও বলেন, দখিগঞ্জ শ্মশানের কেয়ারটেকার ছিলেন বিদ্যুৎ দাস। তিনি আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী দিয়েছিলেন যে, মুগ্ধ দাস তার কাছে গিয়ে বলেন দাদা আমাকে পানি দাও, আমি ও সিদ্ধার্থ স্যারসহ ৪ জনকে হত্যা করেছি। এছাড়া সিদ্ধার্থের পূর্ব পুরুষদের কাছ থেকে গণপতি চক্রবর্তী জমি কিনেছিলেন।

শোনা গেছে, সেটি বেশি মূল্যে কেনার বিষয়টি তাদের বংশের অনেকে ভালোভাবে নেয়নি। এছাড়া টাকা ভাগাভাগির বিষয়টি আনুপাতিক হারে হয়নি। এ নিয়ে ক্ষোভ থাকতে পারে। বিষয়টি আমরা খতিয়ে দেখছি, বলেও জানান পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ আবদুল মাবুদ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights