সমস্যা হরেক সমাধান নেই!

রেজা মুজাম্মেল, চট্টগ্রাম

চট্টগ্রাম বিভাগের ১১ জেলার প্রায় ৪ কোটি মানুষের স্বাস্থ্যসেবার অন্যতম ভরসাস্থল চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতাল। কিন্তু এর আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে আছে সমস্যা আর সংকট। বিদ্যুৎ গেলে বন্ধ হয়ে যায় চিকিৎসাকার্যক্রম। শয্যাসংকটে রোগী রাখা হয় মেঝে ও বারান্দায়। অনেক ওয়ার্ডে ফ্যান থাকলেও নষ্ট। সংকট তৃতীয়-চতুর্থ শ্রেণি কর্মচারীর। ফলে অন্তহীন দুর্ভোগ মাড়িয়ে সেবা নিতে হয় রোগীদের।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, শনিবার সকাল পৌনে ৯টায় বিদ্যুৎ চলে গিয়ে আসে সোয়া ১১টায়। জেনারেটর থাকলেও সেটি দিয়ে রোগ নির্ণয়ের বড় মেশিনগুলো চালানো সম্ভব হয়নি। বন্ধ রাখা হয় আলট্রাসনোগ্রাফি মেশিন। রেডিওলজি ও ইমেজিং বিভাগে ছয়টি এক্স-রে মেশিন আছে। বিদ্যুৎ না থাকায় সেগুলো বন্ধ ছিল। ব্যাহত হয় টিকিট কাউন্টারের স্বাভাবিক কার্যক্রম। বন্ধ থাকে বিদ্যুৎনির্ভর বিভিন্ন যন্ত্রপাতি। এদিকে ছয় তলার পুরোনো ভবন, ১০ তলার প্রশাসনিক ও কার্ডিয়াক সার্জারি ভবন মিলে প্রায় ১৮টি লিফট আছে। অধিকাংশই পুরোনো। ফলে কিছু কখনো সচল, কখনো অচল, কখনো টানা অনেক দিন নষ্ট পড়ে থাকে। সচল লিফটের থাকে ধীরগতি, কখনো কারিগরি ত্রুটির কারণে মাঝপথে বন্ধ হয়ে যায়। লিফটম্যান না থাকায় ভয় সব সময় কাজ করে। ৫ আগস্ট দুপুরে ৮৩-৮৪ ওয়ার্ডে যাওয়ার সময় কার্ডিয়াক সার্জারি ভবনের নিচতলাতেই লিফটে আটকে যান তিন চিকিৎসক, নার্স, রোগী, স্বজন মিলে ২০ জন। ১৫ মিনিট আটকে থাকার পর কোনোভাবে অর্ধেক দরজা খুলে সবাই বের হন। কার্ডিয়াক সার্জারি ভবনের লিফটে এমন ঘটনা নিত্যদিনের। তা ছাড়া হাসপাতালের টয়লেট এবং অভ্যন্তরীণ পরিবেশ নোংরা ও অস্বাস্থ্যকর থাকে বেশির ভাগ সময়। হাসপাতালে বর্তমান শয্যাসংখ্যা ২ হাজার ২০০। কিন্তু প্রতিনিয়তই রোগী ভর্তি থাকে ৩ হাজার থেকে সাড়ে ৩ হাজার। রেডিওলজি বিভাগের অধিকাংশ যন্ত্রের অবস্থাই নাজুক। টেস্ট করাতে গেলেই কমন উত্তর-মেশিন নষ্ট। আর জরুরি বিভাগের হুইলচেয়ার ও ট্রলিবাণিজ্য তো চলে প্রকাশ্যেই। আয়া-ওয়ার্ডবয়দের টাকা না দিলে মেলে না ওয়ার্ডের শয্যা। চমেক হাসপাতালের অজ্ঞাত রোগীর বন্ধুখ্যাত প্রকৌশলী সাইফুল ইসলাম নেসার বলেন, ‘উন্নত চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থাপনা ও আধুনিক সেবা সিস্টেম চালু করা জরুরি। বিদ্যুতের জন্য চিকিৎসা বন্ধ থাকবে এটি মোটেই কাম্য নয়।’ চমেক হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ তসলিম উদ্দিন বলেন, ‘শনিবার বিদ্যুৎবিভ্রাটের বিষয়টি তারা আগেই জানিয়েছিল। এ ব্যাপারে আমাদের প্রস্তুতিও ছিল। তাই অগ্রাধিকার ভিত্তিতে আইসিইউ, পিআইসিইউ, শিশু, গাইনি ওয়ার্ডে জেনারেটর সার্ভিস দেওয়া হয়। কিছু সময় হয়তো বড় পরীক্ষা বন্ধ ছিল। কিন্তু পরে তা স্বাভাবিক করা হয়। তা ছাড়া লিফটগুলো গণপূর্ত বিভাগ তদারকি করে। নষ্ট লিফট সচল করার বিষয়ে তাদের বলা হয়েছে।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Verified by MonsterInsights